আজ মঙ্গলবার, ২ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ১৭ অক্টোবর ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : জবির এ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ       সদরপুরে ৩ জেলেকে জেল জরিমানা       সদরপুরে তথ্য অধিকার বিষয়ে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত       মেডিকেল চেকআপের জন্য সিঙ্গাপুর গেছেন : এরশাদ       জিয়াকে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠাতা বলায় সিইসি’র পদত্যাগ চাইলেন : সিদ্দিকী       রেশন হিসেবে এই চাল-গম নিতে আপত্তি পুলিশের       ইন্টারনেটেরে রাত্রিকালীন বিশেষ প্যাকেজ বন্ধের নির্দেশ : হাইকোর্ট      
রাউজানে ভাঙন অব্যাহত
আতঙ্কিত হালদা পাড়ের বাসিন্দারা
Published : Thursday, 10 August, 2017 at 8:35 PM, Count : 419
আতঙ্কিত হালদা পাড়ের বাসিন্দারামো. হাবিবুর রহমান, রাউজান (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : হালদা পাড়ের এক বাসিন্দার নাম সোলাইমান। বয়স তাঁর ষাটের বেশি। হলদা নদী থেকে ২ ফুট দূরে একটি কাঁচাঘরে স্ত্রী, তিনপুত্র, তিন কন্যা সন্তান নিয়ে বসবাস করেন তিনি। তাঁর প্রতিটি মুহুর্ত কাটছে ভাঙন আতঙ্কে। হালদা নদীর ভাঙন এখন সোলাইমানের বসতঘর ছুই ছুই অবস্থা! রাতে ঘুম হয়না বৃদ্ধ সোলাইমানের, চোখ লেগে আসলেই মনে হয় বসতঘরটি হালদায় গড়িয়ে পড়ছে। এমন একটি চিত্র ফোটে উঠেছে রাউজান উপজেলার পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের হালদা পাড়ে। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, কাশেম নগর এলাকায় নদীর সামনে ঘরের দরজায় বসে আছেন বৃদ্ধ সোলাইমান। বাপ-দাদার ভিটে বাড়িটুকুও হারাতে হবে সে ভয়ে ঘরের দরজায় যেন পাহারা দিচ্ছেন তিনি। সোলাইমানের তিন পুত্রের মধ্যে দুজন অটোরিকশা চলান, অপর পুত্র স্কুলে পড়ালেখা করেন।
বয়সের ভারে তেমন কোন কাজ করতে পারেন না তিনি। তাই পুত্রের উপার্যন দিয়ে চলে তাঁর সংসার। এখন নদীর ভাঙনে বসতঘর বিলীন হয়ে গেলে রাস্তায় অবস্থান নেয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই এমনটাই জানালেন বৃদ্ধ সোলাইমান। ভাঙন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে তিনি বলেন আগুনে পুড়ে গেলে অন্তত ভিটের মাটি থাকে। কিন্তু ভাঙলে কিছুই থাকেনা।
শুধু ষাটোর্ধ্ব সোলাইমান নয়, তার মতো হালদা পাড়ের আরো শত শত লোকজনের দিন কাটছে ভাঙন আতঙ্কে। ইতিমধ্যে নোয়াজিষপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ফতেহ নগর, নদীমপুর, ইন্দিরাঘাটা, গহিরা ইউনিয়নের পশ্চিম দলই নগর কাজী পাড়া, সিকদার পাড়া, মাঝের পাড়া, কোতোয়ালী ঘোনা, রাউজান পৌর এলাকার পশ্চিম গহিরা বদুর ঘোনা, মঘাশাস্ত্রী বড়–য়া পাড়া, অংকুরী ঘোনা, দক্ষিণ গহিরা, বিনাজুরী ইউনিয়নের পশ্চিম বিনাজুরি, পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের কাগতিয়া কাশেম নগর, গোলজার পাড়া, আজিমের ঘাট, উরকিরচর ইউনিয়নের আবুরখীলসহ বিভিন্নস্থানে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে শত শত বিঘা ফসলী জমি, বসতঘর, মসজিদ, মন্দির, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা। পরিদর্শনকালে দেখে যায়, উপজেলার পশ্চিম গহিরা, নোয়াজিষপুর, আজিমের ঘাট,নোয়াপাড়া ইউনিয়নের মোকামী পাড়া, দেওয়ানজির ঘাট, কচুখাইন, পশ্চিম নোয়াপাড়া, উরকিরচর ইউনিয়নের মইশকরম, পশ্চিম গুজরাসহ বেশ কিছু এলাকায় এখনও ভাঙন কবলে। ওসব এলাকার জনসাধারণ জানিয়েছেন এ বর্ষায় কাপ্তাইয়ের পানি ছেড়ে দেওয়ায় জোয়ারের পানি বেড়ে ভাঙন বৃদ্ধি পেয়েছে। আরো অনেক পরিবার ভাঙনে পড়ে যাযাবর হয়ে পড়বে। হালদা পাড়ের বাসিন্দারা আরো বলেন, শুনেছি ভাঙনরোধে ২১২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে, সেটির উপর ভরসা। আমাদের আশা ভাঙন রোধে হাটহাজারী ও রাউজান সমানভাবে গুরুত্ব পাবে।  হালদা পাড়ের বাসিন্দা আবু তাহের জানিয়েছেন কত বসতঘর নদীগর্ভে গড়িয়ে পড়তে দেখেছি তার কোন হিসেব নেই, এ হালদা শুধু ভাঙতে জানে গড়তে জানেনা। গহিরা এলাকার হালদা পাড়ের বাসিন্দ মো. আলীর মা জানালেন তার বাড়ির একটি অংশ হালদার করাল গ্রাসে পড়েছে। যে কোন মুহুর্তে তার বসতঘরটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। যেভাবে পাশের ২০/৩০টি বসতঘর বিলীন হয়ে গেছে। তিনি এখন বেশ দুঃচিন্তায় দিনপাত করছেন। অশ্রুসিক্ত কন্ঠে তিনি বলেন বাবা চোখে আর পানি নেই, সব হলদা নিয়ে গেছে। হালদা নদীর দয়া মায়া বলতে কিছু নেই, শুধু মানুষকে কাঁদাতে পারে। শ্বশুর বাড়ির বসতভিটে বিলীন হয়ে গেলে কোথাও মাথাগোজার ঠাঁই পাবো না। কি করব কিছুই ভাবতে পারছিনা।  
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলার হালদা নদীর উভয় তীরের ভাঙন থেকে বিভিন্ন এলাকা রক্ষাকল্পে তীর সংরক্ষণের কাজ শীর্ষক প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় ২১২ কোটি ৮ লাখ টাকা। এ প্রকল্পটির  মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০১৭ সালের জানুয়ারী থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এটি জিওবি (সরকারী) অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাউজান ও হাটাহাজারী উপজেলার আনুমানিক ৫ হাজার ৭শ ১০ কোটি টাকার সম্পদ নদী ভাঙনের ঝুঁকিমুক্ত হবে। এছাড়া প্রকল্প এলাকায় সামাজিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। হালদা পাড়ের বাসিন্দাদের আশা এ প্রকল্পটি রাউজানের ভাঙনকবলিত স্থান চিহ্নিত করে হালদা পাড়ের বাসিন্দাদের বসতঘরসহ  বিভিন্ন স্থাপনা রক্ষায় কাজ করবে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলার হালদা নদীর উভয় তীরের ভাঙন হতে বিভিন্ন এলাকা রক্ষাকল্পে তীর সংরক্ষণ কাজ শীর্ষক ২৩৫ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব করে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে প্রকল্পটি সংশোধন করে ২৩৮ কোটি টাকায় আবারো পাঠানো হয় গত বছর। প্রকল্পের ডিপিপি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রকল্পের আওতায় নদীর দুই তীরে (রাউজান ও হাটহাজারী) ১২.১২০ কিলোমিটার সংরক্ষণমূলক কজ করা হবে। এর মধ্যে ডান তীরে ৮.৪৪ কিলোমিটার এবং বাম তীরে ৩.৬৮ কিলোমিটার। এছাড়াও ৬কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ, ১৫ কিলোমিটার বাঁধ মেরামত, ০.৫৫০ কিলোমিটার ফ্লাড ওয়াল নির্মাণ এবং ৪.০০৮ কিলোমিটার বিদ্যমান রাস্তাসহ বাঁধের উচ্চতা উন্নীতকরণ করা হবে। এছাড়াও প্রকল্পের আওতায় ১.৪০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। এই প্রসঙ্গে রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম হোসেন রেজা বলেন, ‘হালদা নদীতে বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙন বৃদ্ধি পেয়েছিল, হালদা নদীতে সম্পূর্ণভাবে বালু উত্তোলণ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞার ফলে ভাঙন হ্রাস পাবে। যেসব স্থানে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে সেসব স্থানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।’





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি