আজ রবিবার, ৩ পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : আগামী নির্বাচনেও শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসবে : নৌমন্ত্রী       ছায়েদুল হকের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক       শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-আইজিপির শ্রদ্ধা নিবেদন       বাবা-মায়ের পাশে শায়িত হবেন ছায়েদুল হক       জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা       রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা শাসকগোষ্ঠীর দমননীতির বহিঃপ্রকাশ       পঞ্চগড়ে বিজয় বাইসাইকেল র‌্যালি      
অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে বিদেশিরা
Published : Sunday, 13 August, 2017 at 8:18 PM, Count : 102
ফজলুর রহমান : শিক্ষা, শিল্প খাতে, ট্যুরিস্ট ও অনঅ্যারাইভালসহ বিভিন্ন ভিসায় বিদেশি নগরিকরা বাংলাদেশে আসছে। যাদের বড় একটি অংশ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে এখানে অবস্থান করছে। দেশের বিভিন্ন এলাকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছে। আয়কর ফাঁকি দেয়াসহ চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর ঝামেলা এড়াতে বছরের পর বছর তারা ভিসা নবায়ন করছে না। এদেরই একটা অংশ জড়িয়ে পড়েছে প্রতারণাসহ ভয়ংকর সব অপরাধে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, অবৈধভাবে বসবাসকারী এসব বিদেশি নাগরিকদের বিষয়ে সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা নেই। এতে করে একদিকে তারা নির্বিঘেœ অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। অন্যদিকে আত্মরক্ষার জন্য স্থানীয় লোকজনকে তাদের অপকর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত করছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয় না থাকায় অবৈধভাবে অবস্থান করা বিদেশিদের বসবাসের সুযোগ দিন দিন বাড়ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যানুযায়ী, অপরাধমূলক কর্মকাে  জড়িত থাকার অভিযোগে সম্প্রতি নাইজেরিয়ান, তুরস্ক, ঘানা, তানজানিয়াসহ কয়েকটি দেশের নাগরিককে আটক করা হয়েছে। যাদের ব্যবসার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেয়া, মাদক ব্যবসা, এটিএম বুথ জালিয়াতির সাথে জড়িত থাকার প্রমাণও মিলেছে। বিভিন্ন পুরস্কার ও লটারি জেতা এবং অংশীদারি ব্যবসার কথা বলে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে গত মঙ্গলবার পাঁচ নাইজেরিয়ান নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পোশাক ব্যবসার আড়ালে বাংলাদেশি বিভিন্ন লোকজনের নাম ও অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে টাকা আত্মসাৎ করায় গত মাসের ২৭ তারিখে ৭ জন নাইজেরিয়ান নাগরিককে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ১১ জুন উত্তরার আজমপুর এলাকা থেকে রাবেয়া আক্তার হিরা নামে এক তরুণীকে গ্রেফতার করে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ঢাকা মেট্রো) গোয়েন্দা টিম। তার স্বামী তানজানিয়া, অন্যজন তুরস্কের নাগরিক জোকান। বিদেশি স্বামীদের মাধ্যমে ধীর্ঘদিন ধরে কোকেন চোরাচালান করে আসছিল রাবেয়া।
এর আগে গত বছর এটিএম বুথ জালিয়াতি করে শত কোটি টাকারও বেশি অর্থ হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় প্রথমে তিনজনসহ পরে একাধিক বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করে ডিবি। এদের সঙ্গে দেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও ৪০-৫০ জন ব্যবসায়ীও জড়িত থাকার প্রমান পায় ডিবি। ওই বছরই ঢাকা ও রংপুরে দু’জন বিদেশি নাগরিক খুন হন। এসব ঘটনার পর সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে বিদেশি নাগরিকদের বিষয়ে ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির নির্দেশনা দেয়া হয়। এরপর পুলিশ সদর দফতর থেকে প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপার এবং প্রতিটি মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারকে জরুরি বার্তা দেয়া হয়। বলা হয়, বিদেশি নাগরিকদের অবস্থান সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করে এক মাসের মধ্যে সদর দফতরে পাঠাতে হবে। কিন্তু দেশে কতো সংখ্যক বিদেশি নাগরিক রয়েছে সেই পরিসংখ্যান না থাকায় এবং তাদরে অবস্থান না জানায় বিদেশিদের নিরাপত্তা দেয়া কিংবা অবৈধভাবে বসবাসী কারীদের গ্রেফতারে পুলিশের পক্ষে কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। কেননা বিদেশিদের অবস্থান চিহ্নিত করাই দুরুহ ব্যাপার।
ডিএমপি যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন বলেন, অনেক অবৈধ বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। কেননা, তারা নানান ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত। এসব অবৈধ নাগরিককে ধরতে শিগগিরই অভিযান পরিচালিত হবে।
জানা গেছে, বিদেশি নাগরিকদের পরিসংখ্যান বা ডাটাবেজ করে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি)। অথচ অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশিদের যথাযথ পরিসংখ্যান নেই তাদের কাছে। নেই গোয়েন্দা সংস্থাগুলোরও কাছে। ধারণা করে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, অবৈধ নাগরিকের সংখ্যা বৈধের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। বৈধভাবে বর্তমানে দেশে অবস্থান করছেন প্রায় আড়াই লাখের মতো বিদেশি নাগরিক।
এসবি’র সিকিউরিটি সন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (এসসিও) উয়িং শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান দৌলা বলেন, তাদের কাছে এরকম কোনো শক্তিশালী ডাটাবেজ নেই। ইমিগ্রেশন পুলিশ এ ধরনের ডাটা করে। এসসিও শাখা শুধু কাজ করে অবৈধ বিদেশি অভিবাসীদের নিয়ে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ও দক্ষতায় প্রায় ১০০ জন অবৈধ অভিবাসীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে নাইজেরিয়া, উগান্ডা, ঘানা, আলজেরিয়া, আইভরি কোস্ট, সেনেগাল, ক্যামেরুন ও লাইবেরিয়ার নাগরিকরা বেশি অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
এসবি ফরেন ডেস্কের এক কর্মকর্তা বলেন, বিনিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে শিল্প ও সেবা খাতে বিভিন্ন দেশের নাগরিক বাংলাদেশে এসে থাকে। বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন অথরিটি (বেপজা) ও নন গভর্নমেন্ট অর্গানাইজেশনের (এনজিও ব্যুরো) মাধ্যমেও আসে বিপুলসংখ্যক বিদেশি। ওই দু’টি মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ হয় সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে। শুধু ট্যুরিস্ট ভিসায় আসা বিদেশি নাগরিকদের মনিটরিং করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইমিগ্রেশন শাখা। তার মতে, ভিন্ন ভিন্ন ডেস্ক পৃথকভাবে দায়িত্ব পালন করায় এবং সমন্বয় না থাকার কারণেই দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি নাগরিকদের সঠিক পরিসংখ্যান এবং তাদের ব্যাপারে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
সংশ্লিষ্টরা জানান, যখনই ভিসার মেয়াদ শেষ হয় তখন অনেক বিদেশিরা পাসপোর্ট ছিড়ে ফেলে। অবৈধ হওয়ার পর অসাধু মানুষের প্রশ্রয়ে তারা অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। ফলে গ্রেফতারের পরও তাদের সঠিক তথ্য না পাওয়ায় ফেরত পাঠাতে আইনি জটিলতায় পড়তে হচ্ছে। কারা সূত্র জানায়, মাদকের চোরাচালান, প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কারাগারে বন্দী আছেন প্রায় শতাধিক জন বিদেশি। এদের মধ্যে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে অতিরিক্ত দুই বছর জেল খাটছেন ৮০ জন।
সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন ভোরের ডাককে বলেন, কোন বিদেশি নাগরিকের সাজা শেষ হলে আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েকে জানাই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবার ফরেন মিনিস্ট্রিকে অবহিত করে। ফরেন মিনিস্ট্রি ওই দেশের (সংশ্লিষ্ট) দূতাবাসকে জানায়। সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস পুলিশ ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হন, ওই ব্যক্তি তার দেশের নাগরিক কিনা। তাদের দেশের হলে তারা ছাড়িয়ে নিয়ে যান। তবে অনেক বিদেশি নাগরিকের সাজা শেষ হওয়ার পরও জেল খাটছেন। কেননা, তার দেশের দূতাবাস তার আত্মীয় স্বজনের খোঁজ পাচ্ছেন না। এমন অনেক নাগরিক রয়েছে, সাজা শেষ হওয়ার পরও ৮-১০ বছর ধরে জেল খাটছেন। তিনি বলেন, সরকার এদের বসিয়ে রেখে খাওয়াচ্ছে। এছাড়া কোন উপায় নেই। আর আমরাও মানবিক হতে পারছি না, তাদের ছেড়ে দিতে পারছি না।
জানা গেছে, জেলে ভারতীয় নাগরিক বেশি রয়েছে। তারপর মায়ানমার। কারণ এই দুই দেশের সাথে বাংলাদেশের বর্ডার সীমানা রয়েছে। তবে বাস্তবতা এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে, বিদেশিদের মধ্যে কবে কার ভিসা শেষ হয়, কে কোথায় অবস্থান করছেন, কতদিন ধরে আছেন, কে কী করছেন তার কোনো কিছুই মনিটরিং করার ব্যবস্থাও নেই। আর বিদেশীদের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে এই যখন অবস্থা তখন সংশ্লিষ্ট অনেকেই আশঙ্কা করছেন বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা আরো ছাড়িয়ে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেলী ফেরদৌস ভোরের ডাককে বলেন, অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশিদের নিরাপত্তা দেয়া যেমন সম্ভব নয়, তেমনি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াও সম্ভব নয়। যদি না তাদের সংখ্যা ও অবস্থান জানা যায়। দেশের বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় জনগণের সহায়তায় অবৈধভাবে বসবাসকারীদের শনাক্তে চেষ্টা করা এবং ব্যবস্থা নেয়া হবে।  






« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি