আজ মঙ্গলবার, ১১ মাঘ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ, ২৪ জানুয়ারী ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : ২০১৬ সালের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ঘোষণা       তামিলনাড়ুতে ষাঁড়ের লড়াইয়ে ২ জনের মৃত্যু       ১৩০ কেজি গাঁজাসহ রংপুরে ৪ মাদক ব্যবসায়ী আটক        টাঙ্গাইলে ৫ মণ গাঁজাসহ আটক ৩       সাতক্ষীরায় বনদস্যু আনারুল আটক       সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আরাফাত সানি        ২০১৭ সালের হজ চুক্তি করতে সৌদি আরব যাচ্ছেন ধর্মমন্ত্রী      
প্রেসক্রিপশনে সহজবোধ্য লেখা
যথাযথভাবে পালন করা হোক
Published : Thursday, 12 January, 2017 at 8:41 PM, Count : 12
রোগীদের জন্য প্রেসক্রিপশনের (ব্যবস্থাপত্র) সহজবোধ্য বা বড় ছাপার হরফে দিতে নির্দেশনা দিয়েছে উচ্চ আদালত। এ ব্যাপারে ৩০ দিনের মধ্যে নির্দেশনা জারি করতে স্বাস্থ্য সচিব ও বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের বেঞ্চ সোমবার এই রুল আদেশ জারি করেছেন। ‘ভুল ওষুধ গ্রহণের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ’ শিরোনামে গত ১৭ ডিসেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে দুই আইনজীবী এ ব্যাপারে নির্দেশনা চেয়ে ২ জানুয়ারি এক রিট আবেদন করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত এই আদেশ প্রদান করেন। নির্দেশনায় ওষুধের জেনেরিক নাম লিখতেও নির্দেশ দেয়া হয়।
ব্যবস্থাপত্রে খারাপ হাতের লেখার মাধ্যমে জটিল করে ওষুধের নাম লেখা এদেশের ডাক্তারদের মধ্যে একটা রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। পরিস্থিতি এমন হয়ে দাঁড়িয়েছিল যে, হাতের লেখা ভাল হলে ওই ডাক্তারের দাম কমে যাবে। যিনি যত বড় ডাক্তার তার হাতের লেখা তত খারাপ। ওষুধ একটা জীবন রক্ষাকারী পণ্য, তা নিয়ে ডাক্তারদের কোন রকম হেঁয়ালি গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু এতদিন ঘটনাটা ঘটে আসছিল। শুধু ব্যবস্থাপত্রে জটিল লেখাই নয় বাংলাদেশে ওষুধ বিপণনের ক্ষেত্রে এক ধরনের নৈরাজ্য চলছে। বাংলাদেশে ওষুধের দোকানগুলো মোটেও মান সম্পন্ন নয়। প্রেসক্রিপশন ছাড়াই কেউ যেয়ে ওষুধের নাম ধরে চাইলে ওষুধ দিয়ে দেয়া হয়। এর ফলে ঘরে ঘরে ডাক্তার গড়ে উঠেছে। একটা প্রবাদ তৈরি হয়েছে ‘বাঙালিদের কাজ হচ্ছে ডাক্তারি আর মাতব্বরি।’ একজন নন মেডিকেল পার্সন কারো অসুখের কথা শুনে বলে দিচ্ছেন ওই ওষুধটা খাও, দোকানে যেয়ে ওষুধ চাইলে পাওয়া যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্যের জন্যে হুমকিস্বরূপ। উন্নত বিশ্বে এমনকি প্রতিবেশী দেশ ভারতে প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রি হয় না এবং বিক্রীত ওষুধের মানি রিসিপ্ট দেয়া হয় না। যাতে বিক্রীত ওষুধের মান নিয়ে কোন প্রশ্ন দেখা দিলে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায়। সুতরাং বাংলাদেশের ওষুধ বিপণনের ক্ষেত্রে একটা নৈরাজ্যজনক অবস্থা বিরাজ করছে। শুধু তাই নয় অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় ওষুধের দোকানদাররা ডাক্তারি করছেন। শুধুমাত্র ওষুধ বিক্রির অভিজ্ঞতার সুবাদে তারা এটা করে থাকেন। ফলে এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার হচ্ছে যথেচ্ছভাবে। এতে এন্টিবায়োটিক দিন দিন কার্যকারিতা হারাচ্ছে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা বয়স প্রায় অর্ধশতাব্দী হতে যাচ্ছে। অনেক দিন হলো দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। এখন সময় এসেছে সব ক্ষেত্রেই শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার। ব্যবস্থাপত্র নেয়ার ক্ষেত্রে উচ্চ আদালত নির্দেশনা দিয়েছে আমরা এই নির্দেশনাকে স্বাগত জানাই। সেই সাথে দাবি করবো চিকিৎসকরা যাতে নির্দেশনা ঠিক মত প্রতিপালন করেন, তা মনিটরিং করতে হবে। ব্যবস্থাপত্রের ক্ষেত্রে নির্দেশনা ভালই হল, আমরা রিটকারীদের অনুরোধ করবো ওষুধ বিপণনের জন্য একটা নির্দেশনা প্রয়োজন। তারা যদি সেই মর্মে আরো একটা রিট আবেদন করেন, তা দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গলজনক হবে।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি