আজ বৃহস্পতিবার, ৬ মাঘ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ, ১৯ জানুয়ারী ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : ভারতে সড়ক দূর্ঘটনায় ১৫ স্কুল শিক্ষার্থী নিহত       ব্লগার অভিজিৎ হত্যা: ২২ ফেব্রুয়ারি মামলার প্রতিবেদন দাখিল       ২০১৬ সাল ছিল ১০০ বছরের মধ্যে উষ্ণতম বছর       আজ সুপ্রিমকোর্টের বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ       মিয়ানমারে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপের আহ্বান ওআইসির       চীন-ভারতের যুদ্ধ শুরু হলে ৪৮ ঘণ্টায় দিল্লি পৌঁছাবে চীনা সৈনিকরা        অস্ট্রেলিয়া পাচ্ছে প্রথম আদিবাসী মন্ত্রী      
বাংলাদেশের মাটিতে জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের স্থান হবে না
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
Published : Wednesday, 11 January, 2017 at 9:11 PM, Count : 13
বাংলাদেশের মাটিতে জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের স্থান হবে নাবিশেষ প্রতিনিধি  : প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশের মাটিতে জঙ্গিদের স্থান হবে না। বাংলাদেশের মাটিতে  সন্ত্রাসীদের কোনো স্থান হবে না। ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি-জামায়াত জোট  জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের উসকে দিয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধী হিসেবে যাদের বিরুদ্ধে ফাঁসি কার্যকর হয়েছেÑ তারা ২০০১ সালে বিএনপির মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া জাতির জন্য এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসীদের উসকানিদাতাদেরও একদিন গণআদালতে বিচার হবে উল্লেখ করে তিনি অভিভাবক, শিক্ষক, ধর্মগুরুসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার উদাত্ত আহ্বান জানান শেখ হাসিনা বলেন, কেউ যেন জঙ্গি ও সন্ত্রাসের পথে না যায়- সে দিকে সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং বাংলাদেশের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে যার যার ধর্ম পালন করবে।
গতকাল মঙ্গলবার ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বীরোচিত স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় সভাপতির ভাষণে শেখ হাসিনা এ আহ্বান জানান।
১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাক বাহিনীর বন্দিশিবির থেকে মুক্তি পেয়ে এই সোহরাওয়ার্দী (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) উদ্যানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বীরোচিত স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু যদি বেঁচে থাকতেনÑ তাহলে ২৫-৩০ বছর আগেই বাংলাদেশ একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হতো। কিন্তু ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলনের মহানায়ক ও অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মধ্যদিয়ে দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাসহ সব কিছু ব্যাহত করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্যদিয়ে হত্যা, ক্যু এবং ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু হয়। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর যারাই ক্ষমতায় এসেছে      তারা শুধু ক্ষমতাকে নিজের জন্যই ভোগ করেছেন, বাংলার মানুষের মুক্তি ও উন্নয়নের জন্য কিছু করেননি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ হাতে নিয়ে জাতির পিতার সময় দেশের প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশে উঠেছিল এবং দেশ যখন সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছিলÑঠিক তখন স্বাধীনতা বিরোধী চক্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে স্তব্ধ করে দেয়। স্বাধীনতার ইতিহাসকে বিকৃত করে ইতিহাসের চাকাকে পেছনের দিকে ঠেলে দিতে উদ্যত হয়।
প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের শাসনামলের সমালোচনা করে বলেন, সংবিধান লঙ্ঘন করে জেনারেল জিয়া মার্শাল ‘ল’ জারি করে ক্ষমতায় আসেন এবং সারা রাত কারফিউ জারি করে দেশ পরিচালনা করেনÑঅথচ আজ সেই জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপির মুখ থেকেই গণতন্ত্রের সবক শুনতে হবে আমাদের এটা কাম্য নয়।
শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরো বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জাতীয় সংসদের উপনেতা সাজেদা চৌধুরী, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম প্রমুখ।
বেলা আড়াইটায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জনসভার কার্যক্রমের সূচনা করেন। শেখ হাসিনা সাড়ে ৩টার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সভা মঞ্চে উপস্থিত হন। বেলা ১টা থেকেই ঢাকা ও এর আশপাশের জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষের মিছিল ঢোল-বাদ্য বাজিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের জনসভাকে বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত করে। আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুব মহিলা লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সবুজ ক্যাপ ও লাল গেঞ্জি পরে ‘জয় বাংলা’ ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ ‘শখ হাসিনার সরকার-বার বার দরকার’ স্লোগান দিয়ে জনসমাবেশে যোগ দেয়।
প্রায় আধ ঘণ্টার ভাষণে শেখ হাসিনা জিয়াউর রহমান ছাড়াও বিএনপির  চেয়ারপারসন  খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে বলেন, ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থেকে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আওয়ামী লীগের ১৯৯৬ থেকে ২০০১-এর সব অর্জন ব্যাহত করেছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যে বিদ্যুৎ ৪ হাজার ৩০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করে রেখে এসেছিল, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার তা ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াটে নামিয়ে দেয়। আওয়ামী লীগ সরকার সাক্ষরতার হার শতকরা ৬৫ ভাগে উন্নীত করলেও বিএনপি-জামায়াত জোট তা নামিয়ে ৪৫ ভাগে এনে দাঁড় করায়। আওয়ামী লীগ সরকার খাদ্যে উদ্বৃত্ত দেশ রেখে এলেও বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার দেশকে খাদ্য ঘাটতির দেশে পরিণত করে।  শেখ হাসিনা ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের নামে পেট্রলবোমা দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যার কঠোর  সমালোচনা ও নিন্দা জানিয়ে বলেন, খালেদা জিয়া একেক সময় আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে নির্বাচন ব্যাহত করতে চাইলেও তাতেও তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।
শেখ হাসিনা তার ভাষণে বলেন, দেশের মানুষ যখন শান্তিতে থাকেÑতখন একজন মানুষ অশান্তিতে থাকেন, তিনি হচ্ছেন খালেদা জিয়া। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ এখন উন্নয়ন ও শান্তি চায়Ñআর হানাহানি ও সংঘাত-সংঘর্ষ চায় না। শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ জাতির পিতার স্বপ্নপূরণে দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ এবং সে লক্ষ্য নিয়ে রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে এবং ২০২০ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী পালন করে বাংলাদেশকে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় পরিণত করবে ইনশাল্লা।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি