আজ শুক্রবার, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৪ নভেম্বর ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : জিম্বাবুয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট এমারসনের শপথ গ্রহণ       সততা ও উন্নয়নের কারণেই আগামীতেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা       চট্টগ্রাম পর্বের শুরুতে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে খুলনা       ফতুল্লায় ভেকু চাপায় শ্রমিকের মৃত্যু, লাশ গুম চেষ্টার অভিযোগ       রংপুর-খুলনা ম্যাচ দিয়ে বিপিএলের চট্টগ্রাম পর্ব শুরু       ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে বারী সিদ্দিকীর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত       কালিয়াকৈরে ট্রেন-ট্রাক সংঘর্ষ, ট্রেনের সহকারী চালক নিহত      
কাইরন আর অমির ব্যাটিং নৈপুণ্যে ঢাকা ডায়নামাইটসের টানা তৃতীয় জয়
Published : Wednesday, 15 November, 2017 at 8:35 PM, Count : 23
স্পোর্টস রিপোর্টার : ম্যাচটা প্রায় হেরেই বসেছিল ঢাকা ডায়নামাইটস। তবে হাল ছাড়েননি কাইরন পোলার্ড ও জহুরুল ইসলাম অমি। এই দুজনের ব্যাটিং নৈপুণ্যে নিশ্চিত হেরে বসা ম্যাচে জয় পেল ঢাকা ডায়নামাইটনস। প্রথমে ব্যাটিং করে খুলনা সংগ্রহ করে ১৫৬ রান। জবাবে এক বল হাতে রেখেই চার উইকেটে জিতে ম্যাচটা পকেটে পুরল সাকিব আল হাসানের দল। গতকালের এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষেও উঠলেন সাকিব-আফ্রিদিরা। এবারের পঞ্চম বিপিএলে গতকালের ম্যাচেই টি-টোয়েন্টির টান টান উত্তেজনা ছিলো সবচেয়ে বেশি। ম্যাচে সময় বাড়ার সাথে সাথে বিবর্ণ শুরুর পর খুলনা টাইটানসকে লড়ার মত রান এনে দেন কার্লোস ব্র্যাথওয়েটের ঝড়। সেই রান তাড়ায় ঢাকা ডায়নামাইটসের শুরুটা হলো আরো বাজে। কিন্তু খুনে এক ইনিংসে ম্যাচের মোড় পাল্টে দিলেন কাইরন পোলার্ড। শেষের উত্তেজনায় আলো ছড়াল জহুরুল ইসলামের ব্যাট। রোমাঞ্চকর জয়ে ঢাকা ডায়নামাইটস করল জয়ের হ্যাটট্রিক। গতকালের এই ম্যাচে খুলনা টাইটানসকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে ঢাকা ডায়নামাইটস। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ক্যারিবিয়ান টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক ব্র্যাথওয়েটের ঝড়ো ইনিংস খুলনাকে এনে দিয়েছিল ১৫৬ রানের পুঁজি। ঢাকা শুরুতে ধুঁকলেও ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন পোলার্ড। পরে জহুরুলের অপরাজিত ইনিংসে জেতে তারা ১ বল বাকি থাকতে। শেষ ওভারে ঢাকার প্রয়োজন ছিল ৬ রান। খুলনার ব্যাটিংয়ের নায়ক ব্র্যাথওয়েট বোলিংয়েও শেষ সময়ে দলকে জাগান আশা। ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডারের করা মাচের শেষ ওভারের প্রথম দুই বলে রান নিতে পারেননি জহুরুল। পরের দুই বলে আসে দুটি সিঙ্গেল।
হঠাৎই তখন কঠিন ঢাকার সমীকরণ। ২ বলে দরকার ছিল ৪ রান। পঞ্চম বলে দারুণ এক রিভার্স স্কুপে চার মেরে দলকে আনন্দে ভাসান জহুরুল। ঢাকা রান তাড়ার শুরু করে চার ম্যাচে চতুর্থ উদ্বোধনী জুটি দিয়ে। এভিন লুইসের সঙ্গে আগের তিন ম্যাচে ওপেন করেছিলেন মেহেদী মারুফ, কুমার সাঙ্গাকারা ও শহিদ আফ্রিদি। এবার লুইসের সঙ্গী সুনিল নারাইন। তবে সেই ফাটকা কাজে লাগেনি। তিনে নেমে ঝড় তুলতে পারেননি শহিদ আফ্রিদিও। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে ক্যামেরন ডেলপোর্টের বেলস ওড়ান জোফ্রা আর্চার। আকিলা দনঞ্জয়ার প্রথম বলেই ফেরেন নারাইন। মিড অন থেকে অনেকটা দৌঁড়ে সামনে ঝাঁপিয়ে সীমানার কাছে অসাধারণ ক্যাচ নেন মাহমুদুল্লা। খুলনা অধিনায়ক পরে বল হাতে নিয়ে ফেরান প্রতিপক্ষ অধিনায়ক সাকিবকে (১৭ বলে ২০)। ১০ ওভার শেষে ঢাকার রান ছিল ৫ উইকেটে ৪৮। কে ভাবতে পেরেছিল, একাদশ ওভার থেকেই শুরু হবে এমন টর্নেডো! মাহমুদুল্লার এক ওভারেই চারটি বিশাল ছক্কা মারেন পোলার্ড। ব্র্যাথওয়েটের এক ওভারে দুটি চার, দুটি ছয়। টাইমিং আর পেশিশক্তির মিশেলে সবগুলোই বিশাল ছয়। জহুরুল ইসলামের সঙ্গে জুটির পঞ্চাশ আসে মাত্র ২৫ বলেই, তাতে পোলার্ডের রানই ছিল ৪৬! ফিফটি করেন ১৯ বলে, বিপিএলে যা তৃতীয় দ্রুততম পঞ্চাশ। শেষ পর্যন্ত এই তা ব থামান শফিউল। তার একটি বাউন্সার পোলার্ডের মাথার উপর দিয়ে চলে যায় বাউন্ডারিতে। পরের বলটিও ছিল শর্ট বল, তবে এটি স্লোয়ার শর্ট। ৬ ছক্কায় ২৪ বলে ৫৫ করে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন পোলার্ড। জয়ের জন্য ঢাকার প্রয়োজন ছিল তখন ৩২ বলে ৪৩ রান। জহুরুল ও মোসাদ্দেক দলকে এগিয়ে নেন ঠা া মাথায়। শেষ ২ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৯ রান। শেষের আগের ওভারের প্রথম বলে বাউন্ডারি মারেন জহুরুল, শেষ বলে মোসাদ্দেক। ওভার থেকে আসে ১৩ রান। এরপর শেষ ওভারের নাটকীয়তায় নায়ক জহুরুল। অপরাজিত থাকেন ৩৯ বলে ৪৫ রানে। ঢাকার আগে ব্যাটিংয়ে খুলনার শুরুটাও ছিল বাজে। টপ অর্ডারের দুর্দশা কাটাতে এদিন উদ্বোধনী জুটিতে পরিবর্তন আনে খুলনা। নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে শুরু করেন মাইকেল ক্লিঙ্গার। ম্যাচের প্রথম ওভারে দুটি চারে শুরু করেছিলেন দুজন। এরপর আর করতে পারেননি বেশি কিছু। সাকিবের বলে আবু হায়দারের দারুণ ক্যাচে ফেরেন ক্লিঙ্গার। এরপর এবার প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা ধীমান ঘোষ ব্যর্থ। থিতু হয়েও সুনিল নারাইনকে উইকেট উপহার দিয়ে ফেরেন শান্ত।
পোলার্ডের এক ওভারে দুটি চার মারার পর অধিনায়ক মাহমুদুল্লা ফেরেন আফ্রিদিকে অযথাই রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে। ১৪ ওভার শেষে খুলনার রান ছিল ৪ উইকেটে ৭৯। এরপরই ব্র্যাথওয়েটের ঝড়। প্রথম ৩ ওভারে ৯ রান দেয়া আফ্রিদির শেষ ওভারে দুটি ছক্কা মেরে শুরু। পরের ওভারে সাকিবকে মারেন দুটি চার, এক ছক্কা। দারুণ জুটিতে ব্র্যাথওয়েটকে সঙ্গ দেন রাইলি রুশো। জুটির পঞ্চাশ আসে ৩১ বলেই। ৩০ বলে ৩৪ করে ফেরেন রুশো। তবে ব্র্যাথওয়েটের ঝড় থামানো যায়নি। প্রথম ৩ ওভার মাত্র ৭ রান দেয়া নারাইনের শেষ ওভার থেকে আসে ১৫ রান। ইনিংসের শেষ ওভারে আবু হায়দারের দুটি ফুল টসে বিশাল দুটি ছক্কা। ২৯ বলে ৬৪ রান করে অপরাজিত থাকেন ব্র্যাথওয়েট। ৪টি চারের পাশে ইনিংসে ছক্কা ৬টি। শেষ ৬ ওভারে খুলনা তোলে ৭৭ রান। পায় লড়াই করার পুঁজি। লড়াই জমে উঠেছিলও দারুণ। কিন্তু পার্থক্য গড়ে দিলেন পোলার্ড। শেষ করলেন জহুরুল। উল্লাসে মাতল ঢাকার ড্রেসিং রুম ও গ্যালারি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
খুলনা টাইটানস : ১৫৬/৫ (শান্ত ২৪, ক্লিঙ্গার ১০, ধিমান ২, রুশো ৩৪, মাহমুদুল্লা ১৪, ব্র্যাথওয়েট ৬৪*, আরিফুল ৪*; খালেদ ০/৯, মোসাদ্দেক ০/১৫, আফ্রিদি ১/২৩, সাকিব ১/৩২, আবু হায়দার ২/৪০, নারাইন ১/২২, পোলার্ড ০/১৩)।
ঢাকা ডায়নামাইটস : ১৫৭/৬ (১৯.৫ ওভার) (লুইস ৪, নারাইন ৭, আফ্রিদি ১, দেলপোর্ত ২, সাকিব ২০, জহুরুল ৪৫*, পোলার্ড ৫৫, মোসাদ্দেক ১৪*; আবু জায়েদ ১/২৪, শফিউল ২/২৪, আর্চার ১/২৬, দনঞ্জয়া ১/১৭, ব্র্যাথওয়েট ০/৩৪, মাহমুদুল্লা ১/২৯)
ম্যান অব দা ম্যাচ: জহুরুল ইসলাম
ফলাফল : ঢাকা ডায়নামাইটস ৪ উইকেটে জয়ী।






« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি