আজ মঙ্গলবার, ৩ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ১৬ জানুয়ারী ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : না.গঞ্জে আইভী-শামীম সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত অর্ধশত       স্বামী হত্যায় স্ত্রীসহ তিন জনের ফাঁসির রায়       গোপালগঞ্জে আরমানুলের তৈরি এয়ারপ্লেন আকাশে       ডিএনসিসি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট, আদেশ কাল       সরকারের আশ্বাসে অনশন ‌ভাঙলেন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী শিক্ষকরা       প্রণব মুখার্জিকে ডি-লিট ডিগ্রি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের       একনেকে ১৮৪৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৪ প্রকল্প অনুমোদন      
রহস্যময় সেই তুষার মানবের বিস্ময়কর বাস্তব তথ্য !
Published : Monday, 9 January, 2017 at 4:56 PM, Count : 136
রহস্যময় সেই তুষার মানবের বিস্ময়কর বাস্তব তথ্য !ভোরের ডাক ডেস্কঃ  পৃথিবীতে অসংখ্য প্রাণি আছে। কোন কোন প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে কালের বিবর্তনে কোনটি আবার বিলুপ্তির পথে। আর কিছু কিছু কিছু প্রাণি আজও মানুষের আলোচনায় আছে শুধুমাত্র ‘রহস্য’ হয়ে। প্রকৃত পক্ষেই এদের কোন অস্তিত্ব আছে কিনা কিংবা কোন কালে অদৌ ছিলো কিনা সেই রহস্যের মিমাংসা হয়তো কখনোই করা সম্ভব হবে না তারপরও এদের নিয়ে আলোচনা চলবে চলবে গবেষণাও ।

এমনি একটি রহস্যময় প্রাণি হচ্ছে ইয়েতি। ‘ইয়েতি’ নামটা এসেছে তিব্বতি ভাষা থেকে । এর বাংলা করলে অনেকটা হয় ‘পাথুরে ভল্লুক’ !
হিমালয়ের মানুষরা বলে ইয়েতিরা নাকি সারাক্ষণ বিশাল একটা পাথর নিয়ে ঘুরে বেড়াতো, আত্মরক্ষা নয়তো শিকার করার জন্য । আর শিস দেয়ার মতো এক রকম শব্দ করতো। আর ওই পাথর নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্যই হয়তো ওদের নাম দিয়েছিলো পাথুরে ভল্লুক বা ইয়েতি।

ওদের এই ‘ইয়েতি’ নামটা জনপ্রিয় হয়ে গেলেও ওদের কিন্তু আরো অনেকগুলো মজার মজার নাম আছে। এই যেমন, ‘মেহ-তেহ’, মানে হলো মানুষ-ভল্লুক ! আবার ‘মি-গো’, মানে বনমানুষ ! তারপর ‘ক্যাং আদমি’ বা তুষারমানব, ‘জোব্রান’ বা মানুষখেকো। আর উত্তর আমেরিকার মানুষের কাছে এসব প্রাণি বিগফুট অথবা সাসকোয়াচ নামে পরিচিত।

হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত তিব্বত, নেপাল ও ভুটান রাজ্যে সরকারী ভাবে ইয়েতি বা তুষারমানবের অস্তিত্ব স্বীকৃত। তিব্বত ও ভুটান অঞ্চলে তুষারমানবের নাম ‘মেলোখাংসাই’। সেখানকার মানুষ বিশ্বাস করে ইয়েতি সত্যিই আছে পৃথিবীতে

শত শত বছর ধরে হিমালয়বাসীদের মুখে মুখে চাউর হয়ে আসছে ভয়ানক এই প্রাণির নাম। কিংবদন্তি পর্বতারোহী রেইনহোল্ড মেসনারসহ কয়েকজন বিশ্ববিখ্যাত পর্বতারোহীও একবার বড় বড় চুলের বানর জাতীয় এ প্রাণির মুখোমুখি হয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন। তাদের দাবি, ভাগ্যের জোরে ইয়েতির মুখ থেকে বেঁচেছেন তারা। এই অধরা প্রাণি নিয়ে অনেক কল্পকথা তৈরি করেছেন হিমালয়বাসীরা। সমতলের মানুষের কাছে ইয়েতির বিশ্বাসযোগ্য খবর প্রথম পৌছায় ১৮৩২ খ্রিষ্টাব্দে ।

নেপালের প্রথম ব্রিটিশ রেসিডেন্ট বি.এইচ. হডসন হিমালয় অঞ্চলের অজ্ঞাত এক প্রাণির বর্ণনা দিলেন যে এটি নাকি মানুষের মতো সোজা হয়ে হাঁটে, সারা শরীর লম্বা চুলে ঢাকা এবং কোন লেজ নেই। মি. হডসনের বিবরণ তখন খুব একটা সারা ফেলতে পারেনি ।

কিন্তু উনবিংশ শতাব্দির গোড়ার দিকে ইয়েতি সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে। ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে একদল চৈনিক শিকারী জানায় তারা হিমালয়ের তুষারাচ্ছাদিত অঞ্চলে বানরের কদাকার থ্যাবড়া মুখাকৃতি, সারা শরীরে কয়েক ইঞ্চি লম্বা রূপালী হলদে চুল, মানুষের মতো হাঁটাচলা করে এবং অসাধারণ শক্তিশালী প্রাণিকে প্রত্যক্ষ করেছে।

১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে কর্ণেল সি.কে হাওয়ার্ড বেরী এর অধিনায়কত্বে তিব্বতের মধ্য দিয়ে এভারেষ্ট অভিযানকালে কর্ণেল সঙ্গীদের নিয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় বিশ হাজার ফুট উপরে খারতা হিমবাহের কাছাকাছি কয়েকটি বিশাল আকৃতির মানুষের পায়ের ছাপের মতো পদচিহ্ন দেখতে পান।

১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে এভারেষ্ট অভিযাত্রী ব্রিটিশ মেজর আলান ক্যামেরন হিমালয়ের হিমরেখার উর্ধ্বে খাড়াই শৈল প্রাচীরের গা ঘেসে সঙ্কীর্ণ পথে সারিবদ্ধ মানবাকৃতি প্রাণির একটা দলকে মন্থর গতিতে চলতে দেখেছিলেন।

১৯২৫ সালে আলোকচিত্রী ও রয়্যাল জিওগ্রাফিকাল সোসাইটির সদস্য এন এ তোশবাজি একটি ছবি প্রকাশ করেন । ওই ছবিতে স্পষ্টভাবে দেখা যায় মানুষের আকৃতির একজন ঋজু হয়ে হাঁটছে। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তুষারের বিপরীতে তাকে কালো দেখাচ্ছিল এবং যতোটুকু আমি দেখতে পেয়েছি, তার শরীরে কোনো কাপড় ছিল না।’ 

১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ অভিযাত্রী ফ্রাঙ্ক স্মিদি তিব্বত গিয়ে ১৪ হাজার ফুট উঁচুতে এই প্রাণির অতিকায় পদচিহ্ন দেখতে পেয়েছিলেন ।

১৯৫১ সালে মাউন্ট এভারেস্টে একজন পর্বতারোহী বরফের গায়ে বিশালাকৃতির কিছু পায়ের ছাপের ছবি প্রকাশ করেন । সে সময় এসব ছবি সারাবিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। এরপর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এমন অদ্ভুত প্রাণির প্রত্যক্ষদর্শীদের নানা দাবি গণমাধ্যমে আসতে থাকে ।

১৯৫৪ সালের দিকে এক লোক তো ইয়েতির গায়ের লোমই নিয়ে চলে আসলো । আর সেই লোম বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখেন ওটা কোনো ভল্লুকের লোম তো নয়ই, অন্য কোনো পরিচিত প্রাণীর লোমও নয় !

প্রচলিত আছে মহামতি আলেকজ্যান্ডার ৩২৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিন্ধু উপত্যকা জয়ের জন্য ইয়েতি সংগ্রহ করতে লালায়িত ছিলেন। শোনা যায়, স্যার অ্যাডমন্ড হিলারি ও তেনজিং নরগেও দাবি করেন মাউন্ট এভারেস্টে চড়ার সময় তারা বড় বড় পায়ের ছাপ দেখতে পেয়েছেন ।
এরপর হিলারি নাকি ওই প্রাণির সন্ধানে এভারেস্টে আরেকবার অভিযান চালান। তার দাবি তার বাবাও ওই প্রাণিকে দেখেছিলেন ।

তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট!


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি