আজ বৃহস্পতিবার, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৩ নভেম্বর ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : আজ রোহিঙ্গা ইস্যুতে সমঝোতা হলে কাল এমওইউ সই'       শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতিসহ গ্রেপ্তার ২        শার্শায় সাড়ে ৩৩ লাখ হুণ্ডির টাকাসহ ৪ পাচারকারী আটক       এসএসসি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে ১ ফেব্রুয়ারি       নওগাঁয় চাকুরি জাতীয়করণের দাবিতে ইউসিসিএ কর্মচারীদের মানববন্ধন       আজ জহির রায়হানের ‘হারানো অধ্যায়’       কুষ্টিয়ার খোকসায় গৃহবধূকে কুপিয়েছে সাবেক স্বামী      
নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোকে
Published : Wednesday, 15 November, 2017 at 8:35 PM, Count : 26
নাজিউর রহমান সোহেল : বিদেশি কারিকুলামে পরিচালিত ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোকে বাংলাদেশের মূল ধারার শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতিমধ্যে এ লক্ষ্যে সরকার একটি সহজতর বিধিমালা তৈরি করেছে। তারই অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) সভাকক্ষে রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রধান প্রধান ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের অধ্যক্ষ ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. এস এম ওয়াহিদুজ্জামান ওই সভার সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার সকালে আয়োজিত ওই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ ৩৫টি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল প্রধানরা অংশ নেন। সভায় ইংরেজি মাধ্যম স্কুল পরিচালনার গেজেট, বিধি-বিধান, সিলেবাস, কারিকুলাম, পরিচালনা পর্ষদ ও নীতি-নৈতিকতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের প্রধানরা জানান, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের নির্দিষ্ট কারিকুলাম এর বাইরে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস ও বাংলা ভাষার পাঠ্যবই পড়ানো হয়। ছাত্রছাত্রীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানো হয়, জঙ্গিবাদবিরোধী কোনো কর্মকা  পরিচালনা হয় না। দেশের সবগুলো জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়। শিক্ষার্থীদের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদসহ নানা অপকর্মের কুফল সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নির্দেশের অংশ হিসেবে সব ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে সততা স্টোর চালু করা হয়েছে। যাতে নতুন প্রজন্ম সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠে এবং অল্প বয়স থেকেই দুর্নীতি বিরোধী নৈতিকতায় উদ্বুদ্ধ হয়। কোন বিক্রেতা ছাড়াই সসতা স্টোর থেকে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রয়োজনীয় বই, খাতা, পেন্সিল কিনছেন। ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের পছন্দমত প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে ক্যাশ বাক্সে দাম রেখে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা একে ভালো উদ্যোগ বলে স্বাগত জানিয়েছেন বলে দাবি করেছেন স্কুল প্রধানরা। এর বাইরে পরীক্ষার কক্ষে যদি নকল কিংবা অসদুপায় অবলম্বন করা হয়, তাতে শিক্ষার্থীর নিজের ক্যারিয়ারের জন্য ক্ষতি- এমন বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এরফলে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলের পরীক্ষা হলগুলোতে পরিদর্শক ছাড়াই ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষা দিচ্ছে। এটি আমরা চালু করতে সক্ষম হয়েছি।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত প্রাইভেট কার ছাড়া স্কুলে যাওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। এক্ষেত্রে স্কুল কর্তৃপক্ষকে নিজস্ব স্কুল বাস সার্ভিস ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ম্যাপিং জোন নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। শিক্ষা অধিদপ্তরকে স্কুলগুলোর প্রধানদের নিয়ে নিয়মিত মনিটরিং করতে বলা হয়েছে।
মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান সরকার ভোরের ডাককে বলেন, মূলত সরকারের সঙ্গে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোর প্রশাসনিক সমন্বয় স্থাপনের অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ স্কুল প্রধানদের জন্য বৈঠক করা হয়েছে। এক্ষেত্রে স্কুল প্রতিনিধি যারা এসেছেন, তারা সবাই চাচ্ছেন সরকারের সঙ্গে তাদের সমন্বয় তৈরি করা। শিগগিরই তাদের সঙ্গে আরও একটি ওয়ার্কশপ করা হবে। সেখানেও বিস্তারিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। তিনি আরও বলেন, ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি অর্জন করা শিক্ষার্থীরা যাতে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলো কি শেখাচ্ছে, কারা শিক্ষক, কত টিউশন ফি তা সঠিকভাবে জানে না কোনো মন্ত্রণালয় বা সরকারের কোনো সংস্থা। অথচ এখানে যারা পড়াশোনা করছে তাদের শতকরা ৯৯ শতাংশ বাংলাদেশী-বাঙালি। গত কয়েকবছর ধরে বিদেশী কারিকুলামে পরিচালিত কয়েকটি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জঙ্গীবাদে জড়িয়ে পড়ার তথ্য বেরিয়ে আসার ঘটনাও ঘটছে। এমতাবস্থায় সরকার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে।
চলতি বছরের জুলাই মাসে ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন বিধিমালা-২০১৭ জারি করেছে সরকার। তবে বিধিমালার সব নিয়ম স্কুল মালিকদের পক্ষে গেছে। সেখানে টিউশন ফি নির্ধারণে সরকারের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি।
বিধিমালা মতে, ইংরেজি মাধ্যম স্কুল পরিচালনায় তৈরিকৃত গেজেট বিধিমালায় বলা হয়েছে, ইংরেজি মাধ্যম স্কুল পরিচালনা করতে হলে তা অবশ্যই বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধন ছাড়া কোনো স্কুল পরিচালনা করা যাবে না। দুই ধাপে স্কুলের অনুমোদন দেয়া হবে। নির্ধারিত ফরমে আবেদন করে প্রথমে দু’বছরের জন্য প্রাথমিক অনুমোদন নিতে হবে। তা  সন্তোষজনকভাবে স্কুল পরিচালনা করা হলে পরবর্তী সময়ে ভিন্ন ফরমে অনুমোদন নবায়নের আবেদন করতে হবে। তখন ৩ বছরের অনুমোদন দেয়া হবে। এভাবে ৩ বছর পরপর অনুমোদন নবায়ন করতে হবে। প্রত্যেক স্কুলের প্রকৃতি বিবেচনায় আলাদা শর্ত আরোপ করতে পারবে নিবন্ধনকারী কর্তৃপক্ষ। তবে ‘নিবন্ধনকারী কর্তৃপক্ষ’ কে তা বিধিমালায় স্পষ্ট নয়। বিধিমালা নিবন্ধনের জন্য আবেদন ফি, আবেদন পদ্ধতি ও নিষ্পত্তিকাল উল্লেখ করে বলা হয়েছে, প্রত্যেক স্কুল সরকার নির্ধারিত প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করতে পারবে। প্রতি ডিসেম্বরে পরিদর্শন করা হবে। যদি পরিদর্শন করতে না দেয়া হয়, তাহলে স্কুলের সনদ বাতিল করা হবে।
বিধিমালা অনুযায়ী, ম্যানেজিং কমিটিতে ১১জন সদস্য থাকবেন। সেখানে ৬ জন থাকবেন উদ্যোক্তা সদস্য, ২ জন শিক্ষক প্রতিনিধি এবং ২ জন অভিভাবক প্রতিনিধি। প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষ পদাধিকার বলে কমিটির সদস্য সচিব থাকবেন। কমিটি বড় বড় গুরুত্বপূর্ণ ৬টি কাজ সম্পন্ন করবে। এ কমিটিতে সরকারের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। বিধিমালা অনুযায়ী, বছরে ১০ শতাংশের বেশি টিউশন ফি কোনো অবস্থাতেই বাড়ানো যাবে না। এসব স্কুলে ৫ শতাংশ মুক্তিযুদ্ধা ও ২ শতাংশ প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রী ভর্তি করাতে হবে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) অথবা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নয় ও স্বাধীনতা বিরোধী এমন শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক অনুসরণ করা যাবে না।
গতকাল মঙ্গলবারের সভায় ঢাকার বৃটিশ স্ট্যান্ডার্ড স্কুল, অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও কলেজ, জন ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল, অ্যাপল ট্রি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, কানাডিয়ান টিলিনিয়াম স্কুল, সেন্টমেরি ইন্টার?ন্যাশনাল স্কুল, রিভারভিউ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, অস্ট্রেলিয়ান স্কুল, গ্রিণ ডেল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, লন্ডন ইন্টান্যাশনাল স্কুল, সাউথ পয়েন্ট স্কুল ও কলেজ, সেন্ট পিটার্স স্কুল অব লন্ডন, বৃটিশ আমিরিকান কলেজ, বৃটিশ কলোম্বিয়া স্কুল, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, গ্রিনফিল্ড স্কুল, লরেটো স্কুল এবং লাইসিয়াম ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ ও পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।







« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি