আজ বৃহস্পতিবার, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৩ নভেম্বর ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : আজ রোহিঙ্গা ইস্যুতে সমঝোতা হলে কাল এমওইউ সই'       শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতিসহ গ্রেপ্তার ২        শার্শায় সাড়ে ৩৩ লাখ হুণ্ডির টাকাসহ ৪ পাচারকারী আটক       এসএসসি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে ১ ফেব্রুয়ারি       নওগাঁয় চাকুরি জাতীয়করণের দাবিতে ইউসিসিএ কর্মচারীদের মানববন্ধন       আজ জহির রায়হানের ‘হারানো অধ্যায়’       কুষ্টিয়ার খোকসায় গৃহবধূকে কুপিয়েছে সাবেক স্বামী      
পড়ে আছে অলস টাকা ঋণ নেয়ার লোক নেই
Published : Thursday, 12 January, 2017 at 9:11 AM, Update: 12.01.2017 9:11:49 AM, Count : 165
স্টাফ রিপোর্টার : দেশে অর্থনীতির পরিধি বাড়ছে। সেই তুলনায় নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে না। ব্যাংকে প্রচুর টাকা পড়ে থাকলেও শিল্প-উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঋণ নেয়ার কোনো আগ্রহ নেই। সুদের হার কমানোর পরও আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের ব্যাংকখাতে এখন অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি।
জানা গেছে, ব্যাংকের বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় আমানতের অনুপাতে ঋণ কমে নেমেছে ৬৯ ভাগে। এই হিসাবে ব্যাংক ১০০ টাকা আমানত নিয়ে বিনিয়োগ করতে পেরেছে মাত্র ৬৯ টাকা। যদিও ঋণে এখন সিঙ্গেল ডিজিটে সুদ হার নেমে এসেছে। আগে ১০০ টাকা ঋণ নিলে সুদ গুনতে হতো ১৪ থেকে ১৬ টাকা। এখন ১০০ টাকা ঋণ নিলে সুদ গুনতে হয় ১০ টাকারও কম। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছর আগেও দেশে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধি ছিল ২৫ শতাংশের ওপরে। অথচ চলতি অর্থবছরের সেপ্টেম্বর শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, যে কোনো দেশের অর্থনীতির গতি বাড়লে বা পরিধি বাড়লে ব্যাংকের টাকা বিনিয়োগে যাওয়ার কথা। বাংলাদেশে অর্থনীতির পরিধি বাড়ছে কিন্তু শিল্প-উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিনিয়োগের আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে না।
জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে ঋণের চাহিদা না থাকায় ব্যাংকগুলো আর আমানত নিতে চাইছে না। ইতিমধ্যে বেসরকারি সাউথইস্ট ব্যাংকসহ বেশ কিছু ব্যাংক আমানত নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সাউথইস্ট ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসের আমানত সংগ্রহে নিয়োজিত এক কর্মকর্তা বলেন, ‘জনগণের কাছ থেকে আমানত নিয়ে ঋণ বিতরণ করা ব্যাংকের কাজ। কিন্তু ঋণের চাহিদা কমে গেছে। এ কারণে ব্যাংকে অতিরিক্ত তারল্য জমে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘টাকা খাটানোর জায়গা না থাকায় নতুন করে আর আমানত নেয়া হচ্ছে না।’
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ‘ব্যাংক খাতে থাকা প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে এক পয়সাও আয় করতে পারেনি ব্যাংকগুলো। এ ছাড়া উদ্যোক্তা না পেয়ে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা নামমাত্র সুদে বিভিন্ন বন্ডে বিনিয়োগ করে রাখা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দেশে এক ধরনের স্থবিরতা এখনো রয়েছে। যে কারণে ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অলস অর্থ জমা হয়ে আছে।’ তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের অনাগ্রহের কারণ মূলত অবকাঠামো ও গ্যাসের সমস্যা। এ ছাড়া বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত মনে হলেও ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা কাটেনি। এ কারণে বিনিয়োগ বাড়ছে না।’
এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘দেশে এখনো অবকাঠামোগত উন্নতি হয়নি। যা বিনিয়োগের জন্য খুবই জরুরি ছিল। এ ছাড়া গ্যাস সংযোগের অভাবেও     অনেক প্রতিষ্ঠান  উৎপাদনে যেতে পারছে না। এ ছাড়া বিদ্যুৎ সংকটও দূর হয়নি। এসব কারণে বেসরকারি খাতে কাক্সিক্ষত হারে ঋণ বিতরণ বাড়ছে না।’
এদিকে ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা অতিরিক্ত তারল্য  অনুৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ হয়ে যেন মূল্যস্ফীতির হার না বাড়ে, সে জন্য বাজার থেকে অতিরিক্ত টাকা তুলে নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রেখে দিতে হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা ব্যাংকমুখী না হওয়ায় কম সুদে ১ লাখ ৯৫ হাজার  কোটি টাকা সরকারের বিভিন্ন বন্ডে বিনিয়োগ করে রেখেছে ব্যাংকগুলো। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ব্যাংক যদি বন্ডে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ না করে এই পরিমাণ অর্থ বেসরকারি উদ্যোক্তাদের শিল্প-কারখানায় বিনিয়োগ করতো, তাহলে ব্যাংকের দ্বিগুণ আয় হতো। এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘উদ্যোক্তাদের শিল্প-কারখানায় যদি ২ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়, তাহলে অর্থনীতির চেহারাটাই বদলে যেত।’ তিনি বলেন, ‘গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যা বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করছে। এ ছাড়া বিনিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত জমি পাওয়া যায় না।’
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার ৩২৪ কোটি টাকারও বেশি। এই টাকা মূলত অলস অর্থ। কারণ, শিল্পোদ্যোক্তাদের মধ্যে এই টাকা বিতরণ করার কথা থাকলেও তা করা যায়নি।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি