আজ শুক্রবার, ৩ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ১৮ আগস্ট ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : গাজীপুরে মাছ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা       বার্সেলোনা হামলায় ১৮ দেশের নাগরিক হতাহত       ২০ আগস্ট পর্যন্ত হজ ভিসা আবেদনের সময় বৃদ্ধি       ‘বছর শেষের আগেই ক্ষমতা ছাড়বেন ট্রাম্প’       শ্রেণিকক্ষে স্বামীকে আটকে শিক্ষিকাকে গণধর্ষণ       ট্রাকের পেছনে মোটরসাইকেলের ধাক্কা : ৩ আরোহী নিহত       স্পেনে সন্ত্রাসীদের দ্বিতীয় হামলা ঠেকালো পুলিশ : নিহত ৫      
বিএনপিতে নতুন চিন্তা সমঝোতার সরকার
নাম কোন ফ্যাক্টর নয় গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই মূল কথা
Published : Saturday, 12 August, 2017 at 8:08 PM, Count : 497
আজাদুর রহমান: সকল দলের সংলাপের ভিত্তিতে একটি সমঝোতার সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন চায় বিএনপি। এই লক্ষ্যে দলের নেতারা ইদানিং সহায়ক সরকারের পরিবর্তে সমঝোতার সরকারের উপর বেশি জোর দিচ্ছেন। এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রস্তাব দেবেন, সেখানেও সমঝোতার সরকারই শেষ কথা হবে বলে সংশ্লিষ্ট নেতারা জানিয়েছেন। আবার নেতাদের কেউ কেউ  ’’৯১ স্টাইলে সমঝোতা করার উপর জোর দিচ্ছেন। তারা বলছেন, নাম কোনো ফ্যাক্টর হবে না। আলোচনা করে সমঝোতার ভিত্তিতে যে নামেই হউক একটি গ্রহণযোগ্য সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতে বিএনপি প্রস্তুত। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমঝোতা হলে সংবিধান বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে না বলেও তারা মত দেন।
আগামী বছরের ডিসেম্বরে একাদশ জার্তীয় সংসদ নির্বাচন হবে। সংবিধানেও এই সময়ে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা আছে। সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনেই ক্ষমতাসীনরা আগামী নির্বাচন করার কথা বললেও তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি তা মানছে না। দলটি এখনও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছে। যে দাবি পূরণ না হওয়ায় তারা গত সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি। সারাদেশে ১৫৩ আসনে বিনাভোটে শাসক দল সমর্থক নেতারা এমপি মনোনীত হয়েছেন। এ নিয়ে নানামহলে বিতর্ক থাকলেও আগামী নির্বাচনেও দল নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের কথাই বলছে বিএনপি। অবশ্য গেল সপ্তাহ দুয়েক থেকে নেতারা আবার ভিন্ন সূরে কথা বলছেন। বলছেন, নামে কোনো সমস্যা হবে না। সবাই মিলে একটি সমঝোতার সরকারের অধীনে সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অবাধ নির্বাচন কারাটাই প্রধান চ্যালেঞ্জ।
বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, লন্ডন সফর শেষে খালেদা জিয়া দেশে ফিরে যে নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা দেবেন, সেখানেও সমঝোতাই হবে প্রথম ও শেষ কথা। এই লক্ষ্যে সংবিধানে ভেতরে ও বাইরে থেকে বেশ কয়েকটি অপশন (বিকল্প) দেওয়া হবে। যার মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনের বিষয়কেই প্রাধান্য দেয়া হবে। নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা প্রণয়নে সম্পৃক্ত ছিলেন-বিএনপির এমন দুইজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ভোরের ডাককে বলেন, তারা রূপরেখায় সুনির্দিষ্ট কোনো নাম দেননি। ঐক্যমত্যের সরকার, নিরপেক্ষ সরকার, সহায়ক সরকার, পক্ষপাতহীন সরকার, সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য সরকার-এসব বিভিন্ন টার্ম ব্যবহার করা হয়েছে। এই টার্মগুলোর অন্তর্নিহিত বক্তব্য হচ্ছে, সকল দল আলোচনা করে সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনকালীন সরকারের যে কাঠামো নির্ধারণ করবে, তার অধীনেই আগামী নির্বাচন হতে হবে।  নির্বাচনকালীনস সরকারের রূপরেখা প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা জানান, আমরা একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকব না। কয়েকটি প্রস্তাব দেব। সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না-এমন কাঠামোও দেয়া হবে। কাঠামোগুলোর মূলভিত্তি হবে- ‘আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা’। রূপরেখার প্রথম ও শেষ দিকে সঝোতাকেই প্রাধান্য দেয়া হবে। গত ২০ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ প্রথমবারের মতো সমঝোতার সরকারের অধীনে নির্বাচনের কথা বলেন। তিনি বলেন, বিএনপি যখন তত্ত্ববধায়ক নিয়ে আন্দোলন করেছে, তখন তত্ত্বাবধায়ক শব্দের প্রতি আওয়ামী লীগের এ্যালার্জি ছিল। এখন সহায়ক সরকারের কথা বলায় তাতেও তাদের আপত্তি। তিনি বলেন, যদি এতোই আপত্তি থাকে তাহলে আওয়ামী লীগই একটি নাম দিয়ে দিক, যে সরকারের অধীনে সকল দল নির্বাচনে অংশ নেবে।’ এই বক্তব্যের বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক না সহায়ক সরকার, তা কোনো ফ্যাক্ট না। আমরা একটা সমঝোতার সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই, যেখানে সকল দলের অংশগ্রহণ থাকবে।’ তিনি বলেন, ‘১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ সকল দল মিলে সমঝোতা করে একটি সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছিল। এবারও এমন একটা সমঝোতার সরকারের অধীনে নির্বাচন হউক-তা সবাই চায়।’ মওদুদ আহমেদের পর গেল দুই সপ্তাহে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরো তিনজন নেতা সমঝোতার সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। তাহলে কি বিএনপি সহায়ক সরকার থেকে দূরে সরে গেল? এ বিষয়ে জানতে চাইলে মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘সহায়ক সরকার হউক আর অন্য কোনো সরকার হউক-সব নামের অন্তর্নিহিত ম্যাসেজ হচ্ছে, সমঝোতার মাধ্যমে একটি নির্বাচনকালীন সরকার। এ জন্য ক্ষমতাসীনদেরই উদ্যোগ নিতে হবে। তবেই নির্বাচন নিয়ে সংকট থাকবে না।’
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ এবং ২০১৫ সালের বড় ধরনের আন্দোলনে ব্যর্থতার ফলে আগামী আন্দোলনে সফলতা আসবে-বিএনপিতে সেই ভরসা এখন ফিকে হয়ে আসছে। মামলায় জর্জরিত নেতাকর্মীদের রাজপথে নামানোটাও কঠিন হবে বলে ভাবছে হাইকমান্ড। তাই সমসঝোতার আহবানকেই কৌশল হিসেবে নিয়েছে বিএনপি। আর সমঝোতার সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানালে এ বিষয়ে দেশে-বিদেশে সমর্থন পাওয়া যাবে বলেও মনে করেন নেতারা। তাই সহায়ক সরকারসহ যে যে নাম নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা-সমলোচনা হয়েছে তা থেকে দূরে থাকতেক চায় বিএনপি। এ জন্য কৌশল হিসেবেই এখন সমঝোতার সরকারের কথা বলে হচ্ছে।  এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে যে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে, সমঝোতার মাধ্যমেই তার বরফ গলবে বলে আমরা আশা করছি। সবকিছুরই শেষের দিকে ভালো কিছু আসে। আমরা আশাবাদী যে বরফ গলবে। শেষ পর্যন্ত শুভবুদ্ধির উদয় হবে। আলোচনার মধ্য দিয়ে একটা সমঝোতার রাস্তা বের হবে। তবে এই সংকট থেকে উত্তরণ না ঘটলে এর সকল দায় ক্ষমতাসীনদের ওপর বর্তাবে।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি