আজ বুধবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৪ মে ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : পেকুয়ায় জেলা পরিষদ নির্বাচনে যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম নির্বাচিত       তানোরে চাকরির প্রলোভনে ছাত্রীর সর্বনাশ, অতঃপর প্রতারণা!       মনোহরদীতে ৩টি ইউপি নির্বাচনে নৌকার বিজয়       প্রেমজনিত কারণে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা       শিবগঞ্জে স্ত্রীকে জীবন্ত কবর দেওয়ার চেষ্টা : স্বামী আটক       ধর্ম অবমাননার দায়ে শ্যামল কান্তি ভক্ত কারাগারে       চবিতে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ বাতিল      
স্বামীর গালিগালাজের কারণে এ হত্যাকাণ্ড হতে পারে
২ শিশু হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা
Published : Thursday, 12 January, 2017 at 9:12 AM, Update: 12.01.2017 9:13:00 AM, Count : 63
স্টাফ রিপোর্টার : সকালে কাজে বের হওয়ার আগে স্বামী শামীম হোসেনকে বাসি ভাত খেতে দেয় স্ত্রী আনিকা। বাসি ভাত পছন্দ না হওয়ায় স্ত্রীকে বকাঝকা করে শামীম। স্ত্রীর  বাবা-মা তুলে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে বাসা থেকে বের হয়ে যেতে বলা হয়।  এখানেই শেষ নয়; স্ত্রীকে ফাঁসি দিয়ে মরে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে যায় শামীম। আর এই তুচ্ছ ঘটনায় কাল হয়ে দাঁড়ায়, শামীমের স্ত্রী ও দুই সন্তানের জীবনে। এতে অভিমান করে দুই সন্তানকে বঁটি দিয়ে জবাই করার পর নিজে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করতে পারে আনিকা। স্বামী শামীম হোসেনকে গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও স্বজনদের দায়ের করা মামলার অভিযোগ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। পুলিশেরও ধারণা, পারিবারিক কলহের জের ধরেই এ হত্যাকা  হয়েছে।
গত মঙ্গলবার ঘটনার দিন ছোট দিয়াবাড়ির মসজিদের গলির ২৯/১ নম্বর বাসায় দুই সন্তান শামীমা ও আব্দুল্লাহকে     জবাই করে হত্যার পর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে আনিকা। খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাসা থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় আব্দুল্লাহ ট্রাউজারের পকেট থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় গতকাল বুধবার দুপুর ১টার দিকে আনিকার মা নাদিরা বেগম দুই সন্তানকে হত্যা করে মেয়েকে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে শামীমকে একমাত্র আসামি করে দারুস সালাম একটি মামলা দায়ের করেছেন। অন্যদিকে গতকাল দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিহত আনিকা এবং দুই সন্তান শামীমা ও আব্দুল্লাহর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ঢামেকের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. প্রদীপ বিশ্বাস বলেন, বাচ্চা দু’টির শ্বাসনালি কেটে গিয়েছিল। এ কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের মা আনিকা দুই শিশুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেছে। আনিকার গলায় দাগ পাওয়া গেছে। ভিসেরা রিপোর্টের জন্য রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছে।
বিকেলের দিকে ঢামেকে আসেন আনিকার মামা ইসরাফিল। তিনি সাংবাদিকদের জনান, তিনি গ্রামের বাড়ি থেকে এসেছেন। ঢাকায় কি হয়েছে, আনিকা ও তার দুই সন্তান কিভাবে মারা গেছেন তার কিছুই তিনি জানেন না। পরে তিন জনের মরদেহ আনিকার গ্রামের বাড়ি নওগায় নিয়ে যান তিনি। গতকাল দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, দারুস সালাম ছোট দিয়াবাড়ির মসজিদের গলির ২৯/১ নম্বর বাসায় একই সাথে ২০-২৫টি টিনশেড ঘর রয়েছে। মেইন গেট দিয়ে ঢুকলে বাম পাশের প্রথম ঘরটিই শামীম ও আনিকা দম্পতির। প্রায় দেড় বছর আগে ২ হাজার ২০০ টাকায় ভাড়া নিয়ে তারা ওই বাসায় ওঠে। ঘরটির সামনে ফাঁকা জায়গায় ৪টি চুলা রয়েছে। তাদের আশপাশের ৮টি ঘরের ভাড়াটিয়ারাও ওই চুলায় রান্না করেন। তবে তারা কখনো স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ দেখেননি, এমনটি জানিয়েছেন পাশের ভাড়াটিয়ারা।
প্রতিবেশী মৌসুমী আক্তার বলেন, এই ঘটনা আমাদের সবাইকে অবাক করেছে। ঘটনার দিন সকালেও যে শিশুরা আমাদের সামনে দিয়ে খেলা করেছে, দুপুরেই তাদের এই মর্মান্তিক পরিণতি। তবে বাসাটির বেশির ভাগ ভাড়াটিয়া গার্মেন্টেসকর্মী। তাই সবাই সকালে যে যার মতো কাজে চলে যায়। অনেকে আবার দুপুরে খাওয়ার জন্য বাসায় আসে। তবে দুপুরের দিকে এলাকাটি খুব নির্জন থাকে। মৌসুমী বলেন, প্রায় দুপুরে আনিকা দরজা বন্ধ করে ঘুমাত। সে জন্য ঘটনার দিন কেউ বিষয়টি টের পায়নি। বিভিন্ন সময় আনিকা ও শামীমের বাবা-মা বেড়াতে আসতেন। তাদের মধ্যে যে মিল দেখেছি, তাতে আমরা খুব ভালো ভাবতাম। এদিকে, দুই সন্তানকে গলা কেটে হত্যা ও নিজে আত্মহত্যার আগে ছেলের জ্যাকেটের পকেটে রেখে যাওয়া চিরকুটে আনিকা তার মাকে ও স্বামীকে উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কথা লিখেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এক পৃষ্ঠার ওই চিরকুটে দেখা যায়, মাকে উদ্দেশ্য করে আনিকা লিখেছেন, মা আমি এই দুই হাত দিয়ে ওদের খাওয়াছি (খাইয়েছি), তেল দিছি (মাখিয়েছি), আর আজ সেই হাত দিয়ে (ওদের) মারলাম। স্বামী শামীমকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, শামীম তোমার একটা ভুলের জন্য এত বড় ঘটনা। তুমি ভেবেছো আমি সুধু (শুধু) শুনব না। তুমি সবার কথা ভাবো, আমাদের কথা ভাবো না। আমি সবাইকে ছেড়ে যাছি (যাচ্ছি)। থাকবো না, পৃথিবী ছেড়ে আর বলেছিলাম না। আমি যেখানে, ওরা সেখানে। একটাই কষ্ট মা, ভাই, বোন নানী আরো অনেকের মুখ দেখতে পালামনা (পেলাম না)। ছেলে মেয়ে নেয়ে (নিয়ে) গেলাম সবাই ভালো থেকো। আমাদের মৃতর (মৃত্যুর) জন্য কেও (কেউ) দাই (দায়ী) না।




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি