আজ শুক্রবার, ৩ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ১৮ আগস্ট ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : গাজীপুরে মাছ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা       বার্সেলোনা হামলায় ১৮ দেশের নাগরিক হতাহত       ২০ আগস্ট পর্যন্ত হজ ভিসা আবেদনের সময় বৃদ্ধি       ‘বছর শেষের আগেই ক্ষমতা ছাড়বেন ট্রাম্প’       শ্রেণিকক্ষে স্বামীকে আটকে শিক্ষিকাকে গণধর্ষণ       ট্রাকের পেছনে মোটরসাইকেলের ধাক্কা : ৩ আরোহী নিহত       স্পেনে সন্ত্রাসীদের দ্বিতীয় হামলা ঠেকালো পুলিশ : নিহত ৫      
ওষুধের দাম লাগামহীন
কষ্ট বেড়েছে নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্তদের
Published : Sunday, 13 August, 2017 at 8:18 PM, Count : 35
বায়েজীদ মুন্সী : লাগামহীন ভাবে বেড়েই চলেছে জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দাম। একমাসের ব্যবধানে বিভিন্ন কোম্পানির ইনসুলিন, ক্যালসিয়াম ও চোখের ড্রপসহ প্রয়োজনীয় অনেক ওষুধের দাম বাড়িয়েছে বিক্রেতারা। আর এতে মহা বিপাকে পড়েছে ক্রেতারা। একদিকে জীবন বাঁচানোর প্রশ্ন অন্য দিকে বেশি দাম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবন রক্ষাকারী ওষুধের (অ্যাসেনসিয়াল ড্রাগ) তালিকা বৃদ্ধি না পাওয়া এবং ওষুধ নীতি ২০০৫ কার্যকর না হওয়ার সুযোগ নিয়েই ওষুধ কোম্পানিগুলো নিজেদের ইচ্ছামতো দাম নিয়ন্ত্রণ করছে। আর ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের মানুষকে।
রাজধানীর ধানমন্ডি, কলাবাগান, লালবাগ, শাহবাগ, আজিমপুর ও ফার্মগেট এলাকার বিভিন্ন ফার্মেসীতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত জুলাই মাসে নভো নরডিস্ক কোম্পানির উৎপাদিত মিক্সটার্ড-৩০ ইনসুলিন পাঁচটির এক প্যাকেট এক হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হলেও এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৪০০ টাকা বেড়ে দুই হাজার ৯৫ টাকায় বিক্রি করা হয়। আমেরিকার স্টিরিল কোম্পানির উৎপাদিত ১৫ মিলি. রিফ্রেশ টিয়ারস নামের চোখের ড্রপটির প্রতি ফাইল জুন মাসে ২২০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকায়। আট থেকে ৯ মাস আগেও ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট ক্যালবো ডি-এর কৌটা ছিল ১৫০ টাকা করে, কিন্তু তিন মাস ধরে ক্যালবো ডি-এর একই কৌটা বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকায়। বেক্সট্রাম সিলভার বিক্রি হতো ১৫০ টাকায়, চার মাস আগে থেকে তা বিক্রি হচ্ছে ২৮৫ টাকায়।
এদিকে, হঠাৎ করেই বেশ কয়েকটি ওষুধের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন রোগীরা। তাদের অভিযোগ, অল্পসময়ে ব্যবধানে কী করে ওষুধের দাম এতো বৃদ্ধি পায়।
ভুক্তভোগি কয়েজন ক্রেতা বলেন, ওষুধের দাম বাড়লে আমাদের মতো কম আয়ের মানুষগুলোকে খুবই বিপাকে পড়তে হয়। ওষুধ এমন এক প্রয়োজনীয় জিনিস যা রোগীকে বাঁচানোর তাগিদে কয়েকগুন বেশি টাকা দিয়ে হলেও কিনতে হয়। আর কোম্পানিগুলোও মানুষের সেবার কথা না ভেবে শুধু তাদের লাভের দিকটাই দেখছে। তাই ছলে বলে কৌশলে দাম বাড়িয়ে যাচ্ছে কোম্পানিগুলো।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের নাসিমা ফার্মেসীর মালিক কাজী হুমায়ুন কবির জনান, কোম্পানি তাদের ওষুধের দাম বাড়িয়েছে। তাই আমাদের কিনতে হয় বেশি দামে, এবং বিক্রি করতে হয় আরো বেশি দামে। কারণ লাভের জন্যইতো পুঁজি খাটিয়ে ব্যবসায় নেমেছি।
এদিকে ওষুধ কোম্পানিগুলো ইচ্ছা করে দাম বাড়িয়েছে এমন অভিযোগকে অবাস্তব বলে জানান ওষুধ শিল্প সমিতির মহাসচিব আবদুল মোক্তাদির। তিনি বলেন, আমাদের দেশে এখন সকল পন্যেরই দাম বেশি। ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত কাঁচামাল ও কেমিক্যালের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তৈরিতে ব্যয় বেড়েছে। তাই বাধ্য হয়ে ওষুধের দাম বাড়ানো হয়। আবার অনেক সময় ফার্মেসীর একশ্রেণির অসাধু লোকজনও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে বিক্রি করে।
অন্যদিকে, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর সূত্র জানায়, বাংলাদেশে এক হাজার ৪০০টি জেনেরিকের ২৭ হাজার ব্র্যান্ডের ওষুধ তৈরি করা হয়। এর মধ্যে কেবল ১১৭টি ওষুধের মূল্য সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এ বিষয়ে ফার্মাকোপিয়া বিশেষজ্ঞ ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দেশে একাধিকবার ওষুধনীতি প্রণয়ন করা হলেও তার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য বাস্তাবায়িত হয়নি। তাছাড়া বিভিন্ন অযুহাতে ব্যবসায়ীরা একের পর এক ওষুধের দাম  বাড়িয়ে চলছে। তিনি জানান, ওষুধশিল্প সমিতি ওষুধের দাম বৃদ্ধির জন্য ১৯৯৪ সাল থেকে টাকার অবমূল্যায়ণ, জ্বালানি তেল, দক্ষ জনশক্তির বেতন ভাতা, ডলার, কাঁচামাল ও মোড়কের দামের ব্যাপক বৃদ্ধিকে দায়ী করেছে। ওষুধ প্রশাসন থেকে প্রায়ই বলা হয়, ১১৭ টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম বাড়েনি। বাস্তবতা হলো অসংখ্য ওষুধের দাম বেড়েছে এবং তার সবগুলোই অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ। অতি সাধারণ অসহায় দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষকে কষ্টার্জিত পয়সা দিয়ে এসব ওষুধ কিনতে হয়। তিনি বলেন, ওষুধনীতির লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হলে শুধু রাজনৈতিক নয়, বৈজ্ঞানিক ও মানবিক দৃষ্টিকোন থেকেই করা দরকার।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি