আজ বৃহস্পতিবার, ৬ মাঘ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ, ১৯ জানুয়ারী ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : কুয়ালালামপুরে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মুসলিম দেশগুলোর বৈঠক       শুক্রবার স্টার সিনেপ্লেক্সে মুক্তি পাচ্ছে ‘ট্রিপল এক্স’       বেলাল-পড়শী গাইলেন ‘জল শ্যাওলা’তে        দায়িত্ব হস্তান্তরের পূর্বের ভাষণে ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে যা বললেন ওবামা       ভারতে সড়ক দূর্ঘটনায় ১৫ স্কুল শিক্ষার্থী নিহত       ব্লগার অভিজিৎ হত্যা: ২২ ফেব্রুয়ারি মামলার প্রতিবেদন দাখিল       ২০১৬ সাল ছিল ১০০ বছরের মধ্যে উষ্ণতম বছর      
১৫ বছর আগে আয়ুষ্কাল শেষ ৬৫ শতাংশের
রেল দুর্ঘটনা বাড়াচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিন
Published : Thursday, 12 January, 2017 at 8:53 PM, Count : 11
স্টাফ রিপোর্টার : মেকানিক্যাল কোড এবং ডিজাইন স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী মিটার গেজ ও ব্রড গেজ ইঞ্জিনের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ২০ বছর। সে হিসেবে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রায় ৬৫ শতাংশ ইঞ্জিনের অর্থনৈতিক আয়ু শেষ হয়েছে ১৫ বছর আগেই। যদিও মেয়াদোত্তীর্ণ এসব ইঞ্জিন দিয়ে এখনো চলছে রেলের যাত্রী পরিবহন। এতে দুর্ঘটনা যেমন বাড়ছে, তেমনি নিরাপদ ভ্রমণে রেলের প্রতি আস্থাও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ রেলওয়েতে বর্তমানে মোট ২৮২টি লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) রয়েছে। এর মধ্যে ১৮৬টি মিটার গেজ ও ৯৬টি ব্রড গেজ। লোকোমোটিভের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ২০ বছর। এরই মধ্যে রেলের ১৮৪টি লোকোমোটিভের অর্থনৈতিক আয়ু শেষ হয়ে গেছে। এর মধ্যে ১১০টি মিটার গেজ ও ৫৮টি ব্রড গেজ লোকোমোটিভের বয়স ৩০ বছরের বেশি। আয়ুষ্কাল পার হয়ে যাওয়া লোকোমোটিভের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় যেমন বেশি, তেমনি এসব ইঞ্জিনচালিত ট্রেনে দুর্ঘটনার শঙ্কাও বেশি। এ অবস্থায় মিটার গেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এগুলো কেনা সম্ভব না হলে সুষ্ঠু ট্রেন পরিচালনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ট্রেন পরিচালনায় সক্ষমতা বাড়াতে ২০১১ সালের জুলাইয়ে ৭০টি মিটার গেজ ইঞ্জিন কেনার প্রকল্প গ্রহণ করে রেলওয়ে। বিডার্স ফিন্যান্সের (সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ঋণ সংস্থান করবে) মাধ্যমে ইঞ্জিনগুলো কেনার কথা। কিন্তু দরপত্র জটিলতা ও অর্থায়নের অভাবে ৫ বছরেও এ প্রকল্পের অগ্রগতি নেই। ৭০টি ইঞ্জিন কেনার ব্যাপারে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম দফা দরপত্র আহ্বান করা হয়। সেবার ২৫টি কোম্পানি দরপত্র কিনলেও শর্তের কারণে মাত্র ৩টি প্রতিষ্ঠান তা জমা দেয়। তবে শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় প্রথম দফায় দরপত্র বাতিল করা হয়। এরপর ২০১৩ সালের অক্টোবরে দ্বিতীয় দফা দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে আরপিএম ছাড়াও আরো কিছু কঠিন      শর্ত দেয়া হয়। ফলে দরপত্রে অংশ নেয়া ৫ প্রতিষ্ঠানের কারিগরি প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায়।
জানা গেছে, দরপত্রে ইঞ্জিনের ঘূর্ণন গতিবেগ একক (আরপিএম) নির্দিষ্ট করে দিয়ে দুই স্ট্রোকবিশিষ্ট মডেলের ইঞ্জিন কিনতে চাইছে রেলওয়ে। কিন্তু এ ধরনের ইঞ্জিন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা খুবই কম। দুই স্ট্রোকবিশিষ্ট হওয়ায় ইঞ্জিনপ্রতি বছরে ৫০ লাখ টাকার অতিরিক্ত জ¦ালানির প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি ইঞ্জিনগুলো কেনায় প্রায় শতকোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ও হবে। রেলওয়ে সূত্র জানায়, রেলওয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে ইঞ্জিন ব্যবহার করে আসছে, এ ক্ষেত্রেও সেই একই ইঞ্জিন কেনার চেষ্টা করা হচ্ছে। নতুন মডেলের ইঞ্জিন কেনা হলে তার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে প্রচুর সময় লাগবে। এ ছাড়া ইঞ্জিনের কম গতিবেগ বাংলাদেশের জন্য উপযোগী। বেশি গতিবেগে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ে। এর আগে বেশি আরপিএমের ইঞ্জিন কেনা হয়েছিল। কিন্তু তার ফল ভালো হয়নি। এ কারণে পুরনো মডেলের ইঞ্জিন কেনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে তৃতীয়বার দরপত্র আহ্বানের ক্ষেত্রে শর্ত কিছুটা শিথিল করা হবে।
পরিকল্পনা কমিশনের তথ্যমতে, ৭০টি ইঞ্জিন কেনায় ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯৪৫ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। বিডার্স ফিন্যান্সের আওতায় কেনা ইঞ্জিনগুলোর ঋণ সুদসহ বাংলাদেশ সরকার পরিশোধ করবে। এর মধ্যে সম্পূর্ণ চালু অবস্থায় কেনা ৩০টি ইঞ্জিনের দাম ধরা হয়েছে ৯২৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ ইঞ্জিনপ্রতি দাম পড়বে ৩০ কোটি ৮০ লাখ টাকা। দেশি উন্নয়ন সংস্থা অথবা বিদেশি অর্থায়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ছিল সরকারের। কিন্তু সহায়তা চেয়ে চীন, জাপান ও ইরানের কাছে প্রস্তাব দিলেও কেউ অর্থায়নে সম্মতি দেয়নি। সহজ শর্তে ঋণের প্রস্তাব দেয়ার ফলে এ বিষয়ে কোনো দেশ আগ্রহ প্রকাশ করছে না বলে জানা গেছে। ফলে কঠিন শর্তে অর্থায়নের প্রস্তাব হলে সহায়তা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে পর্যালোচনা চেয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের সুস্পষ্ট মতামত প্রয়োজন বলে পরামর্শ দিয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। এ প্রসঙ্গে ইআরডি-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, অর্থ বিভাগ থেকে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি দেয়া হয়েছে শুধু সহজ শর্তের ঋণের জন্য। প্রস্তাবিত ঋণটি অনমনীয়বিষয়ক স্থায়ী কমিটিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। সুতরাং এ ঋণ প্রস্তাবের জন্য রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি বহাল থাকবে কিনা, সে বিষয়ে অর্থ বিভাগের সুস্পষ্ট মতামত জানা প্রয়োজন।
এদিকে, নতুন করে ২০টি মিটার গেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ এবং ১৫০টি যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহে ১ হাজার ৮৮১ কোটি ৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকার প্রকল্প নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। প্রকল্পের আওতায় রেলওয়ের পুরনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ মিটার গেজ লোকোমোটিভ ও যাত্রীবাহী কোচ প্রতিস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৪০০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। বাকি ১ হাজার ৪৮০ কোটি ১০ লাখ টাকা সহায়তা নেয়া হবে। প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে জুলাই ২০১৬ থেকে জুন ২০২০ সাল পর্যন্ত। এ বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফিরোজ সালাহ্ উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে সব সময় ভালো ইঞ্জিন কেনার বিষয়ে আগ্রহী। অতীতে ভালো ইঞ্জিন কেনা হয়েছে বলেই মেয়াদ শেষে এখনো সেগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে। নতুন ইঞ্জিনের বিষয়ে তিনি বলেন, ইউরোপের কয়েকটি কোম্পানির ইঞ্জিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। এজন্য একটু সময় লাগছে।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি