আজ বুধবার, ১৩ বৈশাখ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৬ এপ্রিল ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : বলিউড অভিনেতা ওম পুরি প্রতিশোধ নিতে ‘ভূত’ হয়ে ঘুরছে!       জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের কার্যক্রমগুলি প্রশংসনীয় : রাষ্ট্রপতি       ঢাকায় ৩ দিনব্যাপী মৎস্যচাষ বিষয়ক কাউন্সিল       ই-মেইল বার্তায় অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশন বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়ার হুমকি       মাহির মামলায় নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে অব্যাহতি পেলেন শাওন       জব্বারের বলি খেলায় চ্যাম্পিয়ান দিদার বলী       বাংলাদেশ থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে সব সম্পদ বিক্রি করছে শেভরন      
খুশি করান........
Published : Wednesday, 11 January, 2017 at 9:15 PM, Count : 41
গ্রামের মানুষ কামাল (ছদ্মনাম)। সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। স¦চ্ছল পরিবারে বেড়ে ওঠার কারণে কোনো ধরণের অভাবের সম্মুখীন হননি। অমনোযোগী স্বভাবের হলেও লেখাপড়া কিছুটা শিখেছিলেন। এলাকায় ’শিক্ষিত ব্যক্তি’ নামেও পরিচিত। তবে অন্যের অধীনে কাজ করার মানসিকতা না থাকায় চাকুরি পেয়েও যোগদান করেননি।
বছরখানেক যাবৎ হৃদরোগে ভুগছেন কামাল। নিজ জেলা শহরে ডাক্তার দেখিয়েছেন। ডাক্তার উন্নত চিকিৎসা নেওয়ার জন্য ঢাকায় যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সেনুযায়ী কামাল ঢাকার একটি নামকরা চিকিৎসালয়ে চিকিৎসাগ্রহনের জন্য এসেছেন। নিয়মানুযায়ী ডাক্তার দেখিয়েছেন এবং তাঁদের সকল পরামর্শ  মেনে চলেছেন। কিন্তু মানতে পারছেন না সেবা দেওয়া একটা গ্রুপের কথা। অনেকখানি বুঝতেও কষ্ট হচ্ছে তাদের কথা। কাজ শেষ হলে কথায় কথায় একটি বাক্যই উচ্চারণ করে চলেছে এই শ্রেনীটি। কথাগুলো খুব সহজ হলেও গ্রাম থেকে আসা কামালের কাছে অস্পষ্ট লাগছিল। ‘আমাকে খুশি’ করান আবার জায়গাভেদে আমাদেরকে ’খুশি করান’ বাক্যটি। গ্রামে খুশি করানো বলতে একদিন দাওয়াত দিয়ে খাওয়ানো বা বিশেষ কাজ করে দেওয়াকে বুঝায়। কিন্তু কামাল বুঝতে পারছেন না বিষয়টা। কিভাবে তিনি খুশি করাবেন। এক আত্মীয়ের সহায়তায় এই বিড়ম্বনা থেকে রেহাই পান কামাল। এখানে খুশি করানো বলতে টাকাকে বুঝানো হয়। কিন্তু কি পরিমাণ টাকা দিলে তারা খুশি হয় তা জানা নাই কামালের।  অপারেশন থিয়েটার থেকে বের করানোর সময় ট্রলিতে করে যারা বেডে নামিয়ে দিয়ে যান তাদেরকে অল্প কিছু টাকা দিলে তারা খুশির বদলে অখুশিই হন। পরে খুশির মাত্রায় একটা এ্যামাউন্ট পাওয়ার পরে হাসতে হাসতে বেডে রেখে গেল কামালকে। কামাল ভেবেছিলেন খুশি করানো গ্রুপটি হয়তো শুধু ট্রলির মাধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু কিচুক্ষণ যেতেই তিনি বুঝলেন তার ধারণাটি ভুল। ভুলটি ভাঙালেন ওই রুমে কর্তব্যরত নার্স যখন তিনি দ্বিতীয় বারের মত ওই শব্দটা শুনলেন। নার্সরা অপারেশনের জায়গা ড্রেসিংয়ের পরে আবারোও সেই বাক্য আমকে ’খুশি করান’। রাতে পাশে আত্মীয় না থাকার কারণে অস্স্থু রোগী অন্যের সহায়তা নিয়ে গিয়েছিলেন টয়লেটে। সাহায্যকারী ব্যক্তি আর কেউ নন ওই রুমের সরকার কৃর্তক নিয়োগকৃত আয়া। একদিনের অবস্থানের ওই কক্ষটি তিনি কয়েকবার পরিস্কার করেছিলেন। আসার সময় তিনিও ওই একই বাক্য শোনালেন। কিন্তু দিতে দেরি হওয়ায় শুনতে হলো কিছু বিব্রতকর শব্দ (এত টাকার সমস্য দেখান বাড়িতে বসেই চিকিৎসা নিতেন, হাসপাতালে আসছেন কেন?)। কামাল সাহেব ভাবছিলেন বাক্যটা বোধ হয় আর শোনা লাগবে না কিন্তু না, ওই কক্ষ থেকে বের হওয়ার সাথে সাথেই দায়িত্বরত আনসাররা উচ্চারণ করলেন চলে যাচ্ছেন? আমাদের একটু......।  আরও কয়েকটি পর্যায় আছে যা বলার প্রয়োজন মনে করছি না। এভাবে অপারেশন থিয়েটার থেকে শুরু করে নিচে রিকশায় ওঠা পর্যন্ত এই ’খুশি করান’ গ্রুপটা বিরাজমান। হসপিটালে মাত্র একদিনের অবস্থানে এমন আবস্থার সম্মুখীন হতে হয়েছে কামালকে।
চিকিৎসা খরচ মেটানোর জন্য আনা নির্দিষ্ট পরিমান টাকার একটা অংশ দিতে হয় এই ’খুশি করানো গ্রুপকে’। বিষয়টা এমন তাদের বরাদ্দ আগেই জোগাতে হবে।
কিন্তু এই গ্রুপ তো সরকার কর্তৃক নিয়োগ করা। সরকারের সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করার পরেও তাঁরা খুশি করানোর নামে চিকিৎসার জন্য আসা অসহায় মানুষের পকেট কাটেন। রাষ্ট্রের সেবাখাতের কর্মচারীরা অসহায় রোগীদের কাছ থেকে খুশি করানোর নামে অতিরিক্ত যে অর্থ আদায় করেন এটাকে কোন কাতারে ফেলা যাবে তা আমর বোধগম্য নাহে।
‘খুশি করানো’ নিয়ে একটা আরও একটি বাস্তব অবিজ্ঞতা শেয়ার করতে চাই (স্বেচ্ছায় রক্ত দিতে যেয়ে স্বচক্ষে দেখা আমার বন্ধু থেকে শুনছি), ‘ মহাখালি বক্ষব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গ্রাম থেকে এক রোগী আসছেন। সাথে পরিবারের দুই সদস্য। রোগীই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এত বেশি গরীব যে রোগীর সাথে আসা অপর দুইজন খাওয়ার জন্য রাস্তার ধারে বস্তীর মানুষের মত রান্না করে খান। রাত কাটান হাসপাতালের বারন্দায় অথবা রাস্তার ধারে। দীর্ঘ আড়াই মাস যাবৎ চিকিৎসা নিতে হয়েছিল তাদের। এই সময়ে খুশি করানো শব্দটির সম্মুখীন হতে হয়েছে অনেকবার।
 জরুরী প্রয়োজনে রাতে রোগীর রক্ত দরকার। পরিচিত থাকায় রক্তটা ফ্রি পেলেও বাধসাধে অন্য জায়গায়। এক ব্যাগ রক্ত নেওয়ার পর ব্লাড ট্রান্সমিশন করার জন্য একটা নির্দিষ্ট ফি পরিশোধ করার পরেও খুশি করানো গ্রুপের ভাষ্য ‘শুধু ফি দিলেই কি চলবে’! এত রাতে আপনার জন্য কাজটি করলাম আমাকে খুশি করাবেন না। বলা বাহুল্য এই কাজের জন্যই তো সরকার তাকে নিয়োগ দিয়েছেন কিন্তু খুশি শব্দটা কেন আসবে। তবুও নিরুপায় হয়ে তাদের খুশি করাতে হলো এই পরিবারকে। খুশির পরিমাণটাও বেশি ছিল না বলে কিছু কথা শোনাও লাগলো পরিবারকে। কিছু কথা আমি বলেছিলাম কিন্তু কাজে আসেনি। এরকম দৃশ্য বেশিরভাগ হাসপাতালে বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালে হরহামেশা ঘটছে। সেবা খাতে কর্মরত কর্মচারীরা যদি খুশি করানোর নামে এভাবে রোগীদের অখুশি করে তাহলে খুশি করাবে কারা? আমরা কবে এই খুশি করানো গন্ডি থেকে বের হতে পারবো? গ্রাম থেকে আসা অসহায় রোগীরা কী খুশি করানো গ্রুপের হাত থেকে রেহাই পাবে?
সুউচ্চ প্রাসাদ সদৃশ স্বচ্ছ কাঁচে ঘেরা ভবনের সবকিছু দেখা গেলেও দেখা যায়না কেবল এই অসহায় মানুষের আত্মিক আহাজারি-আর্তনাদ। সবকিছু নিরবে সহ্য করাই যেন তাদের নিয়তি। কিন্তু প্রশ্নটা রয়েই গেল-এর থেকে কি পরিত্রাণ মিলবে না?
 মো. তৌহিদুজ্জামান শিক্ষার্থী, এসএম হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।    



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি