আজ বুধবার, ৪ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ১৭ জানুয়ারী ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : ৬ মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন দেয়ার নির্দেশ       ডিএনসিসির উপ-নির্বাচন স্থগিত       কলম্বিয়ায় সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত : নিহত ১০       রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তির বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের গভীর উদ্বেগ       উত্তরা মেডিকেলের ৫৭ শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রমে বাধা নেই       না.গঞ্জে ডাকাত সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত দুই       শাহজালালে ৩১৮ কার্টন সিগারেট জব্দসহ আটক ২      
৫০ বছর ধরে ডুলা হাতে আড়াইহাজারের ছালাম মোল্লা
Published : Sunday, 17 September, 2017 at 5:31 PM, Update: 17.09.2017 5:38:39 PM, Count : 206
৫০ বছর ধরে ডুলা হাতে আড়াইহাজারের ছালাম মোল্লানারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা : নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ব্রাহ্মণপাড়া এলাকার ছালাম মোল্লা (৭৬)। সে বয়সের ভারে ন্যুব্জ হলেও শরীরিরে নেই কোনো ক্লান্তির ছাপ। মুখে আনন্দের হাঁসি। পায়ে চলার শক্তিতে কিছুটা দুর্বলতায় হাতে রাঁশের কঞ্চি। তাতেই ভর করে তিনি ছোটে চলছেন মাইলের পর মাইল। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফেরি করে বিক্রি করছেন নিজের হাতের তৈরি ডুলা। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্ভর হতে চাচ্ছেন না। ২৫ বছর বসয় থেকেই তিনি এপেশায় যুক্ত হয়েছেন। বাবা-দাদার পেশার বেশ কদর করছেন তিনি।

একই পেশায় সংসার চালিয়েছেন ছালামের পূর্বপুরুষরাও। ডুলা বিক্রির আয় দিয়ে বিয়ে দিয়েছেন একমাত্র মেয়েকে। একমাত্র ছেলে অবশ্য এপেশায় আসেনি। তাই ছালাম মোল্লার শঙ্কা তার মৃত্যুর পর হয়তো এপেশা তার পরিবার থেকে উধাও হয়ে যাবে।

ছালাম মোল্লা জানান, তার বয়স যখন ২৫ চলছি ঠিক তখন থেকেই বাবা আরব আলীর হাত ধরে তিনি এপেশায় যুক্ত হয়েছেন। এরই মধ্যে বাবা চলে গেছেন না ফেরার দেশে। তবে অতিযন্তের সাথে ডুলা তৈরির এপেশা ধরে রেখেছেন তিনি। উপজেলার গোপালদী বাজার থেকে বাঁশ এনে বাড়িতে বসেই ডুলা তৈরির কাজ করছেন। একটি বড় আকারের বাঁশ দিয়ে ৩০টির মতো ডুলা তৈরি করা যায়। আকার ভেদে বিক্রি করা হচ্ছে ৩০ থেকে ৬০ টাকা। খরচ শেষে ডুলা প্রতি লাভ হয় ১০ থেকে ১৫ টাকা। প্রতিদিন তিনি থেকে ৬ থেকে ৭টি ডুলা তৈরি করতে পারেন। ডুলা তৈরিতে প্রয়োজন হয় বাঁশ। সৌন্দর্য্য বাড়াতে লাগে রংবেরংয়ের প্লাস্টিকের ফিতা। 

৫০ বছর ধরে ডুলা হাতে আড়াইহাজারের ছালাম মোল্লা
ছালাম বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা ডুলার জন্য তার বাড়িতে আসেন। তিনি নিজেও উপজেলার বিভিন্ন এলাকার হাটবাজারে ফেরি করে ডুলা বিক্রি করছেন। এর আয় দিয়ে এরই মধ্যে একমাত্র মেয়ে পিয়ারাকে বেশ ধুমধামের সাথে বিয়ে দিয়েছেন। এলাকায় বেশ কিছু সফলী জমিও কিনেছেন। একমাত্র ছেলে জজ মিয়া নিজেদের জমিতেই কৃষি কাজ করছেন। ছেলের আয়ের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে ৭৬ বছর বয়সেও তিনি ডুলা তৈরি করে বিক্রি করছেন। এতে তার আয় হচ্ছে তাতে স্ত্রী হিরন বিবিকে নিয়ে বেশ আনন্দেই দিন কাটছে তার। তবে আগের তুলনায় বিক্রিও অনেক কমে গেছে। 
স্থানীয় স্কুল শিক্ষক নজরুল জানান, একসময় বাজার করতে গেলেই প্রয়োজন হতো ডুলার। হাতে ডুলা নিয়ে গ্রামগঞ্জের মানুষ হাটবাজারে যেতেন। এখন হারিয়ে যেতে বসেছে ডুলার ব্যবহার। যত্রতত্র পলিথিনের ব্যবহারে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসম্য। সভ্যতার ক্রমবিকাশে ও চাহিদা কমে যাওয়ায় ধীরে ধীরে হয়তো এপেশাটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। 

ডুলা কারিগর স্থানীয় শংক চন্দ্রদাস বলেন, পুঁজির অভাব এবং কারিগর সংকটে এপেশা ছেড়ে অনেকে অন্যপেশায় চলে যাচ্ছেন। স্বল্প সুদে ঋণ পেলে ডুলা কারিগরদের সুবিধা হতো। ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে হলে অনেক জুটজামেলা পোহাতে হচ্ছে। এতে বাধ্য হয়ে অনেকে স্থানীয় (এনজিও) থেকে ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণ করছেন। উচ্চসুদ হওয়ায় অনেকে কিস্তি পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছেন। এতে এপেশায় অনেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি