আজ মঙ্গলবার, ১১ মাঘ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ, ২৪ জানুয়ারী ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : ২০১৬ সালের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ঘোষণা       তামিলনাড়ুতে ষাঁড়ের লড়াইয়ে ২ জনের মৃত্যু       ১৩০ কেজি গাঁজাসহ রংপুরে ৪ মাদক ব্যবসায়ী আটক        টাঙ্গাইলে ৫ মণ গাঁজাসহ আটক ৩       সাতক্ষীরায় বনদস্যু আনারুল আটক       সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আরাফাত সানি        ২০১৭ সালের হজ চুক্তি করতে সৌদি আরব যাচ্ছেন ধর্মমন্ত্রী      
রোহিঙ্গা প্রশ্নে আপস নয়
দায় মিয়ানমারকেই নিতে হবে
Published : Thursday, 12 January, 2017 at 8:41 PM, Count : 12
মিয়ানমারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিউ তিন এখন ঢাকায়। সেদেশের অঘোষিত সরকার প্রধান অং সান সুচির বিশেষ দূত হিসেবে তিনি বাংলাদেশ ভ্রমণে এসেছেন। আশা করা হচ্ছে কয়েক দশক ধরে চলে আসা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের কোন একটা প্রস্তাব নিয়ে তিনি বাংলাদেশে এসেছেন। কারণ সেদেশের ক্ষমতাধর নেত্রী পশ্চিমা সমালোচনার মুখে সম্প্রতি বলেছেন, চলতি বছরের মধ্যেই রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। কূটনৈতিক সূত্রে সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ শক্ত অবস্থানে থাকবে। সমস্যা সমাধানে মি. কিউ তিনকে কড়া বার্তা দেবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের জনগণ সেটাই চায়। কারণ এ ব্যাপারে বাংলাদেশের আপস করার কিছুই নেই। কারণ এটা এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত যে, রোহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা এর সমাধান তাদেরই করতে হবে।
মিয়ানমার বাংলাদেশের সৎ প্রতিবেশী বলা যাবে না। আবার খুব অসৎ প্রতিবেশীও বলা যাবে না, কারণ বিপুল সামরিক শক্তি হওয়ার পরও মিয়ানমার কখনো যুদ্ধে যায়নি। তবে তাদের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাখাইন প্রদেশে বসবাসকারী ৩০ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি অধিবাসী মনে করে। রোহিঙ্গারা ধর্মীয়ভাবে মুসলিম এবং তাদের ভাষা চট্টগ্রাম প্রচলিত বাংলা সদৃশ্য। সামরিক জান্তার সময় থেকেই তারা দাবি করে আসছে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী এবং এদের উপর নির্যাতন করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরে ঠেলে দেয়ার নীতি অবলম্বন করে। এ ক্ষেত্রে তারা কিছুটা সফল হয়। ইতিমধ্যে ৫ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে, এখনো প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকে পড়ছে। এটা ইতিহাস স্বীকৃত যে মিয়ানমারের দক্ষিণাঞ্চলে মধ্যযুগে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাভাষী আরাকান রাজ্য ছিল। পুরো চট্টগ্রাম এবং সন্দ্বীপ আরাকান দেশের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৬৬৬ সালে বাংলার নবাব শায়েস্তা খাঁ আরাকানিদের হটিয়ে দিয়ে পুরো চট্টগ্রাম অধিকার করেন। সঙ্গত কারণে রোহিঙ্গাদের সাথে চট্টগ্রামের অধিবাসীদের ভাষা ও সংস্কৃতিতে সাদৃশ্য থাকতে পারে। তার মানে এই নয় যে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি। ৫শ’ বছর পর এরকম উদ্ভট দাবি করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। জাতিসংঘের মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক উপদেষ্টা বিজয় নাম্বিয়ার সম্প্রতি মিডিয়াকে বলেছেন, রোহিঙ্গা মিয়ানমারের অভ্যন্তরিণ সমস্যা এর সমাধান তাদেরই করতে হবে।
বিশ্বায়নের এই যুগে দেশের সাথে দেশের বৈরিতা গ্রহণযোগ্য নয়। মিয়ানমার সম্পদে পরিপূর্ণ একটা দেশ। তাদের খনিজ সম্পদ এবং বৃক্ষ সম্পদ অনেক। বাংলাদেশ উদীয়মান অর্থনীতির দেশ। এরকম সময় মিয়ানমারের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বাংলাদেশের জন্য উপকারী হবে। কিন্তু তার মানে এই নয়, তাদের অন্যায় দাবি মেনে নিতে হবে। প্রয়োজনে সমুদ্রসীমার মত রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমরা আদালতে যেতে পারি। কিন্তু অতদূর না যেয়ে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয়ে গেলে উভয় দেশের জন্য মঙ্গল হবে।




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি