আজ বুধবার, ৪ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ১৭ জানুয়ারী ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : ৬ মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন দেয়ার নির্দেশ       ডিএনসিসির উপ-নির্বাচন স্থগিত       কলম্বিয়ায় সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত : নিহত ১০       রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তির বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের গভীর উদ্বেগ       উত্তরা মেডিকেলের ৫৭ শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রমে বাধা নেই       না.গঞ্জে ডাকাত সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত দুই       শাহজালালে ৩১৮ কার্টন সিগারেট জব্দসহ আটক ২      
রোহিঙ্গা সম্পার্কে মিয়ানমার সেনাপ্রধানের বক্তব্য সত্যের অপলাপ
Published : Friday, 20 October, 2017 at 11:51 AM, Count : 171
রোহিঙ্গা সম্পার্কে মিয়ানমার সেনাপ্রধানের বক্তব্য সত্যের অপলাপভোরের ডাক : মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইয়াং বলেছেন, রোহিঙ্গা মুসলিমরা মিয়ানমারের জনগোষ্ঠী নয়।তিনি মিয়ানমারে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত স্কট মার্সিয়েলের সঙ্গে ইয়াংগুনে (রেঙ্গুন) এক বৈঠকে এই উক্তি করেন মিয়ানমার সেনাপ্রধানের এ ধরনের বক্তব্য মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাঁর এই বক্তব্য সত্যের অপলাপ বৈ আর কিছু নয়।

কেননা  সপ্তম শতাব্দি থেকে  রোহান অথবা রোহাঙ্গ নামক মুসলিমরা রাজধানী আকিয়াবসহ (বর্তমান নাম “ছিটউই”) আরাকান প্রদেশের উত্তরাঞ্চলে বসতি স্থাপন করেন।রাখাইন (আরাকান) প্রদেশের রোহিঙ্গারা প্রাচীন কালের রোহানদের সাথে রক্তের সম্পর্ক রয়েছে।রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে বসবাস করে আসছে।

আরাকানে রাখাইনদের পরেই মুসলমানদের অবস্থান। মুসলিমরা ৪টি গ্রুপে বিভক্ত। যেমন তাম্মুকিয়াস, তুর্কি-পাঠান, কামানচিস এবং রোহিঙ্গা।তাম্বুকিয়াসরা অষ্টম শতাব্দি থেকে আরাকানে বসবাস করছে রাজা মাহা তায়েঙ্গ চন্দ্রের আমলে (৭৮৮-৮১০)। তুর্কি-পাঠান জনগোষ্টিকে আরাকানের শহরতলীতে দেখতে পাওয়া যায়। আরাকানের রাজা মং-স মওন ওয়ার নরমেখলার আমলে (১৪০৩-৩৩) তাম্বুকিয়ারা আরাকানে বসবাস  শুরু করে।

আরাকানে কামানচিষদের বসবাস(১৬৩৯-৫৯) সন থেকে।এককালের স্বাধীন-সার্বভৌম আরাকান প্রদেশে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বসবাস বেশি।তারা ধর্মে মুসলমান,  তাদের রয়েছে পৃথক সংস্কৃতি ও সভ্যতা।মিয়ানমারের আরাকান প্রদেশে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বসবাস করে ও আরাকানের মুসলমানরা আজো পরদেশী। তাই আরাকানে মুসলমানদের এখন খুবই দুর্দিন। আরাকানের মুসলমান, যারা রোহিঙ্গা অথবা কামান্স নামে পরিচিত তারা নাজুক পরিস্থিতির সম্মুক্ষীন। জাতিগত শুদ্ধি অভিযান এখন মিয়ানমার  স্বৈর সামরিক জান্তার নীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।আরাকানের ২০ লাখের ও বেশি মুসলমানদের বিতাড়িত করার মিয়ানমার সামরিক স্বৈরশাসকদের পরিকল্পনা  রয়েছে বলে জানা যায়। 
 
রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের জনগোষ্ঠী ছিলনা বলে প্রধান সেনাপতি মিন অং হ্লাইয়াং যে উক্তি করেছেন তা সর্বৈব মিথ্যা।কেননা আরাকানের পাঁচটি নদী লেম্ব্র, মিঙ্গান, কালাডন, মায়ূ ও নাফ নদীর তীরের  মংডু, বুচিডং, রাসিডং  প্রভৃতি এলাকায় রোহিঙ্গা বসতি গড়ে ওঠে বহুদিন থেকে।তাছাড়া কালাডান ও মায়ূ নদীর  তীরবর্তী চন্দনা, মিউরকুল, কাইনি পেরাং, কাইমপেরাং, সোলিং পেরাং, টংফরু, ডবে আফকানচান, কেরী, কাজীপাড়া, ওেদা, রোহিঙ্গাপাড়া, রমজুপাড়া, আমবাড়ী, বাহারপাড়া, লখনৌপাড়া, টংটং, মিরং, ফুলওয়ারী, পালওয়ানপাড়া, মেয়কটং, মচ্ছারী, অংপেরাং, রাজারবিল, রৌশন পেরাং, জোপেরাং, ছমিলা, রোহিঙ্গাডং, আলীখং, মিনজং, ছুয়েক্রংডং, মরুছং খোয়াংছং, লোয়াংডং প্রভৃতি এলাকায় মুসলমানরা বহুদিন থেকে বসবাস করে আসছে।

মিয়ানমার ও আরাকানে আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রচলন, বহির্বাবাণিজ্য, সেনা ও নৌবাহিনী গঠন ও আধুনিক মুদ্রা চালুর ক্ষেত্রে মুসলমানদের বিশেষ অবদান রয়েছে।১৪৩০ সনের আগে আরাকানে কোন আধুনিক মুদ্রা ছিলনা।মুসলমানরাই আরবী ও বাংলা ভাষা খচিত মুদ্রা চালু করতে আরাকানের রাজাকে সহায়তা করে।বর্মী রাজা মিনডং-এর (১৮৫৩-১৮৮৭) শাসনামলে মিয়ানমার সেনাবাহিনীতে হাজার হাজার মুসলমান নিযুক্ত ছিল।১৪৩০ থেকে ১৬৮৪ সন পর্যন্ত ২৫৪ বছর আরাকানের রাজাদের দরবারে মুসলমান সভাসদদের প্রভাব ও আধিপত্য ছিল।এমনকি  মুসলমানদের মধ্য হতে প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা সচিব, পদস্থ রাজকর্মচারী নিযুক্ত করা হতো।একজন মুসলমান আরাকান রাজার প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হয়েছিলেন।এ সময় আরাকানের প্রতিরক্ষা বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন লস্কর উজির।তিনি আরাকানের প্রতিরক্ষায় অশ্বারোহী বাহিনী গঠন করেন।প্রমাসন ও বিচার বিভাগ পরিচালনা করতেন মুসলমান কাজী।যেমন আশরাফ খাঁ আরাকান রাজ থিরি থুধম্মার (১৬২২-১৬৩৮) লস্কর উজির ছিলেন।বড়ঠাকুর আরাকানরাজ নরপতিগ্যির (১৬৩৮-১৬৪৫) সমরসচিব ছিলেন।বড় ঠাকুরের পুত্র মাগন ঠাকুর আরাকান রাজা নরপতিগ্যি (১৬৩৮-১৬৪৫), থদোমিন্তা (১৬৪৫-১৬৫২) এবং সান্দথুঠম্মা (১৬৫২-১৬৮৪০) এই নি রাজার আমলে ঈস্খথমে মন্ত্রী ও পওে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হয়েছিলেন।সৈয়দ মুসা আরাকান রাজা সান্দথুধম্মার (১৬৫২-১৬৮৪) প্রধান নিযুক্ত হন।তিনি সিলট বিজয়ী সৈয়দ নাসিরউদ্দিন সিপাহসালারের বংশধর এবং হবিগঞ্জের তরফ পরগনার রস্করপুর গ্রামের অধিবাসী।নবরাজ মজলিস আরাকান রাজ্যেও প্রধান চিলেন।সৈয়দ খান আরাকানরাজ সান্দথুধম্মার প্রধান সেনাপতি ছিলেন।সোলায়মান  রাজা সান্দথুঠম্মার অর্থমন্ত্রী ছিলেন।বোরহানউদ্দিন থদোমিন্তার সমরমন্ত্রী ছিলেন। পাগানের গভর্নর  ছিলেন একজন মুসলমান।

মিয়ানমারের রাজনীতিতেও রোহিঙ্গা মুসলমানদের অবদান অনস্বীকার্য।  ১৯৫১ ও ১৯৫৬ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে মিয়ানমার পার্লামেন্টে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ১১ জন সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।১৯৯০ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে মুসলমানরা অং সান সুচির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসী (এনএলডি)-এর মিত্র ছিল এবং ৪ জন সদস্য নির্বাচিত হয়েছিল বেলে বিভন্ন সূত্র থেকে জানা যায়।

২০ হাজার বর্গমাইল এলাকা সম্বলিত রাখাইন (আরাকান) কখনো সাংস্কৃতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিকভাবে মিয়ানমারের অংশ ছিল না। ১৮২৪ সনে বৃটিশ-বার্মা যুদ্ধে আরাকান বৃটিশ ভারতের অন্তর্ভূক্ত হয়।রাখাইন (সাবেক আরাকান, রোহাঙ্গ, রোশাঙ্গ, রাখাইন, রাখ্যাপুরা) মিয়ানমারের  উত্তর পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের উপকূলে অবস্থিত।বর্মিরাজা বুদাপাওয়া কর্তৃক ১৭৮৪ সনে মিয়ানমারের সাথে সম্পৃক্ত করার আগ পর্যন্ত  আরাকান স্বাধীন ছিল। কিন্তু ১৯৪৮সনের ৪ জানুয়ারী  মিয়ানমারকে স্বাধীনতা প্রদানকালে বৃটিশ সরকার আরাকানকে স্বায়ত্বশাসনসহ মিয়ানমারের সাথে সংযুক্ত করে দিয়ে যায়।এভাবে  আরাকানের সার্বভৌমত্ব  রেঙ্গুনের কাছে ন্যস্ত হয়।জাতিসংঘের 1514-xv প্রস্তাব মোতাবেক  আরাকানের সার্বভৌমত্ব বার্মা ইউনিয়নের কাছে ন্যস্ত করা ছিল অবৈধ।

মিয়ানমারের তদানিন্তন সেনাপ্রধান জেনারেল নে উইনের সামরিক সরকার ১৯৬২ সালে আরাকানের স্বায়ত্ত্ব শাসন রহিত করে এবং মুসলমানদের বহিরাগত হিসেবে গণ্য করে। তাদেরকে শুধু দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিণত করেনি, বরং মুসলমানদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন বৃদ্ধি করে, যাতে মুসলমানরা সে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়, যা আজো অব্যাহত আছে। ১৯৬২ইং সনে জেনারেল নে উইন কর্তৃক মিয়ানমারকে সামরিকীকরন ও মিয়ানমারিকরণ শুরু হওয়ার পর থেকেই  বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ঘৃণা ছড়িয়ে দেয় এবং মুসলমানদের  ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং চলাচলের  ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয। 

মিয়ানমার সামরিক সরকার মুসলমানদের বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে তাদেরকে সেখানে অবস্থান করতে দিতে অস্বীকার করে।মিয়ানমারের সামরিক সরকার ও সাধারণ নাগরিকরা গড়ে সবাই মুসলমানদের “কালাহ” বা বিদেশী বলে আখ্যায়িত করে। প্রকৃতপক্ষে আরাকানী মুসলমানরা বিগত ১৪০০বছর এই অঞ্চলের সংস্কৃতির সাথে সম্পৃক্ত।রোহান বা রোহাঙ্গ নামে পৃথিবীতে অন্য কোন স্থান বা এলাকা নেই।

সেই সময় থেকে কোন মুসলমানকে মিয়ানমার সরকারের উচ্চ পদে নিয়োগদান করা হয়নি, এবং সরকারী চাকরিতে নিযুক্ত অনেক মুসলমানকে বরখাস্ত করা হয়।মিয়ানমার নাগরিকদের পরিচয়ের জন্যে সরকারের পক্ষ হতে সাধারণ নাগরিকদের গোলাপী রংয়ের পচিয়পত্র দেয়া হয়।কিন্তু দুঃখজনক হলে ও সত্যি যে, মুসলমানদের সাদা রংয়ের অস্থায়ী নাগরিক পরিচয়পত্র দেয়া হয়।মুসলমানদের নাগরিক অধিকার ও সীমিত করা হয়। কোন মুসলমানকে বাসস্থান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ এবং এক শহর থেকে অন্য শহরে যাতায়াত করতে দেয়া হয়না। আরাকানে মুসলমানদের বাজার করার ও সুযোগ দেয়া হয়না।মিয়ানমারের কলেজ, ইনষ্টিটিউট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে উচ্চ শিক্ষা লাভের ক্ষেত্রে মুসলমান ছাত্ররা প্রতিবন্ধকতার সম্মূখীন হয়।

সরকারী চাকরির ক্ষেত্রে ও একই বৈষম্য বিদ্যমান।সরকার রোহিঙ্গাদের মসজিদসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জায়গা-জমি কোন কারণ দর্শানো ব্যতিরেকেই দখল করে নেয়া নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।বিভিন্ন কারণে সামরিক জান্তা মুসলমানদের বাড়ী-ঘর এবং তাদের জমি-জিরাত ত্যাগ করতে বাধ্য করে।

২০০১ সনের প্রথমার্ধ মুসলিম-বৌদ্ধ জাতিগত দাঙ্গা হিসেবে চিহ্নিত।২০০১ সনের ৪ জানুয়ারী আরাকানের রাজধানী ছিটউইয়ে (আকিয়াব) মুসলিম বিরোধী দাঙ্গা সংঘটিত হয়।দাঙ্গা চলাকালে নিরীহ মুসলিম যুবক এবং অসহায মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়।এই দাঙ্গায় ১৫০০ জন গুম এবং ১০০০ লোক আহত হয।মুসলমানদের মালিকানাধীন ২ হাজার ঘর-বাড়ী জ্বালিয়ে দেয়া হয় এবং ৩৭টি মসজিদ ধ্বংস করা হয়।

তাছাড়া বহু ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং জনসাধারণের সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।একই বছর ১৬ মে বাগা বিভাগে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে।এতে ৪জন বিশিষ্ট মুসলিম নেতাসহ কমপক্ষে একশত মুসলমান নিহত হয়।২০টি মসজিদ এবং হাজার হাজার বাড়ীঘর এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।ঐ বছর মুসলিম বিরোধী দাঙ্গা অন্য আরো ৩টি জেলায় বিস্তৃত হয়ে পড়ে।ঐ দাঙ্গায় ৩শ’ লোক নিহত এবং অপর ১০ হাজার লোক গৃহহীন হয়ে পড়ে।এসব দাঙ্গায় সরকারী সংশ্লীষ্টতার সুষ্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়।তাছাড়া মিয়ানমারের ইউনিয়ন সলিডারিটি এন্ড ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশন-এর সদস্যরাও সন্নাসী বেশে এসব দাঙ্গায় ইন্ধন যোগায়।দাঙ্গা দমনে বিলম্বে গৃহিত সরকারী পদক্ষেপ ছিল নেহায়েতই লোক দেখানো এবং খুবই নগন্য।আরাকানের রাজধানী ছিটউইয়ে অগ্নিদগ্ধ কতিপয় বাড়িঘর স্থানীয় থানার একশ’ মিটারেরও কম দুরত্বের মধ্যে অবস্থিত।

প্রমাণ পাওয়া যায় যে, সামরিক সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ মুসলমানদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে। ফলে কারেন প্রদেশের হ্যাপ-আ-য়েন জেলা থেকে পালিয়ে যাওয়া মুসলিমরা থাইল্যান্ডস্থ শরনার্থী শিবিরে আশ্রয় গ্রহন করে।তারা জানায় মিয়ানমার সেনাদের হাতে নির্যাতন, মসজিদ ও মুসলমানদের বাড়ী-ঘর জ্বালিয়ে দেয়ার কথা। প্রতিবেশী দেশে মিয়ানমার মুসলমানদের ভ্রমন সংকুচিত করা হয়।অধিকন্তু জানা যায় যে, সামরিক সরকার মিয়ানমারের ছোট ছোট শহরের মসজিদসমুহ ও ধ্বংস করে দেয়। তাছাড়া নতুন মসজিদ নির্মাণ ও পুরনো মসজিদ মেরামত ও নিষিদ্ধ করা হয়। এছাড়া একই বছরের অক্টোবরে পাই, পাকুকা, বাগু এবং হ্যানথাদা প্রভৃতি শহরে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। এসব দাঙ্গায় কমপেক্ষ একশ’ লোক নিহত এবং ৩ হাজার ঘর-বাড়ি ধ্বংস হয়।১৯৪২ সনে দাঙ্গা-হাঙ্গামার সময় কয়েক হাজার রোহিঙ্গা নিহত হয় এবং ৮০ হাজার রোহিঙ্গা তৎকালীন বৃটিশ ভারত আজকের বাংলাদেশে চলে আসে।

সাম্প্রতিককালে রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠির গায়ে মুসলিম বিরোধী মানসিকতার ধাক্কা লাগে। ৫ লাখেরও বেশী রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠী এবার নতুন করে ইতোমধ্যে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করেছে। এর আগে ১৯৭০ এবং ১৯৯০এর শেষের দিকে তিন লাখের বেশি সীমান্ত  অতিক্রম করে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। যদিও তাদের কাছে আরাকানের অধিবাসী হিসেবে প্রমাণের দলিল-দস্তাবেজ মজুদ ছিল। কিন্তু তাদের কোন কথাই শোনা হয়নি। তাই  তাদের ওপর আরোপিত চাপকে তাদের পক্ষে অগ্রাহ্য করা সম্ভব হয়নি। বাঙ্গালী মুসলমানরা প্রথম আরাকানের বাসিন্দা এবং এখনো তারা প্রতিনিধিত্বশীল। ১৯৫১ ও ১৯৫৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে কমপক্ষে ১১ জন রোহিঙ্গা মিয়ানমার পার্লামেন্টের সদস্য ছিলেন। তন্মধ্যে মহিলা সংসদ সদস্য ও ছিলেন।  ১৯৯০ সালের সাধারণ নির্বাচনে রোহিঙ্গারা অং সান সূচীর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসী (এনএলডি) দলের রাজনৈতিক মিত্র ছিল।

উপনিবেশ যুগের ক্ষোভ এখনো সকল মুসলিমদের মাথার ওপর ঝুলছে। কারণ তাদেরকে প্রতিবেশী (বাংলাদেশ) দেশের জনগণের সাথে সমগোত্রীয় হিসেবে দেখা হয়। বৌদ্ধ, আরাকানি, মঘ এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে স্বাতন্ত্র্যবোধ এবং ধর্মীয় উত্তেজনা এই ক্ষোভকে কেবল বাড়িয়ে তুলছে। আর ফলতঃ এটাই বিরোধের মূল কারণ।কারেন, স্যান, ওয়া, মন, বর্মি, রাখাইন, চীনা, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ প্রভৃতি মিয়ানমারের জনগোষ্ঠি একে অপরের বিরোধী।কিন্তু তারা সবাই মুসলমানদের বিরুদ্ধে।জাতিগত উত্তেজনা মিয়ানমারের সাম্প্রতিক ইতিহাসে বৈশিষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে।এসব জাতিগত উত্তেজনা নিরসনের ব্যাপারে যারা সহানুভুতিশীল, তারাও মুসলমানদের ব্যাপারে উদাসীন। মিয়ানমারে মুসলিম-অমুসলিম বিরোধ যথাযথভাবে নিরসন করা না হলে ভবিষ্যতে এই বিরোধ আরও মারাত্মক আকার ধারণ করবে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরনার্থী এখনো বাংলাদেশে রয়েছে। প্রতিদিন রোহিঙ্গা শরনার্থী বেড়ে চলেছে।১৫-২০ হাজার রোহিঙ্গা থাইল্যান্ডের শরনার্থী শিবিরে আশ্রয় গ্রহণ করে। মালয়েশিয়ায় ৮ হাজার রোহিঙ্গা শরনার্থী আছে বলে জানা যায়। তাছাড়া পাকিস্তান এবং সৌদী আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশসমূহে বহু রোহিঙ্গা আছে।

ইদানিং আরাকানের মুসলমান অধিবাসীরা নিজেদের মিয়ানমারের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি সমস্যায় ভুগছে।মিয়ানমার অধিবাসীদের নাগরিকত্ব নির্ধারণকল্পে ১৯৭৭ সনে নাগামিন সরকারী অভিযান চলাকালে মুসলিম জনতা দেশ ত্যাগের চাপের সম্মুখীন হয়।আরাকান প্রদেশে এই অভিযান চলাকালে সামরিক ও বেসামরিক উভয় দিক থেকে রোহিঙ্গাদের ওপর আক্রমন শুরু হয়। ১৯৮২ সনের নাগরিকত্ব আইনে মিয়ানমারে বসবাসকারী বহু মুসলমান নাগরিকত্বের প্রশ্নে হুমকির সম্মুখীন হয়। কারণ আইনে বৃটিশ দখল দারিত্বের আগের পূর্ব পুরষদের সাথে সম্পর্কের যোগসূত্রের প্রমাণ দেয়ার কথা বলা হয় পূর্ণ নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে। এই আইন কেবল মুসলমানদের জন্যে বলবৎ করা হয়। অন্যদিকে স্যান, চিন, কারেন, রাখাইন এবং বারমনদের ক্ষেত্রে এই আইন প্রয়োগ করা হয়নি।

মিয়ানমারে  নৃতাত্ত্বিকতার অজুহাতে  আদমশুমারিতে মুসলমানদের রোহিঙ্গা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছেনা। মিয়ানমার সরকারের এই পদক্ষেপ  আন্তর্জাতিক নাগরিকত্ব আইনের মারাত্মক  লঙ্গন।  নৃতাত্ত্বিকতার ধুয়া তুলে আদমশুমারিতে মুসলমানদের রোহিঙ্গা হিসেবে তালিকাভুক্ত না করার  যুক্তি  ধোপে টিকে না। কেননা নাগরিকত্বের শর্ত শুধু একই নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত হওয়া নয়।বিশ্বের কোন দেশের লোকজন সবাই  একই নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর অন্তভর্’ক্ত নয়।মুসলমানরা মিয়ানমারের মোট জনসংখ্যার এক ষষ্টংশ।৬ষ্ঠ শতাব্দি থেকে মুসলিম জনগণ মিয়ানমারের শহর-বন্দর-গ্রামে বসবাস করে আসছেন।মুসলমানসহ মিয়ানমারে ১৩৮টি বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বসবাস। তারা সবাই একই নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর অর্ন্তভূক্ত নন।তাই নিৃতাত্ত্বিকতার  অজুহাতে রোহিঙ্গা হিসেবে মুসলমানদের আদমশুরারিতে তালিকাভুক্ত না করার উদ্যোগ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মেনে নেবেনা।

রাখাইনে রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণের আশংকাজনকহারে e„w×i মতো হৃদয়বিদারক ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে  মর্যাদা এবং সম্ভ্রমহানিকর কর্মকান্ডের ভয়ে রোহিঙ্গা নারীদের মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় তারা শংকিত ও নিরাপত্তাহীনতায়  ভুগছে।এ ধরনের শ্লীলতাহানীর  ঘটণা সংঘটিত হওয়ায়  বিশ্ববাসি  বিস্ময়ে হতাশ, হতবাক ও ক্ষুব্ধ। bvix wbhv©Z‡bi ঘটণায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বীভৎস্য চেহারা যে লুক্কায়িত রয়েছে,  তা সাম্প্রতিক কয়েকটি ধর্ষণের ঘটণায় প্রমানিত হয়েছে। পৈশাচিক মনোবৃত্তি চরিতার্থকারী মিয়ানমার সেনাবাহিনীর  এধরনের জঘন্য কাজের  বিরুদ্ধে উৎপীড়িত রোহিঙ্গা নরনারীদের নিঃশংক অকুন্ঠ প্রতিবাদেরও সম্ভাবনা শুধু তিরোহিত হচ্ছেনা, বরং তাদের পক্ষে সুস্থভাবে নিঃশ্বাস গ্রহণও অসম্ভব হয়ে পড়েছে ।  রোহিঙ্গা নারীদের মান-ইজ্জত  ক্ষুন্ন করা বা বাধাগ্রস্থ  করা চলতে দেয়া যায়না।পাশব শক্তির বলে রোহিঙ্গা নারীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার হীন প্রয়াসের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করে বলেন,  রোহিঙ্গা নরনারীদের বেঁচে থাকার অধিকার আছে।ধর্ষণের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক  প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি  বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পাশব শক্তির বলে রোহিঙ্গা নারীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার হীন প্রয়াসের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন।এর বিরুদ্ধে বিশ্ববাসির সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন।মিয়ানমার সেনাবহিনীর হাত  থেকে রোহিঙ্গা তরুণ-তরুণীদের বাঁচাতে স্বক্রিয় হওয়া বিশ্ববাসির কর্তব্য।বিশ্বের শান্তিকামী জনগণের এমন কিছু করতে হবে, যাতে রোহিঙ্গা নারীর লজ্জাশীলতা, সতীত্ব, পবিত্রতা ও নারীর সম্ভ্রম-সন্মান রক্ষা পায়।ধর্ষকদের  মোকাবেলায় ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তোলার বিকল্প নেই ।

এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, বর্তমানে মিয়ানমারে যে ফ্যাসীবাদী, সামরিকীকরন ও মিয়ানমারিকরনের যে অনুশীলন চলছে, তা বিশ্বে অন্যতম। অনেকেই হয়তো অবগত আছেন যে, ১৯৮৮ইং সনে মিয়ানমারের স্বৈরশাসকরা কয়েক হাজার লোককে হত্যা করে। যা মিয়ানমারের সকল জাতি-গোষ্ঠীকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। সামরিক সরকার পরে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী  অং সান সুকী এবং অন্য আরও রাজনীতিবিদদের গ্রেফতার করে, যা সমগ্র বিশ্বের নিন্দা কুড়ায়। মিয়ানমারের জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা এবং আন্তর্জাতিক চাপে সামরিক সরকার কর্তৃক ১৯৯০ সনে একটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে অং সান সুকীর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসী (এন এল ডি) শতকরা ৮০ ভাগ আসন লাভ করে। কিন্তু সামরিক সরকার জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানায়। ১৯৯৯ইং সনে এবং চলতি বছর জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন মিয়ানমার সামরিক জান্তার বর্বরতার যথাযথ চিত্র তুলে ধরে। বাংলাদেশে এখনো লাখ লাখ   রোহিঙ্গা শরনার্থী রয়েছে। যারা মিয়ানমার সামরিক জান্তার নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে হিজরত করতে বাধ্য হয়েছে।আর যারা এখনো মিয়ানমারে অবস্থান করছে তারাতো অব্যাহতভাবে অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করে চলেছে।

১৯৯১ইং সনে সামরিক সরকার মিয়ানমারে অমুসলিম জনগণের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মুসলিম বিরোধী দাঙ্গার সূত্রপাত ঘটায়। তাছাড়া আরাকানে মুসলমানদের নানাভাবে হয়রানি করতে শুরু করে। এর অংশ হিসেবে মুসলমানদের ঢালাওভাবে গ্রেফতার, পিটুনি, অত্যাচার, হত্যা, সম্পত্তি লুট, মহিলাদের সম্ভ্রমহানী এবং বাধ্যতামূলক শ্রমে নিয়োগ করা হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং কুটনীতিকদের সংগৃহিত সামরিক সরকারের  মানবাধিকার লঙ্গনের তথ্যাদি মিয়ানমারের বাইরে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শিত হয়। বিভিন্ন সময় পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে সামরিক সরকারের অব্যাহত মানবাধিকার লঙ্গন, বিচার বহির্ভুত হত্যা, জোরপূর্বক উধাও, ধর্ষণ, সহায়-সম্পত্তি লুট, জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োগ, অত্যাচার, গ্রেফতার, বিনা বিচারে আটক, জেলে বন্দিদের সাথে অমানবিক আচরণ, জোরপূর্বক গৃহচ্যুৎ করা, প্রভৃতি সকল প্রকার মানবাধিকার লঙ্গনের কর্মকান্ড জাতিগত সংখ্যালঘুদের সাথে করা হয়। সামরিক সরকারের এসব অমানবিক কর্মকান্ডের ফলে বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশে মিয়ানমার শরনার্থীদের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। তাছাড়া আরাকানে বসবাসকারী মুসলমানরা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। এমন এক সময় সামরিক সরকার এসব অমানবিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে, যখন মিয়ানমারবাসী ক্ষুধার্ত। এই বর্বর স্বৈর শাসরিক শাসকের অবসান হলে মিয়ানমারের আরাকানি মুসলিম জনগণের তাদের মাতৃভূমিতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস নিশ্চিত হবে বলে আশা করা যায়।

১৯৯৯ সনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারকে বিশেষ  উদ্বেগজনক রাষ্ট্র বলে চিহ্নিত করে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিশপ টুটু মিয়ানমারের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে। চেক প্রজাতন্ত্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডেকল্যাপ হাভেল জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বার্মা পরিস্থিতি সম্পর্কে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহনের দাবী জানায়। ইউরোপীয় ইউনিয়নও অনুরুপ অবস্থান গ্রহণ করেছে বলে জানা যায়। কিন্তু দুঃখজনক এই যে, মার্কিন ও বৃটিশ তামাক ও তেল কোম্পানিীসমূহ মিয়ানমার সামরিক জান্তাকে সহায়তা দিচ্ছে।

রোহঙ্গিা ইস্যুতে চীন, রাশিয়া ও ভারতরে  র্অথ্নতৈকি সুবধিাবাদী নীতির কাছে মানবতা মার খয়েছে। কারণ রাখাইনে চীনের বিশেষ অর্থ্নৈতিক জোন প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।রাশিয়া ও চীনের আপত্তির কারণে রাখাইনে সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে নিরাপত্তা পরিষদ আলোচনার পর বিবৃতি দিতে পারেনি।কারণ রোহিঙ্গা সঙ্কটে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের জড়িত হওয়ার বিষয়ে ঘোর বিরুধিতা করেছে চীন এবং রাশিয়া। রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করার জন্যে রাশিয়া ও চীনের এই বিরুধিতা অনভিপ্রেত।এতে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নিপীড়ন চালাতে মিয়ানমার আরো উৎসাহিত হবে।রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের পক্ষে রাশিয়া ও চীনের এই অভিন্ন অবস্থান বোধ করি  এই জন্য যে, রাশিয়া, চীন, ভারত ও মিয়ানমার---এই চারটি  দেশের  মধ্যে একটি বিষয়ে অভিন্নতা রয়েছে। সেটা হলো জবরদখল।  মিয়ানমার যেমন এককালের স্বাধীন আরাকান দখল করে আছে।চীন ও এককালের স্বাধীন মুসলিম প্রধান (৫৮%) জিনজিয়াং(পূর্ব তুর্কিস্তান  ও ইনার মঙ্গোলিয়া জবরদখলকারী।রাশিয়া চেচনিয়া ও  ইঙ্গুস্তিয়াকে করায়ত্ত্ব করে রেখেছে শক্তির জোরে।আর  ভারত কাশ্মীর দখল করে রেখেছে।  

জিনজিয়াং, চেচনিয়া, ইঙাগুস্তিয়া ও কাশ্মীর মুসলিম প্রধান।১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ণ ভেঙ্গে গেলে তাজিকিস্তান, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, কিরঘিস্তান, তুর্কসেনিস্তান প্রভৃতি মুসলিম রাজ্য স্বাধীনহলেও   চেচনিয়া ও ইঙ্গুস্তিয়াকে আলাদা হতে দেয়া হয়নি।চীন, রাশিয়া ও ভারত ময়িানমারে তাদের আধিপত্য, রাজিৈনতক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার কাজে নিয়োজিত।  ইসলামী সভ্যতা ও সংস্কৃতির লালনভ’মি  আরাকানে রোহিঙ্গা  জনগণ মিয়ানমারের  নির্মম অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপনে বাধ্য হচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের  ওপর হামলার ব্যাপারে চীন, রাশিয়া ও ভারতসহ মুক্ত বিশ্ব ও মানবাধিকারের প্রবক্তাদের নীরবতায় মিয়ানমার আরাকানে বর্বরোচিত সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখতে উৎসাহিত হচ্ছে।এসব দেশ ও এর মিত্ররা বৃটেনের অবৈধ সমর্থনে বেআইনীভাবে দখলিকৃত আরাকানের ওপর  মিয়ানমারের আগ্রাসী তৎপরতাকে সমর্থন যুগিয়ে যাচ্ছে।বৃটিশের কূটচালের কারণে এশিয়ার তিনটি অঞ্চলের মুসলমানরা আজ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেণ।অঞ্চল সমূহ হচ্ছে রাখাইন, কাশ্মীর ও ফিলিস্তিন।১৯৪৭ সালে পাকিস্তান ও ভারতকে স্বাধীনতা প্রদানের সময় কাশ্মীর সমস্যাসার সমাধান না করায় কাশ্মীর এখন জ্বলন্ত অগ্নিকুন্ডে পরিনত হয়েছে। কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে তিন তিন বার যুদ্ধ হয়েছে।১৯৪৮ সালে বেলফোর ঘোষণার মাধ্যমে ইসরাইল সৃষ্টির মাধ্যমে ফিলিস্তনিদের অগ্নিগর্ভে ঠেলে দেয়া হয়েছে। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারী মিয়ানমারকে স্বাধীনতা প্রদানের সময় আরাকানকে মিয়ানমারের সাথে যুক্ত করে দেয়ার ফলে আজ রোহিঙ্গারা দেশত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে।

আরাকানে  অব্যাহত হত্যাযজ্ঞ থেকে মুসলিম বিশ্বকে শিক্ষা নেয়া উচিৎ।আগ্রাসন থেকে কোন মুসলিম দেশই রেহাই পাবেনা।সকল ন্যায়-নীতি, জাতিসংঘ সনদ জলাঞ্জলী দিয়ে মিয়ানমার নারকীয় আচরণে লিপ্ত রয়েছে।বাঁচতে হলে ইসলামী উম্মাহকে শীসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া উপায় নেই।

রাখাইনে (আরাকান) মিয়ানমার র্ববর সেনাবহিনীর অত্যাচার-নর্যিাতনরে শিকার মজলুম রোহিঙ্গাদের চিৎকার, উৎপীড়িত রোহঙ্গিাদরে আহাজারী ও ক্রন্দনরোল এবং র্ধষতিা রোহঙ্গিা নারীদের  আকুল  ক্রন্দনে আকাশ-বাতাস মূখরতি হওয়া স্বত্ত্বওে র্অথ্নতৈকি লাভালাভরে ক্ষত্রে স্বার্থান্ধ কুম্ভকর্ণ্ স্বরুপ বিশ্ব মোড়ল বিশেষ করে  চীন, রাশিয়া ও ভারতের নিদ্রা ভঙ্গ হচ্ছে না।রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ব মোড়লদের শুধু উদ্বেগ প্রকাশ যথেষ্ট নয়।আদমশুমারিতে রোহিঙ্গাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে তাদের নাগরিকত্ব বহাল, শিক্ষা-সংস্কৃতিসহ মিয়ানমার সরকারের নিপীড়ন থেকে  রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে রক্ষার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার ও নাগরিকত্ব  অর্জনের ক্ষেত্রে বিশ্বের শন্তিপ্রিয় ও স্বাধীনতাকামী দেশ, জনগণ এবং মুসলিম বিশ্বের মধ্যে ইস্পাত-কঠিন ঐক্য গড়ে তোলা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।এব্যাপারে জাতিসংঘ, ওআইসি, ন্যাম, আসিয়ান ও সার্কসহ সকল আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক  সংস্থা ও সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে।প্রয়োজনে রোহিঙ্গাদের ওপর  হামলা ও গণহত্যার প্রতিবাদে মিয়ানমারের  সাথে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যসহ সকল প্রকার সম্পর্কচ্ছেদের পদক্ষেপ গ্রহ্রণের ও পদক্ষেপ নিতে হবে।
 
ভাইদের প্রতি ভাইয়ের অর্পিত দায়িত্ব, আল্লাহ-রাসুলের(সা.)-এর পক্ষ থেকে প্রদত্ত জিম্মাদারির প্রতি সজাগ থেকে রোহিঙ্গাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ এবং সর্বাত্মক সাহায্যে সমগ্র পৃথিবীর মুসলমানদের  এগিয়ে আসা উচিৎ । বাংলাদেশসহ বিশ্বের স্বাধীনতাকামী ও শান্তিকামী মানুষকে যথাসম্ভব দ্রুত মিয়ানমারের আরাকানী মুসলমানদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে হবে, যাতে মিয়ানমারের বর্তমান সামরিক জান্তার অব্যাহত মানবাধিকার লঙ্গন, জাতিগত শুদ্ধি অভিযান থেকে আরাকানী মুসলমানরা রেহাই পায়।এবং বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী আরাকানী মুসলমানরা প্রত্যাসিত হয়ে সূখে শান্তিতে নিজ দেশ মিয়ানমারে বসবাস করার সুযোগ পায়। আরাকানে মিয়ানমারের  বর্বরোচিত হত্যাকান্ড বন্ধ এবং রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে  মি?য়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্যে  জাতিসংঘ, ওআইসি, ন্যাম, আসিয়ান, সার্ক্ ও আরবলীগসহ শান্তিকামী বিশ্ব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে।

অন্য সকলের মতো রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ও বেঁচে থাকার সমান অধিকার আছে।তাদেরও এই পৃথিবীর আকাশ, আলো ও বাতাশের সঙ্গে একাত্মবোধের সমান অনুভুতি আছে।রোহিঙ্গাদের বাঁচার দাবিকে উপেক্ষা করার অধিকার কারোর নেই। রোহিঙ্গাদের সামান্যতম হক উপেক্ষা করা মনুষ্যত্বের পরিচায়ক নয়।রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন করা বা অপহরণ করা চলেনা।রাষ্ট্র ও সামাজিক ক্ষেত্রে মি?য়ানমারের এই মর্ম অনুভব করা হলেই কেবল রাখাইনে  সুখের নীড় হবে, বিদ্যমান পরিস্থিতি  সহজ, সুন্দর ও মহিমাময় হয়ে উঠবে।
লেখকঃ আবদুল লতিফ নেজামী


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি