আজ রবিবার, ৩ পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : আগামী নির্বাচনেও শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসবে : নৌমন্ত্রী       ছায়েদুল হকের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক       শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-আইজিপির শ্রদ্ধা নিবেদন       বাবা-মায়ের পাশে শায়িত হবেন ছায়েদুল হক       জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা       রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা শাসকগোষ্ঠীর দমননীতির বহিঃপ্রকাশ       পঞ্চগড়ে বিজয় বাইসাইকেল র‌্যালি      
উজ্জ্বীবিত পাকিস্তান
Published : Monday, 19 June, 2017 at 8:45 PM, Count : 23
উজ্জ্বীবিত পাকিস্তানস্পোর্টস ডেস্ক : শিরোপা জয়ের অন্তিম লড়াইয়ে ব্যাট হাতে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা। গড়েছেন রানের পাহাড়। দুই দলের প্রথম দেখায় ব্যাটে-বলে সুবিধা করতে না পারা পাকিস্তান হেরেছিল বড় ব্যবধানে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে দেখা গেল উজ্জ্বীবিত এক দলকে। ফখর জামানের ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিং আর মোহাম্মদ হাফিজের শেষের ঝড়ে শিরোপাধারীদের বিশাল লক্ষ্য দিয়েছে সরফরাজ আহমেদের দল। টসের পর সরফরাজ আহমেদ যখন বলেছিলেন তার দলের লক্ষ্য ৩০০ প্লাস রান করা তখন অনেকেই হয়তো হেসে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। আইসিসির মতো মেগা ইভেন্টে ভারতের বিপক্ষে ৩০০ প্লাস রান করতে পাকিস্তান- সেটি ছিল ভাবনার বাইরে। তবে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা যেন সরফরাজের চাওয়ার চেয়েও ভালো ব্যাটিং উপহার দিয়েছেন। টপ ও মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মেগা ফাইনালে ভারতকে বিশাল চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে টিম পাকিস্তান। টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শিরোপা জিততে হলে বিরাট কোহলিদের পেরোতে হবে ৩৩৯ রানের পাহাড়।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২৬৫ রান তাড়া করার রেকর্ড আছে নিউজিল্যান্ডের। সেটিও আবার ভারতের বিপক্ষে। ২০০০ সালে নাইরোবিতে সৌরভ গাঙ্গুলির সেঞ্চুরিতে ২৬৪ করেছিল ভারত। কিন্তু ক্রিস কেয়ার্নসের দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে ৪ উইকেট ও ২ বল বাকি থাকতে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় কিউইরা। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে দ্বিতীয় রান তাড়া করার রেকর্ড দক্ষিণ আফ্রিকার। ১৯৯৮ সালে ঢাকায় চ্যাম্পিয়নস ট্রফির (তখনকার ‘মিনি বিশ্বকাপ’) প্রথম ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ২৪৬ রানের লক্ষ্য দক্ষিণ আফ্রিকা টপকেছিল ৪ উইকেট হাতে রেখে। ভারতকে অবশ্য একটি পরিসংখ্যান অনুপ্রাণিত করবে, আগের সাত ফাইনালের পাঁচটিতে জিতেছে পরে ব্যাটিং করা দল। তবে এবার জিততে হলে আরও একটি রেকর্ড করতে হবে ভারতকে। ওভালে সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ড শ্রীলঙ্কার। এই কদিন আগে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির গ্রুপ পর্বে ভারতের দেওয়া ৩২২ রান শ্রীলঙ্কানরা টপকেছে ৭ উইকেট ও ৮ বল বাকি থাকতে। পরিসংখ্যান-রেকর্ড থেকে তাই খুব একটা প্রেরণা খুঁজে পাবে না ভারত। তাতে কী আসে যায় কোহলির! ভারত অধিনায়ক বলেই দিয়েছেন, ‘পরিসংখ্যান, রেকর্ডে আমি বিশ্বাস করি না!’
টস জিতে পাকিস্তানকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে বিরাট কোহলি কি ভুল করেছিলেন? ম্যাচের বয়স দশ ওভারে যাওয়ার আগেই এই প্রশ্ন ওভালে উড়তে শুরু করে। সেই তালে তালে ফখর জামান (১১৪) এবং আজহার আলী (৫৯) ম্যাচের লাগাম আরও শক্ত করে ধরে ফেলেন। শুরুর এই শক্ত ভিতটাকে পাকিস্তান ৫০ ওভার শেষে ৩৩৮’এ নিয়ে গেছে। ওভালে রান তাড়ার সর্বোচ্চ রেকর্ড ৩২১ পর্যন্ত। হারার দলে নাম এই ভারতের। এই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ৮ জুন তাদের করা অত রান টপকে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। এদিন পড়ে পাওয়া জীবনে শতরানের ফুল ফোটান ফখর জামান। ব্যক্তিগত ৩ রানে থাকার সময় জসপ্রীত বুমরাহর পায়ের কারণে ‘নো’ হওয়ায় বেঁচে যান তিনি। এরপর ৯২ বলে তুলে নেন শতক। ফখর সেই ভুল ছাড়া আর কোনও সুযোগ দেননি। ব্যাটিং দেখে বোঝার উপায় ছিল না এই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেই ওয়ানডে অভিষেক তার। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩১ রান দিয়ে শুরু ক্যারিয়ার। পরের দুই ম্যাচে ফিফটির পর এবার পেলেন তিন অঙ্কের দেখা। জীবন পেয়ে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেন ফখর জামান। ইনিংস সাজানো ১২টি চার ও দুই ছয়ে। এদিন পাঁচ বোলারকে ব্যবহার করেও শতরানের আগে উইকেট বের করতে পারেননি বিরাট কোহলি। দলীয় ১২৮ রানে আজহার আলী ৫৯ করে রান আউট হলে ভাঙে ওপেনিং জুটি। আইসিসির কোনও আসরে এটিই পাকিস্তানের সর্বোচ্চ রানের ওপেনিং জুটি।
লন্ডনের ওভালে গতকাল রোববার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা ছিল সতর্ক। দুই ব্যাটসম্যানকে বেঁধে রেখেছিলেন ভুবনেশ্বর কুমার। তার ৫ ওভারের প্রথম স্পেলে ডট ছিল ২৩টি। জাসপ্রিত বুমরাহর এলোমেলো বোলিংয়ের সঙ্গে ভাগ্যেরও খানিকটা সহায়তা পেয়েছিল পাকিস্তান। ৩ রানে ক্যাচ দিয়েও নো বুমরাহর ‘নো’ বলের কল্যাণে বেঁচে যান জামান। আজহার আলির সঙ্গে গড়েন ২৩ ওভারে ১২৮ রানের চমৎকার এক জুটি। দুই বিশেষজ্ঞ স্পিনার রবিন্দ্র জাদেজা ও রবীচন্দ্রন অশ্বিনকে দুই জনে খেলেছেন খুব সহজে। আইসিসি টুর্নামেন্টে ভারতের বিপক্ষে এটাই পাকিস্তানের শতরানের প্রথম উদ্বোধনী জুটি। ১৯৯৬ সালে সাঈদ আনোয়ার, আমির সোহেলের ৮৪ ছিল আগের সেরা। ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউটে ভাঙে পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটি। ৬টি চার আর একটি ছক্কায় ৫৯ রান করে ফিরেন আজহার। তার বিদায়ের পর রানের গতি বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেন জামান। দ্বিতীয় উইকেটে বাবর আজমের সঙ্গে গড়েন ৭২ রানের দারুণ এক জুটি। ৬০ বলে অর্ধশতক স্পর্শ করা জামান তিন অঙ্কে যান ৯২ বলে। শেষ পর্যন্ত ১০৬ বলে ফিরেন ১২টি চার আর তিনটি ছক্কায় ১১৪ রান করে। ওয়ানডেতে বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের এটাই প্রথম শতক। শুরুতে আঁটসাঁট বোলিং করা ভুবনেশ্বরকে উড়ানোর চেষ্টায় ফিরেন শোয়েব মালিক। আগের ম্যাচে বাংলাদেশের দুই থিতু ব্যাটসম্যানকে বিদায় করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া অনিয়মিত স্পিনার কেদার যাদবের এবার শিকার বাবর। টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান ফিরেন চারটি চারে ৪৬ রান করে। পাকিস্তান ইনিংসের তখনও ৭.৩ ওভার বাকি। অবাক করে দিয়ে অধিনায়ক সরফরাজের জায়গায় ব্যাটিংয়ে আসেন ইমাদ ওয়াসিম। প্রমোশন পাওয়া এই অলরাউন্ডার মোহাম্মদ হাফিজের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন পঞ্চম উইকেটে গড়েন ৭১ রানের জুটি। ৩৪ বলে অর্ধশতক পাওয়া হাফিজ অপরাজিত ৫৭ থাকেন রানে। ৩৭ বলে খেলা তার ঝড়ো ইনিংসটি গড়া ৪টি চার আর তিনটি ছক্কায়। দারুণ শুরু আর শেষে ৪ উইকেটে ৩৩৮ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে পাকিস্তান।   ওয়ানডেতে আগে ব্যাট করে এটাই ভারতের বিপক্ষে তাদের সর্বোচ্চ রান। এর আগে দুইবার ৩২৯ রান করেছিল পাকিস্তান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ৩৩৮/৪ (আজহার ৫৯, জামান ১১৪, বাবর ৪৬, মালিক ১২, হাফিজ ৫৭*, ওয়াসিম ২৫*; ভুবনেশ্বর ১/৪৪, বুমরাহ ০/৬৮, অশ্বিন ০/৭০, পান্ডিয়া ১/৫৩, জাদেজা ০/৬৭, কেদার ১/২৭)







« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি