আজ বৃহস্পতিবার, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৩ নভেম্বর ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : আজ রোহিঙ্গা ইস্যুতে সমঝোতা হলে কাল এমওইউ সই'       শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতিসহ গ্রেপ্তার ২        শার্শায় সাড়ে ৩৩ লাখ হুণ্ডির টাকাসহ ৪ পাচারকারী আটক       এসএসসি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে ১ ফেব্রুয়ারি       নওগাঁয় চাকুরি জাতীয়করণের দাবিতে ইউসিসিএ কর্মচারীদের মানববন্ধন       আজ জহির রায়হানের ‘হারানো অধ্যায়’       কুষ্টিয়ার খোকসায় গৃহবধূকে কুপিয়েছে সাবেক স্বামী      
কেঁচো সারে দিনবদল হামিদের
Published : Saturday, 11 November, 2017 at 10:41 AM, Count : 188
কেঁচো সারে দিনবদল হামিদেরতানোর (রাজশাহী) সংবাদদাতা : রাজশাহীর তানোর উপজেলা সদর থেকে একুশ কিলোমিটার দূরের কলমা ইউনিয়নের গ্রাম বহড়া। গ্রামের ৯৩ শতাংশ পরিবার কৃষিজীবী। একসময় এ গ্রামের কৃষকেরা জমিতে রাসায়নিক সার ব্যবহার করে ফসল ফলাতেন।

এ সার ব্যবহারের পর ফসলের রোগবালাই বেড়ে যেত, উৎপাদন খরচও হতো বেশি। রাসায়নিক সার কম প্রয়োগে ফলন কম হয়। আবার অতিরিক্ত রাসায়নিক সার প্রয়োগের কারণে মাটির উর্বরতা শক্তি ও পানিধারণক্ষমতা কমে যায় এবং সবজির স্বাদ নষ্ট হয়। ফসলে রোগজীবাণুর আক্রমণ বেশি হয়। তিন বছর আগে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে কেঁচো সার দিয়ে জমিতে ফসল ফলাতে শুরু করেন ওই গ্রামের কৃষক আব্দুল হামিদ। কম খরচে কেঁচো সার ব্যবহার করে সবজি চাষে সাফল্য পান তিনি। তা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে এখন অনেকেই শুরু করেছেন কেঁচো সারের উৎপাদন।

যেভাবে শুরু: বহড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল হামিদ ২০০৮ সালে কয়েক বিঘা জমিতে সবজি আবাদ করেছিলেন। ২০১৩ ও ২০১৪ দেশে হরতাল, অবরোধ থাকায় সবজি বাজারজাত করতে পারেননি। পরে ক্ষেতেই সব সবজি নষ্ট হয়ে যায় এবং লোকসান গুনতে হয় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা। এতে তিনি হতাশ হয়ে পড়েন। 

দিনবদল: রাসায়নিক সারের বিড়ম্বনা থেকে পরিত্রাণ পেতে অন্য এক কৃষকের দেখে কেঁচো সার ব্যবহারে আগ্রহী হন চল্লিশউর্দ্ধো আব্দুল হামিদ। ২০১৫ সালে তিনি স্থানীয় একটি বেসরকারি এনজিও সংস্থা ও উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কেঁচো সার ও কুইক কম্পোস্ট সার তৈরির প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে আব্দুল হামিদ বাড়ির আঙিনায় একটি খামার তৈরি করে কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করেন। 

সফল এ কৃষক জানান, কেঁচো সার তৈরির পদ্ধতি হলো একটি রিং বা চাড়ির মধ্যে দুই ভাগ গোবর এবং এক ভাগ কলাগাছের টুকরা বা সবজির উচ্ছিষ্টাংশ রেখে দিতে হবে। সাত-আট দিন পর এর মধ্যে হরিয়ানা প্রজাতির কেঁচো দিতে হবে। ওই জাতের কেঁচো প্রথমে তিনি ভারত থেকে এনে সরবরাহ করেছিল। মূলত কেঁচোর মল থেকে সার তৈরি হয়। ওরই মধ্যে কেঁচো বংশ বৃদ্ধি করে। এক রিংয়ে আড়াই শ গ্রাম কেঁচো দিলে ১৫ দিনের মধ্যে এক কেজি কেঁচো তৈরি হয়। এক লাখ কেঁচো দিয়ে সার তৈরি শুরু করেন তিনি। শুরুতে ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা মূলধন বিনিয়োগ করলেও পরে আর তেমন একটা খরচ হয়নি।
কেঁচো সারে দিনবদল হামিদের
শুরুর বছর কৃষক আব্দুল হামিদ ছয় বিঘা জমিতে ওই সার দিয়ে সবজি চাষ করেন। এতে আগের বছরের চেয়ে সবজির ভালো ফলন পান। সবজির উৎপাদন খরচ নেমে আসে অর্ধেকে। কেঁচো সার উৎপাদন আরও বৃদ্ধিতে ইতিমধ্যে নতুন আরেকটি খামার তৈরি করছেন বলেও জানান তিনি।

এ সম্পর্কে পাশের গ্রামের মতিউর রহমান বলেন, আমরা কেউ ভাবতামই না যে, আমাদের এলাকায় সারাবছরই মৌসুমি সবজি চাষাবাদ করা সম্ভব। বর্তমানে আমাদের গ্রামের ৭৫ জন কৃষক সারাবছর সবজি চাষ করছেন। পাশাপাশি পাশের বিল্লি, চোরখৈর, কুচিয়ামাড়া, আলোকছত্র গ্রামের দেড় শতাধিক কৃষকে বিভিন্নভাবে সবজি চাষে সহযোগিতা করেছেন।

উপজেলা সহ: কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, ‘লাভজনক হওয়ায় বহড়া গ্রামের মানুষ সবজি চাষে ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ইতিমধ্যে কৃষকেরা রাসায়নিক সার বর্জন করে জমিতে কেঁচো সার প্রয়োগের মাধ্যমে সবজি চাষে ভালো সাফল্য পেয়েছেন। আমরা কৃষকদের সবজি চাষে সহযোগিতা করছি।’

গবেষণা সংস্থা বারসিকের বরেন্দ্র অঞ্চল প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘রাসায়নিক সারমুক্ত সবজি চাষে আগ্রহী করতে কৃষকদের প্রথমে আমরা সাধ্যমতো কেঁচো এবং কেঁচো সার উৎপাদনের সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ দিই। কেঁচো সারে সবজি চাষ করে কৃষকেরা লাভবান হওয়ায় এখন শুধু তানোরের বহড়া গ্রামেই শতাধিক পরিবার নিজেদের উৎপাদিত কেঁচো সার জমিতে ব্যবহার করছে। আশপাশের আরও শতাধিক কৃষক কেঁচো সার কিনে জমিতে ব্যবহার করছেন।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জৈব সারকে মাটির প্রাণ বলা হয়। আদর্শ মাটিতে শতকরা ৫ ভাগ জৈব থাকা উচিত। আমাদের দেশের জমিতে ১ ভাগ আছে। জৈব সার মাটির মধ্যে বায়ু চলাচল বৃদ্ধি করে। পানির ধারণক্ষমতা বাড়ায়। মাটির প্রাণসঞ্চারে জৈব সার সহায়তা করে। আর এক্ষেত্রে ভার্মি কম্পোস্ট এই সময়ের সবচেয়ে দামী সার। আব্দুল হামিদের কারণে অনেক কৃষক উপকৃত হচ্ছেন। এই কৃষককে দেখে আশপাশের গ্রামগুলোতে কেঁচো চাষ ও জৈব সার উৎপাদন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আমরা কৃষকদের মাটিতে জৈব সার ব্যবহারে উৎসাহিত করছি।’


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি