আজ রবিবার, ৩ পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : আগামী নির্বাচনেও শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসবে : নৌমন্ত্রী       ছায়েদুল হকের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক       শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-আইজিপির শ্রদ্ধা নিবেদন       বাবা-মায়ের পাশে শায়িত হবেন ছায়েদুল হক       জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা       রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা শাসকগোষ্ঠীর দমননীতির বহিঃপ্রকাশ       পঞ্চগড়ে বিজয় বাইসাইকেল র‌্যালি      
একই দিনে মাঠে নামবে আওয়ামী ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা
Published : Sunday, 13 August, 2017 at 8:18 PM, Count : 155
একই দিনে মাঠে নামবে আওয়ামী ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীরাস্টাফ রিপোর্টার : বিচারপতিদের অভিশংসন-সংক্রান্ত ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে আপিল বিভাগের দেয়া রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে এবার কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছে সরকারি দল আওয়ামী লীগ। দলের সমর্থক আইন পেশাজীবীদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ নেতারা বলেছেন, একটি মহল এই রায় নিয়ে বিচার বিভাগকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। আর এই রায়ের প্রতিবাদে তিনদিনের প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে রায়ের পর্যবেক্ষণে যেসব আপত্তিকর, অপ্রাসঙ্গিক বিষয় এসেছে তা এক্সপাঞ্জ করারও দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
চলতি সপ্তাহে আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা যে তিনদিন সারা দেশে কর্মবিরতি পালন করবে, একই দিন একই সময়ে বিক্ষোভ কর্মসূচিরও ডাক দিয়েছে বিএনপি। বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা বাতিল করে দেওয়া আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশের পর থেকে তা নিয়ে বাদ-প্রতিবাদ চলছে। আওয়ামী লীগ এই রায়ের সমালোচনা করলেও বিএনপি এই রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যায়িত করেছে। আলোচিত এই রায়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি গত সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলন ডাকার পর সেখানে দুই পক্ষের আইনজীবীদের তুমুল হট্টগোল বাঁধে।
গত ৩ জুলাই বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীকে অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। এর পর গত ১ আগস্ট বিচারপতিদের অপসারণ-সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ সাত বিচারপতির স্বাক্ষরের পর ৭৯৯ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়। সব বিচারপতির সর্বসম্মত রায়ে ‘রাজনীতিতে ব্যক্তিবাদ’, সামরিক শাসন, ‘অপরিপক্ব সংসদ’, দুর্নীতি, সুশাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচনা করেন। এই পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর বিএনপি একে স্বাগত জানালেও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নানা সমালোচনা করা হয়। সরকারি দলের নেতাদের মতোই প্রায় কাছাকাছি সুরে রায়ের পর্যবেক্ষণে সমালোচনামুখর হন আইন কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান এ বি এম খায়রুল হক, যিনি প্রধান বিচারপতি থাকাকালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অবৈধ বলে একটি রায়ে উল্লেখ করেছিলেন। রায় নিয়ে আওয়ামী লীগের সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি দিয়েছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। রায়ের বিষয়ে নিজেদের আপত্তির বিষয়গুলো জানাতে তিনদিনের কর্মসূচি দিয়েছে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরাও। দুই দলের এমন অবস্থানের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি বলেছেন, দুই দলের কারো ফাঁদেই তিনি পা দেবেন না। এর মধ্যেই আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকে এ বি এম খায়রুল হককে অপসারণ ও গ্রেপ্তার, নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির বিধিমালার গেজেট প্রকাশের দাবি এবং সুপ্রিম কোর্টকে হেয়প্রতিপন্ন করে সরকারের মন্ত্রীদের দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে গত শুক্রবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তিনদিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সংগঠন। কর্মসূচি অনুযায়ী, রবি, বুধ ও বৃহস্পতিবার সারা দেশের আদালত প্রাঙ্গণে এ বিক্ষোভ দেখাবে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম।
বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের গতকালের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সদস্য সচিব ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। এ সময় ষোড়শ সংশোধনীর আপিল বিভাগের রায়ের প্রতিবাদে আগামী ১৩, ১৬ ও ১৭ অগাস্ট (অর্থাৎ রবি, বুধ ও বৃহস্পতিবার) দুপুরে সারা দেশের আইনজীবী সমিতিতে এক ঘণ্টার প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। লিখিত বক্তব্যে আপিল বিভাগের রায়ে যেসব ‘আপত্তিকর, অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক, অপ্রাসঙ্গিক’ পর্যবেক্ষণ রয়েছে, সেগুলো স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে প্রত্যাহার করতে আদালতের প্রতি দাবি জানান শেখ ফজলে নুর তাপস। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির এমন বক্তব্য অসাংবিধানিক শক্তিকে ক্ষমতায় আসার পথ সুগম করে দেবে। এ ধরনের বক্তব্য ও পর্যবেক্ষণ কখনই গ্রহণযোগ্য নয়। আওয়ামী লীগের এ সংসদ সদস্য বলেন, প্রধান বিচারপতি পূর্ণাঙ্গ রায়ে যে অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য ও পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন তা আইনজীবী অঙ্গনকে সংক্ষুব্ধ ও ব্যথিত করেছে। তিনি অপ্রাসঙ্গিকভাবে বঙ্গবন্ধু, জাতীয় সংসদ, অধস্তন আদালতের প্রতি রাষ্ট্রপতির নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচন কমিশন নিয়ে মন্তব্য দিয়েছেন। ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। আইনমন্ত্রী, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিয়েছেন। আমরা মনে করেছি এ রায় নিয়ে কোনো মহল বিচারাঙ্গনককে প্রশ্নবিদ্ধ করে কোনো বক্তব্য দেবে না কিন্তু একটি দল বিচারাঙ্গনকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে। সদস্য সচিব বলেন, আমরা আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রধান বিচারপতির প্রতি দেশবাসী দায়িত্বশীল আচরণ আশা করে। বঙ্গবন্ধুকে ইঙ্গিত করে তিনি যে বক্তব্য লিখেছেন তাতে আইনজীবীসহ সারাদেশের মানুষ ক্ষুব্ধ। বিষয়টি আমাদের সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত ও মীমাংসিত। সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের বক্তব্যের প্রতি একমত এবং সমর্থন ব্যক্ত করে লিখিত বক্তব্যে ফজলে নূর তাপস বলেন, আমরা মনে করি গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিচারপতি খায়রুল হক যথার্থই বলেছেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, আমাদের এ বক্তব্য আদালতের বিরুদ্ধে নয়। রায়ে কিছু অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য এসেছে। যা দেশবাসীর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মজুমদার, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য নজিবুল্লাহ হিরু প্রমুখ।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিধানটি তুলে দিয়ে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস হয়। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ৯৬ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনে বিচারকের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়, যেটি ১৯৭২ সালের সংবিধানেও ছিল। ২০১৬ সালের ৫ মে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ বলে রায় ঘোষণা করেন।
সুপ্রিম কোর্ট অভিভাবকের ভূমিকা রেখেছেন : ফখরুল : এদিকে, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি চেয়ে যুবদল আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে দেওয়া বক্তব্যে ফখরুল এই মন্তব্য করেন। সুপ্রিম কোর্ট সঠিকভাবেই উপলব্ধি করেছেন যে, তাদের এখন দায়িত্ব এসে পড়েতেছে। রাষ্ট্র যখন রসাতলে যাচ্ছে, ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে, কোনো কূল-কিনারা খুঁজে পাওয়া যায় না, তখন তাদের দায়িত্ব এসে পড়েছে, সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে তাদের মুখ খুলতে হবে, বলেন ফখরুল। তাঁরা মুখ খুলেছেন এবং তাঁরা পরিষ্কার বলে দিয়েছেন যে, ষোড়শ সংশোধনী কোনোমতেই গ্রহণ করা যেতে পারে না। কারণ তা সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যে সরকার বিশেষ করে এই রায়ের পর্যবেক্ষণের পর এটা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে, এদের কোনো নৈতিক অধিকার নেই এই ক্ষমতায় বসে থাকার, যোগ করেন ফখরুল।
সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়ে বিএনপি ষড়যন্ত্র করছে : কাদের
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের  দেওয়া রায়কে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি। গতকাল শনিবার জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছাত্রলীগ আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আজকে যারা শেখ হাসিনার উন্নয়নকে সহ্য করতে পারছে না, তারা সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়কে কেন্দ্র করে নতুন ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। এ ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে বলে বলেন ওবায়দুল কাদের। বিএনপির উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তারা (বিএনপি) আন্দোলন করতে ব্যর্থ। নির্বাচনে হেরে যাবে বলে তারা অংশ নেয়নি। তারা আন্দোলন করতে ব্যর্থ হয়ে ষড়যন্ত্রের জাল পেতেছে। সরকার হটাতে নতুন নতুন ইস্যু খুঁজে বেড়াচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বাংলাদেশের রাজনীতির অঘটন ঘটিয়ে ডিগবাজির চ্যাম্পিয়ন মওদুদ আহমেদ আনন্দে মেতে উঠেছে। মির্জা আলমগীর আপনি এত লাফালাফি করছেন কেন? কারণটা কি? আট বছরে আট মিনিটের জন্যও আন্দোলন করতে পারেননি। পারেননি কারণ, জনগণ আপনাদের সঙ্গে ছিল না। এত দিন যারা আন্দোলনের ডাক দিয়ে ঘরে বসে হিন্দি সিরিয়াল দেখে দেখে তাদের কাটত, এখন ঘর থেকে বেরিয়ে এসে আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে উঠছে; যেন আদালত তাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে। এরা এতদিন বিদেশিদের কাছে নালিশ করেছে, যেন বিদেশিরা তাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি বলতে চাই, মির্জা আলমগীর সাহেবকে, আওয়ামী লীগ কখনো পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসেনি। বিএনপির জন্ম হয়েছে বন্দুকের নল দিয়ে; পেছনের দরজা দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। অন্ধকার আর ষড়যন্ত্রের পথ দিয়েই তারা এগিয়ে যাচ্ছে। সেভাবেই ২০০১-এর ষড়যন্ত্রমূলক নির্বাচন করেছিলেন। আপনি আবার মনে করছেন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর সেই ষড়যন্ত্রমূলক নির্বাচন হবে, সেই রঙিন খোয়াব কর্পূরের মতো উড়ে যাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব। এই মওদুদ সাহেব জিয়াউর রহমানের সরকার থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। কারণ জিয়াউর রহমান ইংরেজি জানেন না এই বলে। ভুলে গেছেন বিএনপির লোকেরা? বন্যাদুর্গত এলাকায় যাওয়ার সময় চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বেগম জিয়া যখন কুমিল্লা হাসপাতালে, তখন মওদুদ সাহেব তাঁকে হাসপাতালে রেখে জেনারেল এরশাদের সরকারে যোগ দিয়েছেন। এই মওদুদ সাহেব একবার বিএনপি, একবার জাতীয় পার্টি, আবার বিএনপি। কী করে তাঁর পরামর্শ নেন খালেদা জিয়া?
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, মওদুদ আহমদরা অবৈধভাবে দখল করা বাড়ির মামলায় হেরে গেলে বলেন বিচারবিভাগ স্বাধীন নয়; আবার বেগম জিয়ার বাড়ির মামলা হেরে গেলেও বিচারবিভাগ স্বাধীন নয়। ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট যখন রায় দিল, তখন মওদুদ আহমেদ বলছেন, বিচারবিভাগ স্বাধীন। এই হচ্ছে এ দলের অবস্থা। দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের কঠিন চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হবে। এই ষড়যন্ত্রের খুঁটি কোথায় কোথায় আছে, তা আমরা জানি। এই খুঁটি তারা আঁকড়ে ধরে আছে। জনগণের মাঝে তাদের কোনো অবস্থান নেই। তাই তারা নতুন নতুন ষড়যন্ত্রের ইস্যু খুঁজে।






« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি