আজ বুধবার, ৩ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ১৮ অক্টোবর ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : ৩৬তম বিসিএসে ২৩২৩ জনকে নিয়োগের সুপারিশ       জবি ছাত্রলীগের নতুন কমিটি: সভাপতি তরিকুল সম্পাদক রাসেল       কাল শেখ রাসেলের ৫৩তম জন্মদিন       বুধবার ঢাবির ‘ক’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ       সুপ্রিম কোর্টের নতুন রেজিস্ট্রার জেনারেল জাকির হোসেন       নারায়ণগঞ্জে ধর্ষণ মামলার যুগান্তকারী রায়       পুরান ঢাকায় এম কে টাওয়ারে আগুন      
২৯ বছর বেতন-ভাতা বঞ্চিত ৩৫ হাজার ইবতেদায়ী শিক্ষক
Published : Friday, 13 October, 2017 at 10:46 PM, Count : 42
নাজিউর রহমান সোহেল : দীর্ঘ প্রায় পৌনে তিন যুগ ধরে বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকরা। সরকারি সুযোগ-সুবিধা না পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষক। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদ্রাসা বিভাগ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নামমাত্র সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা পর্যায়ক্রমে রেজিস্ট্রার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো জাতীয়করণ করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এজন্য সরকার একটি নীতিমালা করতে সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘ ৩৩ বছর পর ভাগ্য খুলতে যাচ্ছে ইবতেদায়ী পর্যায়ের এসব শিক্ষকদের।
জানতে চাইলে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের মাদ্রাসা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) একেএম জাকির হোসেন ভূ্ঞাঁ বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে স্বতন্ত্র মাদ্রাসা শিক্ষকরা নানা ধরণের সরকারি সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত রয়েছেন। অনেক মাদ্রাসার শিক্ষক বেতন-ভাতা পর্যন্ত পান না। আবার এসব মাদ্রাসা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সরকারি কোন নীতিমালাও নেই। সরকারি সুযোগ সুবিধা দেয়ার জন্য তো একটি নীতিমালা দরকার। এ কারণেই নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ সূত্র জানায়, মাদ্রাসা স্থাপন, মঞ্জুরী, কমিটি গঠন, শিক্ষক নিয়োগ, পরিচালনা ও এমপিওভুক্তিকরণসহ জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ এর আলোকে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুযোপযোগী, আধুনিকায়ণ ও কর্মমুখী করে গড়ে তোলার জন্য বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রণীত ইবতেদায়ী স্তরের খসড়া নীতিমালা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধন/সংযোজন/ বিয়োজন/ পরিমার্জন পূর্বক নীতিমালা চূড়ান্ত করবে কমিটি। কমিটির সদস্য করা হয়েছে- মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, মাদ্রাসা অধিদফতরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধি, যুগ্ম সচিব (প্রসাশন, কারিগরি ও মাদ্রাসা), পরিচালক ব্যানবেইস, উপসচিব (মাদ্রাসা), মাদ্রাসা বোর্ডের কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের মহাসচিব, সিনিয়র সহকারী সচিব/সহকারী সচিব (মাদ্রাসা শাখা-১), বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্য পরিষদের মহাসচিব, সিনিয়র সহকারী সচিব/সহকারী সচিবকে (মাদ্রাসা শাখা-২) সদস্য সচিব করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৮৪ সালে ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষা শুরু হয়। প্রথমে বিনা বেতনে মাদ্রাসার কার্যক্রম চালু করা হয়। মাদ্রাসা বোর্ডের দেয়া তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে ৬৯৯৮টি স্বতন্ত্র মাদ্রাসা রয়েছে। তবে ২০১৬ সালের ব্যানবেইসের হিসাবে এ সংখ্যা ৩৪৩৩টি, অনুদানপ্রাপ্ত মাদ্রাসার সংখ্যা ১৫১৯টি, এসব মাদ্রাসায় ১৫২৪৩ জন শিক্ষক এবং ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৫১ হাজার ৯৯৭জন। ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, সবমিলে সারা দেশে বোর্ডের স্বীকৃতি পাওয়া মাদ্রাসার সংখ্যা ১৫ হাজারের মতো। এদের মধ্যে অর্ধেকের মতো রয়েছে যাদের কোড ও ইআইআইএন নম্বর নেই।
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকরা জানান, ১৯৮৪ সালে ৭৮ অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে স্বতন্ত্র মাদ্রাসা নিবন্ধনপ্রাপ্ত হয়। তখন থেকে এসব মাদ্রাসার শিক্ষকরা সরকারের নিয়মনীতি অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো শিক্ষার্থীদের বিনাবেতনে পাঠদান করে আসছেন। ১৯৯৪ সালে একই পরিপত্রে রেজিস্টার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তিতে সরকার রেজিস্টার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধি করে। বর্তমান সরকার ২০১৩ সালে ২৬ হাজার ১৯৩টি স্কুর জাতীয়করণ করে। কিন্তু সেই তুলনায় বেতন না বাড়ায় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তারা আরও জানান, ১৯৯৪ সালে সকল স্বতন্ত্র মাদ্রাসায় কর্মরত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা প্রদানের সিদ্বান্ত থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। ২০১৩ সালের ২২ জানুয়ারী ১৫১৯টি মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ৫০০ টাকা থেকে ১০০০টাকা করা হয়। বর্তমানে ওই সব মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ১০০০টাকা থেকে ২৫০০ টাকা এবং সহকারী শিক্ষকদের বেতন ২৩০০টাকা করা হয়েছে। তবে বাকি মাদ্রাসার শিক্ষকরা ২৯ বছর ধরে বেতন ভাতা বঞ্চিত। প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় জাতীয় কারিকুলাম অনুযায়ী একই ভাবে পাঠদান করা হলেও মাদ্রাসার শিক্ষকা সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত। তাদের দাবি আদায়ে দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। দাবি আদায়ে শিক্ষক নেতারা গত বছরের ২১ আগস্ট প্রাথমিক ও গণ শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। সমস্যা সমাধানে মন্ত্রণালয় ওই দিন একটি ওয়ার্কি কমিটি গঠন করে। এতদিন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ছিলো। গত ১৪ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে পরিচালিত হওয়ার আদেশ জারি করা হয়েছে। এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা।
এদিকে, শিক্ষকরা দাবি আদায়ের জন্য গত ২৯ আগস্ট কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিবের সঙ্গে বৈঠক করে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেছেন। দাবিগুলো হলো- প্রাথমিক শিক্ষকদের মতো মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণ। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার জন্য আলাদা নীতিমালা ২০১৫ অনুমোদন, কোড নম্বর বিহীন মাদ্রাসাগুলোকে কোড নম্বর প্রদান, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা পাঠদানের অনুমতি/স্থগিতাদেশ ২০০৮ প্রত্যাহার, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক রেজিস্ট্রেশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি প্রতিষ্ঠানে পাঁচ জন শিক্ষক পুনর্বহাল, প্রাথমিক স্কুলের মতো স্বতন্ত্র মাদ্রাসার জন্য আলাদা ভবন নির্মান, প্রাথমিকের শিক্ষকদের মতো মাদ্রাসার শিক্ষকদের পিটিআইএর মাধ্যমে ট্রেনিংএর ব্যবস্থা করা, প্রাধমিকের মতো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা স্থায়ী রেজিস্ট্রেশন করা। এসব দাবি বাস্তবায়নের জন্যই মন্ত্রণালয় একটি চূড়ান্ত নীতিমালা করতে কমিটি গঠন করে দিয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষক সমিতির মহাসচিব কাজী মোখলেছুর রহমান বলেন, নীতিমালা তৈরিতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেখানে আমিও ছিলাম। এখন কথা হচ্ছে যত নীতিমালা করুক না কেন, ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোকে জাতীয়করণ করতে হবে। এটা আমাদের একদফা এক দাবি। আগামী ৩১ ডিসেম্বররের মধ্যে জাতীয়করণের ঘোষনা না আসলে পরদিন সংবাদ সম্মেলন করে কঠোর থেকে কঠোর কর্মসূচী দেয়া হবে।  
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্য পরিষদের মহাসচিব ও নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির সদস্য মো. শামছুল আলম বলেন, অন্যান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য নীতিমালা থাকলে আমাদের কোন নীতিমালা নেই। নীতিমালার অভাবে আমরা সরকারি সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছি। ২০১২ সাল থেকে নীতিমালা করার জন্য দাবি জানিয়ে আসছি। আমাদের দাবির প্রেক্ষিতে ২০০১৫ সালে একটা খসড়া নীতিমালা তৈরি করা হলেও তা অনুমোদন হয়নি। নীতিমালা চূড়ান্ত করার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় কর্মরত কয়েক হাজার শিক্ষক সরকারি কোন সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন না। নীতিমালা হলে সকলে সরকারি সুযোগ সুবিধা পাবেন এবং বেতন বৈষ্যম দূর হবে বলে তিনি আশা করেন।






« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি