আজ বুধবার, ৪ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ১৭ জানুয়ারী ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : ৬ মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন দেয়ার নির্দেশ       ডিএনসিসির উপ-নির্বাচন স্থগিত       কলম্বিয়ায় সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত : নিহত ১০       রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তির বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের গভীর উদ্বেগ       উত্তরা মেডিকেলের ৫৭ শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রমে বাধা নেই       না.গঞ্জে ডাকাত সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত দুই       শাহজালালে ৩১৮ কার্টন সিগারেট জব্দসহ আটক ২      
৪শ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘কমলা রানীর দীঘি’
Published : Friday, 20 October, 2017 at 5:58 PM, Update: 20.10.2017 6:01:59 PM, Count : 117
৪শ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘কমলা রানীর দীঘি’
আহমদউর রহমান ইমরান, রাজনগর থেকে : মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় প্রায় ৪০০ বছর পূর্বে রাজ রাজন্যের বসবাস ছিল বলে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়। কথিত আছে রাজ পরিবারের মধ্যে শেষ বংশধর হিসেবে রাজা সুবিদ নারায়ণের এ মহান কীর্তি এখনও কালের সাক্ষী হয়েই দাঁড়িয়ে আছে সেখানে। 

রাজা সুবিদ নারায়ন রেখে যান নি রাজ প্রসাদ অথবা রাজ বাড়ি। তবে, রেখে গেছেন ঐতিহাসিক এক দীঘি। কেউ বলেন সাগরদীঘি আবার কেউ বা বলেন কমলারাণীর দীঘি। সুবিদ নারায়ণের স্ত্রী কমলা রানীর নামেই এই দীঘিটি সমধিক প্রচারিত। যদিও একই কাহিনী নির্ভর দীঘি রয়েছে কমলগঞ্জে ও হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে। 

রাজনগর উপজেলা সদর থেকে দুই কিলোমিটার উত্তর দিকে রাজনগর-বালাগঞ্জ সড়কের উত্তর পাশে এ দীঘির অবস্থান। ৩১.৫৫ একর জলসীমার খরিদসূত্রে এ দীঘিটির মালিক সদর ইউনিয়নের ঘরগাঁও গ্রামের ইংল্যান্ড প্রবাসী আব্দুল কাদির। তবে এতে সরকারী ৪ একর ও মোস্তফা ওয়াকফ স্টেটের ২.৬৫ একর জমিও রয়েছে।

কথিত আছে, প্রজা হিতৈষী রাজা সুবিদ নারায়ণ শুষ্ক মৌসুমে জনসাধারণের পানীয় জলের সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি দীঘি খননের পরিকল্পনা নেন। নিজ রাজ্যের ১৫০ বিঘা জমি নিয়ে বিস্তৃত এই দীঘি খনন করা হয় সহস্রাধিক শ্রমিকের ৫/৬ মাসের ঘাম ও শ্রমে। তৈরি হয় শান বাঁধানো ঘাট।  কিন্তু রাজার ইচ্ছার পূর্ণতা আসেনি বিস্তৃত দীঘির বিরাণ দশার কারণে। জনশ্রুতি আছে দীঘিতে পানি উঠছিল না রহস্যজনক ভাবে। এ নিয়ে রাজ মানসে হতাশার কমতি ছিলনা। 
৪শ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘কমলা রানীর দীঘি’
জনশ্রুতি  মতে, ঘুমের ঘুরে একদিন রাজা স্বপ্না দিষ্ট হলেন যে, তার প্রিয়তমা স্ত্রী কমলরাণী যদি স্নান উপলক্ষ্যে দীঘিতে নেমে পূজা করেন তাহলে আকাঙ্খিত পানিতে দীঘিটি টইটম্বুর হয়ে উঠবে। রাজা তার ঐ স্বপ্ন বৃত্তান্ত প্রিয়তমা স্ত্রীকে অবহিত করলে কমলারাণী স্বামী বাসনা পূরণে পূজুা দিতে আগ্রহী হয়ে উঠলেন। রাজার আদেশে পূজার ব্যবস্থা হলো। শান বাঁধানো ঘাট দিয়ে রাণী দীঘিতে নেমে মন্ত্রপাঠ শেষে দীঘির বিরাণ জমিতে সাষ্টাঙ্গের প্রণাম জানানোর পর পরই মাটি ভেদ করে স্পটিক জলের উদগিরণ শুরু হয়। দীঘিতে কোমর সমান পানি হলে রাণী সেই জলে স্নান করেন। অতঃপর মধ্য দীঘি থেকে জলের ঘাটে আসার আগেই অথৈ জলে কমলারাণী ডুবে যান। ঐ বিয়োগান্তক প্রেক্ষাপটে এলাকায় শোকের পাশাপাশি বহু বিধ কল্পকাহিনী ডানা মেলে।

অন্য দিকে, রাজা সুবিদ নারায়ণ স্ত্রী শোকে নির্বাক হয়ে যান। ঐ দিন রাতেই কমলারাণী স্বপ্ন যোগে রাজা সম্মুখে হাজির হয়ে বললেন, তোমার ঘরে ফিরা আমার জন্য অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। আমার  দুগ্ধ পোষ্য সন্তানকে প্রতিদিন সন্ধ্যা বেলায় দীঘির পশ্চিম পাশে রেখে দিও। আধাঁর নামলেই আমি এসে তাকে দুধ পান করিয়ে চলে যাবো। খবরদার-আমাকে স্পর্শ করার চেষ্টা করবে না। স্পর্শ না করলে আমি হয়তো এক সময় তোমার কাছে ফিরে আসবো। যদি স্পর্শ কর তাহলে চির দিনের জন্য আমার আশা ছেড়ে দাও। রাণীর কথা অনুযায়ী দিন কয়েক রাতের আধাঁরে শিশু পুত্রকে দীঘির কিনারে উঠে রাণী দুধ পান করান।

৪শ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘কমলা রানীর দীঘি’
এদিকে স্ত্রী বিরহে মত্ত রাজা ঘাপটি মেরে আড়ালে বসে শিশুকে দুগ্ধ ধানরত অবস্থায় রাণীকে ঝাপটে ধরলেন। রাণী তখন দীঘিতে ঝাঁপ দিয়ে ডুবে যান। রাজার হতে শুধু রয়েগেল রাণীর এক গুচ্ছ কেশ। আর কোন দিন রাণী শিশু পুত্রকে দুগ্ধ দানের জন্য ডাঙ্গায় উঠেননি। এই মীতটি ডালপালা মেলে লোকালয়ে এখনও বর্তে আছে আপন মহিমা নিয়ে। রাজা নেই তার সাথে রাজ্যও নেই। বিলিন হয়ে গেছে রাজ ভিটা। কিন্তু এখনও সেই দীঘিটি স্থিতমান। দীঘির জলে আগে যেমন ঢেউ ছিল এখনও তেমনি ঢেউ আছে। 

দীঘির মালিক পক্ষের আব্দুর রহমান সোহেল বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক দীঘি। বিভিন্নস্থান থেকে দর্শনার্থীরা এসে । এ দীঘিকে উপলক্ষে করে পর্যটন এলাকা ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মৎস্য চাষের জন্য আমরা বেশ চেষ্টা চালিয়ে আসছি। কিন্তু প্রশাসনের সহযোগীতা না পাওয়ায় আমরা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।  


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি