আজ শুক্রবার, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৪ নভেম্বর ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : সততা ও উন্নয়নের কারণেই আগামীতেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা       চট্টগ্রাম পর্বের শুরুতে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে খুলনা       ফতুল্লায় ভেকু চাপায় শ্রমিকের মৃত্যু, লাশ গুম চেষ্টার অভিযোগ       রংপুর-খুলনা ম্যাচ দিয়ে বিপিএলের চট্টগ্রাম পর্ব শুরু       ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে বারী সিদ্দিকীর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত       কালিয়াকৈরে ট্রেন-ট্রাক সংঘর্ষ, ট্রেনের সহকারী চালক নিহত       জিয়াউর রহমানের ছোট ভাই কামাল আর নেই      
জাতিসংঘ প্রতিবেদন অস্বীকার
খুন ধর্ষণ লুট করেনি মিয়ানমার সৈন্যরা
Published : Wednesday, 15 November, 2017 at 8:35 PM, Count : 20
ভোরের ডাক ডেস্ক : মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের হত্যা, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া, ধর্ষণ ও লুটের সঙ্গে সেনাবাহিনীর কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। এসব অভিযোগ নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্তের প্রতিবেদনে এ দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। গতকাল মঙ্গলবার বিবিসি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, গত ২৫ আগস্ট রাখাইনের বিভিন্ন পুলিশ তল্লাশিচৌকিতে একযোগে হামলার ঘটনার পর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ‘শুদ্ধি অভিযান’ শুরু করে। ব্যাপক দমন-পীড়নের মুখে লাখো রোহিঙ্গা যে পালিয়ে বাংলাদেশে গেছে, সে তথ্য-প্রমাণ বিবিসির কাছে আছে। জাতিসংঘও এটাকে ‘জাতিগত নিধনের প্রামাণ্য উদাহরণ’ বলেছে। সেনাবাহিনীর এই প্রতিবেদনকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ‘দোষ ঢাকার চেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছে। তারা সত্য যাচাইয়ে জাতিসংঘের কমিটিকে দেশটিতে অবাধে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
রোহিঙ্গাদের প্রতি চরম দমন-পীড়নের অভিযোগের মধ্যে কড়া নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে নিয়ে যায় মিয়ানমার সরকার। তখন বিবিসির দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক প্রতিনিধি জনাথন হেড চারপাশে ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে পান। দেশটি থেকে পালিয়ে এখন পর্যন্ত ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ফেসবুকে তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, কয়েক হাজার গ্রামবাসীর সাক্ষাৎকার নিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় সেনাসদস্যদের জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ তারা পায়নি। বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরাই বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করেছে এবং তাদের হুমকিতেই হাজার হাজার মানুষ গ্রাম ছেড়ে চলে গেছে।
এ ছাড়া তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছেÑ * সেনাবাহিনী কোনো নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেনি। * কোনো নারীকে ধর্ষণ করা হয়নি, যৌন নিপীড়নের কোনো ঘটনাও ঘটেনি। * গ্রামবাসীদের গ্রেপ্তার করে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি। * বাড়িঘরে লুটপাট চালিয়ে মূল্যবান সামগ্রী লুট করার অভিযোগ সঠিক নয়। * সেনাবাহিনী কোনো মসজিদে আগুন দেয়নি। * কাউকে গ্রাম ছাড়তে বলা হয়নি, সেনাসদস্যরা কাউকে হুমকিও দেয়নি।
* বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার সঙ্গেও সেনাবাহিনী জড়িত নয়।
ওই বিবৃতিতে সেনাবাহিনী আরও বলেছে, ‘বাঙ্গালি সন্ত্রাসীরা’ এসব ধ্বংসযজ্ঞের জন্য দায়ী। এসব সন্ত্রাসীদের ভয়ে লাখো মানুষ রাখাইন ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে। সেনাবাহিনীর এ প্রতিবেদনের বিষয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন, প্রতিবেদনটির মাধ্যমে এটা পরিষ্কার যে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করার কোনো ইচ্ছা নেই। জাতিসংঘ ইতোমধ্যে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাকে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞের অন্যতম উদাহরণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। বিবিসির সংবাদদাতাও ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেছেন সেখানে কিভাবে জ্বালাও-পোড়াও চলেছে। তবে এগুলোর সঙ্গে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রতিবেদনের কোনো মিল নেই।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে মিয়ানমার সেনাবাহিনী নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ দূর করার চেষ্টা করছে। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনী সহিংস অভিযানের পর থেকে জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনকে মিয়ানমারে প্রবেশ করে সঠিক তথ্য যাচাইয়ের দাবি জানিয়ে আসছিল বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা। কিন্তু রাখাইন রাজ্যে সংবাদমাধ্যমের প্রবেশের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কড়াকড়ি রয়েছে। কিছুদিন আগে সরকার তাদের নিয়ন্ত্রণে সাংবাদিকদের একটি দলকে রাখাইন সফরে নিয়েছিল। ওই সফরে গিয়ে বিবিসির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের প্রতিনিধি জোনাথন হেড দেখেছেন, রোহিঙ্গাদের কয়েকটি গ্রাম আগুনে পুড়ছে। গ্রামগুলোতে পুলিশের সঙ্গে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পুরুষদেরও এসব সহিংসতায় জড়াতে দেখেছেন তিনি। গত আগস্টে রাখাইনের কয়েকটি পুলিশ পোস্টে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলার পর রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে সহিংস অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। গত ২৫ অগাস্ট থেকে শুরু হওয়া এ সহিংস পরিস্থিতির কারণে প্রাণ বাঁচাতে এরই মধ্যে ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। সূত্র: বিবিসি।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি