আজ বৃহস্পতিবার, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : মুক্তিযুদ্ধের ন্যায় রোহিঙ্গা সংকটেও সারা বিশ্বের সমর্থন পেয়েছি : প্রধানমন্ত্রী       শৃঙ্খলাবিধির ফলে ন্যায়বিচার কালের গর্ভে হারিয়ে যাবে : রিজভী       দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান : প্রধানমন্ত্রী       থার্টি ফার্স্টে বন্ধ থাকবে বার, বৈধ অস্ত্র বহন নিষিদ্ধ       মগবাজার ফ্লাইওভারে চলন্ত বাসে আগুন       রাজধানীতে সেলুনে বিস্ফোরণে দগ্ধ ৩       'আজেবাজে জিদ' করেন না মাশরাফি      
ব্লু হোয়েল আসক্তির সন্দেহ
ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঢামেকে কিশোর ভর্তি
Published : Friday, 13 October, 2017 at 10:36 PM, Count : 93
স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর মিরপুরে ২৭টি ঘুমের ওষুধ খেয়ে অসুস্থ হওয়া ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে ঘটনাটি ঘটে। বর্তমানে ওই কিশোর ঢামেকে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার পরিবারের ধারণা, ওই কিশোর ‘ব্লু হোয়েল’ খেলায় আসক্ত ছিল। সে খেলাটি সম্পন্ন করার জন্য আত্মহত্যা করতে ঘুমের ওষুধ খায়। এতে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। চিকিৎসকরা বলছেন, কিশোর ঘুমের ওষুধ খেলেও ঠিক কি কারণে খেয়েছে তা তারা এখনো নিশ্চিত নয়। অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট। প্রাথমিক তদন্তে কিশোরের ঘুমের ওষুধ খাওয়ার পেছনে ব্লু হোয়েল খেলার সম্পৃক্ততা পায়নি তারা।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢামেক নতুন ভবনে কিশোরটির মা বলেন, ছেলেটি মিরপুরের একটি স্কুলে ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে ইন্টারনেট ও কম্পিউটার ভালো বুঝে। গত কোরবানির ঈদের আগ থেকে ছেলেটি তাদের সঙ্গে অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে। কোনো কারণ ছাড়াই রেগে যেত, অন্ধকার রুমে একা একা থাকত, গভীর রাতে বাসার ছাদে যেত, না খেয়েই মাইলকে মাইল হাঁটত,  নেশা হয় এমন সিরাপ (কাশির) খেত, সিগারেট খেত, এমনকি বাবা-মা’র গায়ে পর্যন্ত হাত তুলতো। বিষয়টি নজরে আসার পর তারা তাকে একজন মানসিক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। এতেও সে ভালো হচ্ছিল না। অবশেষে সে গত মঙ্গলবার বিকেলে ২৭টি ঘুমের ওষুধ খায়। বিষয়টি নিয়ে অনেকের সাথে আলোচনা করে, ছেলেকে জিজ্ঞেস করে ও তার কম্পিউটার খেটে বুঝা যায়, সে ব্লু হোয়েল খেলায় আসক্ত। ব্লু হোয়েল গেইমের এডমিনের নির্দেষে সে আত্মহত্যা করতে ঘুমের ওষুধ খায়। তাকে জোর করে খাওয়াতে চাইলে সে বলতো, পৃথিবী আমার ভালো লাগে না, আমি বাঁচতে চাই না, মরে যেতে চাই!  
ঢামেকে ওই ছাত্র সাংবাদিকদের বলে, দেড়মাস আগে মালয়েশিয়ার এক ফেসবুক বন্ধু থেকে ব্লু হোয়েল গেমসের সংবাদ পাই। কৌতূহলবশত ‘ডার্ক ওয়েব’ থেকে ‘ব্লু হোয়েল’ গেমের লিংক বের করি। এরপর খেলতে থাকি। তখন গেমটির ইন্সটাকশন (দিকনিদের্শনা) পড়ে আমি জানতে পারি, এই গেম খেলার পরিণতি মৃত্যু। প্রথমে আমাকে খুব সহজ সহজ শর্ত দেয়া হয়। তখন শর্তগুলো আমার বেশ মজা লাগছিলো। পরে আস্তে আস্তে চ্যালেঞ্জিং হওয়ায় আমি গেমটি এগিয়ে নিয়ে যাই। অনেকগুলো স্টেপ সম্পন্ন করতে না চাইলে এডমিনরা অপমান করে কথা বলতো, বোকা। তাই চ্যালেঞ্জগুলো পার করতাম। এভাবে যখন আমি ১১ নম্বর স্টেপে যাই তখন তারা আমার হাত কেটে তাদেরকে ছবি পাঠাতে বলে। আমি হাত কেটে ছবি পাঠালেও তাতে তারা সন্তুষ্ট হতো না। তারা আমাকে বকাবকি করতে থাকে এবং আরো কঠিন শর্ত দিতে থাকে। তারা আমাকে বাসার সিঁড়ির  রেলিং দিয়ে হাঁটতে বলে। এটি না করলে আমাকে অপহরণ করবে বলে জানায়। তবুও আমি তাদের এসব শর্ত পূরণ করতে পারছিলাম না। তখন গেমটি আনইন্সটল করতে চাই। তবে কিছুতেই হচ্ছিলো না। পরে মোবাইলটি ভেঙে ফেলি এবং ঘুমের ওষুধ খাই।
তার দাবি, গেমটির প্রতি তার এখন কোনো ইন্টারেস্ট (আগ্রহ) নেই। বাংলাদেশের আর কেউ এই গেমটি খেলতে পারবে না। কারণ এর লিংকটি ডার্ক ওয়েব থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে যারা এখনো গেমটি খেলছে তাদের মৃত্যু অবধারিত। তাকে এই গেম অনেক পেইন দিয়েছে।
ওই কিশোর চিকিৎসক ও তার মাকে বলেছে, আম্মুকে বলেছিলাম এখানে আনলে আমি ভালো হবো না। তাও আমাকে নিয়ে এসেছে। আমি নিজেই নিজেকে স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসবো।
বিষয়টি জানার পর গতকাল দুপুরে ঢামেক হাসপাতালে যান ডিএমপি’র সাইবার ক্রাইম ইউনিটের  এডিসি নাজমুল ইসলাম। এ সময় তিনি কিশোরের কাছ থেকে বিষয়টি জানেন।
জানতে চাইলে নাজমুল ইসলাম বলেন, ব্লু হোয়েল খেলায় আসক্ত হয়ে ওই কিশোর এমনটি করার প্রমান পাওয়া যায়নি। তার হাতে যে দাগ পাওয়া গেছে তা সে মানসিক কোন বিষয় নিয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে এমনটি করেছে। তবে সে যে ডেস্কটপটি ব্যবহার করতো তা জব্ধ করে পরীক্ষা করা হতে পারে বলে জানান তিনি।
কিশোরটির মা বলেন, তার ছেলে পুলিশ ও অনেককে বলেছে, এই গেমটি অনেক ছড়িয়ে পড়েছে। তার পরিচিত তিনজনও এই খেলায় আসক্ত।
ঢামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্টার ডাঃ মুক্তাদির ভূঁইয়া বলেন, ওই কিশোরকে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এরপর থেকে সে ভর্তি আছে। তার পরিবারের কাছ থেকে জানতে পারি, সে ব্লু হোয়েল গেমে আসক্ত হয়েছিল। সেখান থেকে রক্ষা পেতে সে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে ফেলে। ওষুধের পাশর্^প্রতিক্রিয়ায় তার কয়কটি সমস্যা দেখা দিয়েছে। তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিলো। এখন অনেকটা ভালো। তাকে ঢামেকের মনোচিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। তারা দেখেছেন। আগামীকাল শনিবারও মানসিক চিকিৎসক তাকে দেখবেন।



« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি