আজ বুধবার, ৪ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ১৭ জানুয়ারী ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : ৬ মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন দেয়ার নির্দেশ       ডিএনসিসির উপ-নির্বাচন স্থগিত       কলম্বিয়ায় সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত : নিহত ১০       রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তির বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের গভীর উদ্বেগ       উত্তরা মেডিকেলের ৫৭ শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রমে বাধা নেই       না.গঞ্জে ডাকাত সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত দুই       শাহজালালে ৩১৮ কার্টন সিগারেট জব্দসহ আটক ২      
প্রতিবন্ধিতা জয় করলেন রাঙ্গুনিয়ার জাফর
Published : Saturday, 23 September, 2017 at 7:25 PM, Count : 129
প্রতিবন্ধিতা জয় করলেন রাঙ্গুনিয়ার জাফররাঙ্গুনিয়া সংবাদদাতা : কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে পা হারানোর পর বয়স্ক বাবা মা, তিন বোন ও দুই ভাইয়ের পরিবার নিয়ে কষ্টে পড়ে যান প্রতিবন্ধী আবু জাফর। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম লোক হিসেবে তিনি পরিবার চালান। পা হারানোর পর তাঁর আয় বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের ৭ সদস্যের খাবার জোগানো সহজ ছিলনা তাঁর মতো অক্ষম লোকের। তবে তার পায়ে শক্তি না থাকলেও জাফর মনের শক্তিতে প্রতিবন্ধকতা জয় করলেন। 

৮ বছর আগে কঠিন রোগে বাম পায়ে ক্ষত দেখা দেয় রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়নের আধুরপাড়া এলাকার আবু জাফর। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা জানান, তার বাম পা কেটে ফেলতে হবে। নইলে পুরো শরীরে পঁচন ধরবে। পা কেটে ফেলার পর চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে সেরে উঠেন তিনি। সুস্থ হলেও তিনি অনেকটা ঘরবন্দী ছিলেন। নিজের ও পরিবারের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন বাড়ির পাশে একটি পানের দোকান দিবেন। এলাকার লোকজনের সহায়তায় নিজের জমানো দুই হাজার টাকা দিয়ে শুরু করলেন ব্যবসা।

কিন্তু তাঁর চিকিৎসায় টাকা খরচ হয়ে যাওয়ায় পরিবারসহ অর্থকষ্টে পড়ে যান। পান বিক্রি করে লাভও তেমন হচ্ছেনা। কিছুদিন যাওয়ার পর তিনি চিন্তা করলেন এলাকার চাহিদা অনুযায়ী দোকানে মুদি পণ্য রাখবেন লাভ ও ভাল হবে। সে সময় তাঁর পাশে এসে দাঁড়ায় বেসরকারি সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর ওম্যান এমপাওয়ারমেন্ট এন্ড চাইল্ড রাইটস(এওয়াক)।

সংস্থার পক্ষ থেকে তাঁর হাঁটার সুবিধার জন্য দেয়া হলো কৃত্রিম পা ও ক্রেচ, সাথে  বিনা সুদে ১০ হাজার টাকা ঋণ। পরে বছর ২০ হাজার টাকা। তার এভাবে প্রতিবার বাড়তে থাকে তাঁর ঋণের অংক। বাড়তে থাকে তাঁর দোকানের লাভও। স্বাবলম্বী হলেন তিনি বিয়ে করলেন। দিব্যি চলে যাচ্ছে তার সংসার। 

জাফরের দোকানে গিয়ে দেখা যায়, স্বাভাবিক মানুষের মতো তিনি পণ্য পরিমাপ করছেন বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, পা হাঁরানোর আগে তিনি ফেরি করে আইসক্রীম বিক্রি করতেন। এখন তাঁকে আর ফেরি করতে হয়না। তাঁকে অনেকেই ব্যবসায়ী বলে ডাকে, তাঁর ভাল লাগে। বর্তমানে তাঁর দোকানে ৩ লাখ টাকার উপরে পন্য রয়েছে। বড় ধরনের কোনো সহায়তা পেলে তিনি চাউলের আড়ত দেবেন। পাইকারী দরে চাউল বিক্রি করবেন। 

এওয়াকের প্রকল্প কর্মকর্তা সমীর বড়ুয়া বলেন, রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকার ৯ জন নারী ও ৩২ জন পুরুষ প্রতিবন্ধী এওয়াকের সহায়তা পেয়ে এখন নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন। নারীদের প্রত্যেকেই সেলাইলের কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। পুরুষ প্রতিবন্ধীরা ক্ষুদ্র ব্যবসায় জড়িত রয়েছেন। তাঁরা অনেকটা স্বচ্ছল হয়েছেন।

এওয়াকের নির্বাহী প্রধান সফিউল আজম সিরাজী বলেন, এসব প্রতিবন্ধী নারী ও পুরুষকে বিনা সূদে ঋণ দিয়ে তাদের স্বচ্ছল করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী নারীরা সেলাই মেশিন কিনে কাপড় সেলাই করেন ও পুরুষ প্রতিবন্ধীরা ক্ষুদ্র ব্যবসা করছেন। এসব প্রতিবন্ধীদের আয় দিয়ে চলছে তাঁদের পরিবার।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, সরকারের পাশাপশি বেসরকারি সংস্থা প্রতিবন্ধী নারী ও পুরুষদের স্বাবলম্বী হওয়ার দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন। প্রতিবন্ধীদের এই সাফল্যে এলাকাবাসীদের জন্য অনুপ্রেরণার। 


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি