আজ সোমবার, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৯ মে ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : তীব্র সমালোচনায় ‘আল্লাহ মেহেরবান’ গানটি : ইউটিউব থেকে সরানোর লিগ্যাল নোটিশ       ইরাকে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ৩       ওলামা-মাশায়েখদের ও এতিমদের সম্মানে খালেদার ইফতার আয়োজন       জামিন পেল জাবির ৪২ শিক্ষার্থী       মঙ্গলবার শুরু সংসদের বাজেট অধিবেশন , পেশ ১ জুন       প্রথম রোজায় চকবাজারে জমজমাট ইফতারি       টাইগারদের কাছে সেই হার আজও পোড়ায় শচীনকে      
মস্কোর উত্থান-পতন ও পুনরুত্থান
Published : Wednesday, 11 January, 2017 at 12:00 AM, Update: 11.01.2017 9:14:49 AM, Count : 52
মাহবুব আলম
মস্কোর উত্থান-পতন ও পুনরুত্থান১৯১৭ সালে রুশ বিপ্লবের মধ্য দিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে মস্কোর অন্যরকম উত্থান ঘটে। ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের সময় তখন রাশিয়া ছিল তুলনা মূলক অনুন্নত ও পিছিয়ে পড়া কৃষি প্রধান একটি দেশ। বিপ্লবের মাত্র তিন দশকের মধ্যে ভারি শিল্প গড়ে ওঠে দেশটিতে। ১৯২৮ সালে প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা চালু হবার পর মস্কোর অর্থনীতির চাকা দ্রুত ঘুরতে শুরু করে।
উল্লেখ্য পৃথিবীর ইতিহাসের ওটাই ছিল প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা। ওই সময়ে কৃষিতে দ্রুত শিল্পায়ন হয়। মার্কিন পি ত রাবার্ট ডাব্লিউ ক্যাম্বেল এর মতে, ১৯২৮ সাল থেকে ১৯৩৭ সাল পর্য়ন্ত রাশিয়ায় প্রবৃদ্ধির হার ছিল শতকরা ১১দশমিক ৯ ভাগ। তখন ছিল বিশ্বব্যাপী মন্দার সময়। মন্দার যুগে রাশিয়া তথা মস্কোর এই বিস্ময়কর অগ্রগতিতে সমাজতন্ত্রের শ্রেষ্টত্ব প্রমাণিত হয়। এসময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৫ ভাগ, বেকারত্ব ছিল চরমে। এই অবস্থার মধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে সেই যুদ্ধেও রাশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব সহজেই দৃশ্যমান হয়। হিটলারের অপ্রতিরোধ্য জার্মান বাহিনীকে রাশিয়ার লাল ফৌজই সর্ব প্রথম পরাজিত করে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দেয়। তার পরের ইতিহাস সবার জানা। লাল ফৌজই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মানব বিধ্বংসী ন্যাৎসি বাহিনীকে পরাজিত করে মানব জাতিকে রক্ষা করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে স্তালিনের নেতৃত্বে মস্কোর এ বিজয় দেশটিকে বিশ্ব নেতৃত্বের সামনে তুলে আনে। অন্যদিকে ব্রিটেন ও ফ্রান্স দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ব্যাকফুটে চলে যায়, উঠে আসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট। প্রতিষ্ঠিত হতে শুরু করে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ। এই সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ওয়াশিংটনের বিপরীতে মস্কো হয়ে ওঠে বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি। তারপর দীর্ঘ চার দশক চলে পাল্লা-পাল্লি। এতে ও মস্কোর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ হয় অনেক ক্ষেত্রেই। মস্কোই সর্ব প্রথম মহাকাশে উপগ্রহ ও মানুষ প্রেরণ করে। তবে চাঁদে প্রথম মানুষ পাঠিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বে মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকায় চলে আসে। এই সময় বিশ্বের যেখানেই স্বাধীনতা ও মুক্তির লড়াই হয়েছে মস্কো তার পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকায় মুক্তির লড়াইয়ে সামনে থেকে সমর্থন যুগিয়েছে মস্কো। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তির সংগ্রামে মস্কোর সার্বিক সাহায্য সহযোগিতা তার প্রমাণ। ফিলিস্তিনের মুক্তি সংগ্রামে নিঃশর্ত সহযোগিতা অব্যাহত রাখে মস্কো। ৬০ ও ৭০ এর দশকে যেখানেই আগ্রাসন সেখানেই মস্কোর উপস্থিতি ও প্রতিরোধ ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখিত থাকবে। মস্কোর এই উত্থান আশির দশক পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। তারপর নব্বইয়ের দশকে অনেকটা বিনামেঘে বজ্রপাতের মতো মস্কোর পতন হয়। সমাজতন্ত্রে বিপর্যয় ঘটে। দেখা দেয় অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা। ওই সময় ব্যাপক সংখ্যক রুশ নগরিক শোকাহত হয়। অবশ্য খুশি রুশ জনগণের সংখ্যাও কম ছিল না। তাদের অনেকে সমাজতন্ত্রের আনুষ্ঠানিক বিদায়কে স্বাধীনতা ও মুক্তির স্বাদ বলে মনে করে।
তবে রুশ জনগণের একটি বড় অংশের কাছে এটি ছিল ট্রাজেডি। সম্প্রতি বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ সম্পর্কে জানানো হয়, ওই অবস্থায় রুশ জনগণ পুঁজিবাদের কুৎসিত চেহারা দেখেছ বলে মন্তব্য করেছে। এ সম্পর্কে বিবিসি ইরিনা নামের এক তরুণীর উদ্ধৃতি দিয়ে মন্তব্য করেছে, সোভিয়েত ইউনিয়নের কিছু খারাপ দিক ছিল। কিন্তু পরে উপলদ্ধি করতে পেরেছি। সেটা খারাপ ছিল না। বিবিসির সাংবাদিক প্রশ্ন করেন তখন তো গণতন্ত্র ছিল না, বাক স্বাধীনতা ছিল না? ইরিনার জবাব ছিল কোন ধরনের গণতন্ত্রের কথা বলছেন, পাশ্চাত্যের? সেটা আমাদের প্রয়োজন আছে কিনা। ইরিনা বলেন, রাশিয়ার শক্তিশালী নেতা প্রয়োজন। পুতিন সেই নেতা। তিনি বলেন, পুতিন শুধু কাজ করছেন না, রীতিমতো পরিশ্রম করছেন। আমি তাকে শ্রদ্ধা করি। পশ্চিমারা তাকে পছন্দ করেন না। ঠিকই তো। তাকে পছন্দ হবে কেন? তিনি তো সুন্দরী নারী নন। তিনি একজন শক্তিশালী পুরুষ। সত্যি পুতিন শক্তিশালী পুরুষ এবং তিনি শুধু কাজ করছেন না রীতিমতো পরিশ্রম করছেন। পরিশ্রম করছেন মস্কোর মান সম্মান পুনরুদ্ধারের জন্য। ইউক্রেন ও ক্রিমিয়া ইস্যুতে রাশিয়া সোভিয়েত আমলের মতো আচরণ করেছেন। ন্যাটোর আগ্রাসনকে রুখে দিতে পূর্ব সীমান্তে বহনযোগ্য পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করে রেখে পশ্চাত্য দুনিয়াকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। শুধু তাই নয় সিরিয়ায় মার্কিন দখল প্রবণতাকে রুখে দিয়ে সেখানে আসাদ সরকারকে বহাল রাখতে পুরো যুদ্ধের জন্য সেনা পাঠিয়ে এবং বিমান হামলা করে মার্কিন মদদপুষ্ট বিদ্রোহীদের হটিয়ে দিয়েছে রুশ বাহিনী। দেড় হাজার কিলোমিটার দূর থেকে আইএসের ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে আইএসের শক্তি শেষ করে দিয়েছেন পুতিন তথা মস্কো। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে দামেস্কের পক্ষে অংশ নিয়ে কমপক্ষে ১৬০টি নতুন অস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে মস্কো। মস্কো নিজ পুনরাত্থান নিশ্চিত করতে সর্বাধিক টেকনোলোজির সর্বাত্মক ব্যবহার নিশ্চিত করে মার্কিন নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করেছে যা যে কোনো বিবেচনায় অগ্রহণযোগ্য। তবে এর মাধ্যমে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে এক হাত দেখিয়ে দিয়েছে। মার্কিন সুরক্ষিত সাইবার ব্যবস্থা রাশিয়া তছনছ করে দিয়েছে। শুধু তাই নয় মস্কো তার পছন্দের লোককে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট পদে জিতিয়েও এনেছেন। একইভাবে জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালির নিষ্ঠাবান পছন্দের প্রার্থীকে জেতানোর জন্য তাদের নির্বাচন ব্যবস্থা হ্যাক করার পরিকল্পনা করছে। এ সবই মস্কোর ঘুরে দাঁড়ানোর সুস্পষ্ট লক্ষণ। এ থেকে স্পষ্ট বলা যায়, আধিপত্য বিস্তারের লক্ষে মস্কো ঘুরে দাঁড়াচ্ছে অর্থাৎ মস্কোর অন্যরকম পুনরুত্থান ঘটছে।
     লেখক : সাংবাদিক  ও কলামিস্ট।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি