আজ শুক্রবার, ৩ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ১৮ আগস্ট ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : গাজীপুরে মাছ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা       বার্সেলোনা হামলায় ১৮ দেশের নাগরিক হতাহত       ২০ আগস্ট পর্যন্ত হজ ভিসা আবেদনের সময় বৃদ্ধি       ‘বছর শেষের আগেই ক্ষমতা ছাড়বেন ট্রাম্প’       শ্রেণিকক্ষে স্বামীকে আটকে শিক্ষিকাকে গণধর্ষণ       ট্রাকের পেছনে মোটরসাইকেলের ধাক্কা : ৩ আরোহী নিহত       স্পেনে সন্ত্রাসীদের দ্বিতীয় হামলা ঠেকালো পুলিশ : নিহত ৫      
কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘাতকের ছোঁড়া বুলেটগুলো বিদ্ব হয় আমার শরীরে
Published : Sunday, 13 August, 2017 at 8:30 PM, Count : 41
কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘাতকের ছোঁড়া বুলেটগুলো বিদ্ব হয় আমার শরীরেএম.মিরাজ হোসাইন, বরিশাল থেকে : ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভয়াল কাল রাতে ঘাতকের বুলেটে ক্ষত-বিক্ষত হয়েও বেঁচে থাকা বরিশালের “ক্রিডেন্স ব্যান্ড” দলের অন্যতম সদস্য ডা. খ.ম জিল্লুর রহমানের এখনও সেই লোমহর্ষক দিনের কথা মনে হলে ভয়ে আঁতকে ওঠেন। সেই দিনের বিভিষিকাময় ঘটনার বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বারবার প্রিয় নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
সেই রাতের ভয়াল ও লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ঘাতকেরা এতই পাষাণ ছিল যে, তারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ছোট্ট শিশু সন্তান শেখ রাসেল ও আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর শিশু পুত্র সুকান্ত বাবু সেরনিয়াবাতকেও সেই দিন বাঁচতে দেয়নি। নির্মমভাবে তাদেরকে হত্যা করেছে। ডা. জিল্লুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার দীর্ঘবছর পরে হলেও বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের ফাঁসির রায় কার্যকর করেছেন। আরো যারা বিদেশে পালিয়ে রয়েছে তাদের ফিরিয়ে আনারও চেষ্ঠা অব্যাহত রয়েছে। এটা যেমন আমার কাছে ভাল লেগেছে, তার চেয়ে বেশি বেদনাদায়ক হচ্ছে-যে বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে এ দেশ স্বাধীন হতো না, আমরা বাংলাদেশ পেতাম না। সেই স্বাধীনতার স্থপতির খুনীদের বিচারে কেন এত বিলম্বিত হয়েছিলো।
একান্ত আলাপনে ১৫ আগস্ট ভোররাতে বঙ্গবন্ধুর বোনজামাতা মন্ত্রী আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের মিল্টো রোডের বাসায় ঘটে যাওয়া বিভিষিকাময় সেই দিনের বর্ননা করতে গিয়ে তিনি বলেন, একজন ঘাতক সৈনিক ড্রয়িং রুমের দরজায় দাঁড়িয়ে আমাদের লক্ষ্য করে ব্রাশ ফায়ার করে। একে একে অনেককেই লুটিয়ে পড়তে দেখে আমিও বাঁচার জন্য প্রাণপনে সৃষ্টিকর্তাকে ডাকতে থাকি। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার শরীরের নিচের অংশে অনেকগুলো গুলি লাগে (পরে জানতে পারি আমার শরীরে ১৩টি গুলি লেগেছিল)। এরপর আমি নিচে লুটিয়ে পড়ি। তখনো আমার জ্ঞানছিল। সবকিছু দেখতে পাচ্ছি। ওই সৈনিক একাই পরপর তিনটি অস্ত্র দিয়ে রুমের মধ্যে ব্রাশ ফায়ার করে। সবাই লুটিয়ে পড়ার পর অন্য একজন সৈনিক একটি রিভলবার নিয়ে রুমের মধ্যে প্রবেশ করে অনেকের মাথায় ঠেকিয়ে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। আমার ডান হাতে দুইটি ও বাম হাতে দুইটি গুলি করে। আজ আমি ১৭টি গুলির ক্ষতচিহ্ন নিয়ে বেঁচে আছি। ঘাতক সৈনিকরা রুম থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর কে যেন আমাকে টেনে হেঁচড়ে ড্রয়িং রুমের সোফার নিচে লুকিয়ে রাখে। যাদের গায়ে গুলি লাগেনি তারা ঘাতকরা চলে যাওয়ার পর পালিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ আমাদের রুমে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তার স্ত্রীর (শাহানারা বেগম) গায়েও গুলি লেগেছিলো। ওই সময় আমি হাসানাত ভাইকে চলে যেতে অনুরোধ করি। তখন তিনি ওই বাড়ি থেকে চলে যান। পরেরদিন সকালে তৎকালীন রমনা থানার ওসি এসে আমাদের সবাইকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
বরিশাল নগরীর বগুরা রোডের বাসিন্দা ডাঃ খ.ম জিল্লুর রহমান বলেন, তৎকালীন মন্ত্রী কামরুজ্জামান বরিশালে আসার পর “ক্রিডেন্স ব্যান্ড” দলের পক্ষ থেকে আমরা তাকে সংবর্ধনা দিয়েছিলাম। মন্ত্রী কামরুজ্জামান আমাদের ব্যান্ড দলের গানে মুগ্ধ হয়ে পুরো দলকে ঢাকায় যাওয়ার আমন্ত্রন জানান এবং আমাদের (শিল্পীদের) বেতারে গান গাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়ার আশ্বাস দেন। মন্ত্রীর আশ্বাসে আমরা ক্রিডেন্স ব্যান্ড দলের ১০ সদস্য ১৯৭৫ সালের ১৪ আগস্ট ঢাকায় গিয়ে বঙ্গবন্ধুর বোনজামাতা মন্ত্রী আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের মিণ্টো রোডের বাসায় উঠেছিলাম। আমাদের দলের নেতৃত্বে ছিলেন, বরিশাল অপসোনিনের বর্তমান পরিচালক আব্দুর রউফ খান নান্টু। তার নেতৃত্বে আমরা ব্যান্ড দলের সদস্যরা ১৪ আগস্ট বিকেলে আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায় একটি মিলাদেও অংশগ্রহণ করি। ওই খানে আমি (ডা. জিল্লুর) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে মিলাদের তবারক তুলে দিয়েছিলাম। জিল্লুর রহমান আরও বলেন, রাতে মন্ত্রী কামরুজ্জামানের বাসায় একটি শিশুর জন্মদিনে আমরা ব্যান্ডদল অংশগ্রহণ করি। ওই অনুষ্ঠানে আমাদের গান শুনে মুগ্ধ হয়ে অনেকেই তখন পুরস্কৃত করেছিলেন।
তিনি আরো বলেন, আমরা ক্রিডেন্স ব্যান্ডদলের সদস্যরা সেখান থেকে চলে এসে আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের বাসার নিচতলার ফ্লোরে ঘুমানোর আয়োজন করি। ১৫ আগস্ট ভোররাতে হঠাৎ গুলির শব্দে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। কিছুক্ষন, পরে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসেন রব সেরনিয়াবাতের জেষ্ঠ্যপুত্র আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। তিনি সবাইকে ভিতরের রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে চুপচাপ থাকতে বলে দোতালায় চলে যান। আমিসহ সকলে তখন ভয়ে কাতর হয়ে জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি বাহিরে বিপথগামী ঘাতক সেনা সদস্যরা অস্ত্র হাতে বাড়ি ঘিরে রেখেছে। অল্প সময়ের ব্যবধানেই নরপশু ঘাতকেরা আমরা যে রুমে প্রথম ঘুমিয়েছিলাম সেই রুমের কাঁচের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে ফাঁকা গুলি ছুঁড়ছে।
সাংবাদিক শহিদ সেরনিয়াবাত, মেয়ে বেবী সেরনিয়াবাত, ছেলে আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতী সুকান্ত বাবু সেরনিয়াবাত, ক্রিডেন্স শিল্পগোষ্ঠীর সদস্য আব্দুর নঈম খান রিন্টু। আহত হয়েছিলাম আমিসহ নয়জন। তারা হলেন, বেগম আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, শাহানারা বেগম, বিউটি সেরনিয়াবাত, হেনা সেরনিয়াবাত, আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের কনিষ্ঠ পুত্র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত, রফিকুল ইসলাম, ললিত দাস ও সৈয়দ মাহমুদ। জিল্লুর রহমান বলেন, সেই ভয়াল রাতের কথা আজও মনে পড়লে গা শিউরে ওঠে। রাতে মাঝেমধ্যে এখনো আঁতকে উঠি। বলেই কান্নায় ভেঙে পরেন সেই লোমহর্ষক দিনের প্রত্যক্ষদর্শী ডা. খ.ম জিল্লুর রহমান।









« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি