আজ বুধবার, ৪ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ১৭ জানুয়ারী ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : ৬ মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন দেয়ার নির্দেশ       ডিএনসিসির উপ-নির্বাচন স্থগিত       কলম্বিয়ায় সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত : নিহত ১০       রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তির বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের গভীর উদ্বেগ       উত্তরা মেডিকেলের ৫৭ শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রমে বাধা নেই       না.গঞ্জে ডাকাত সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত দুই       শাহজালালে ৩১৮ কার্টন সিগারেট জব্দসহ আটক ২      
নৈতিক অবক্ষয় রোধ, কৈশোর থেকে তারুণ্য
Published : Thursday, 30 November, 2017 at 11:03 AM, Count : 73
নৈতিক অবক্ষয় রোধ, কৈশোর থেকে তারুণ্যজয়িতা বড়ুয়া (ইলা) : আমরা যখন দেখি একটা ২০-২২ বছরের যুবক সিগারেট, মদ কিংবা অন্যান্য নানা নেশায় মত্ত হয়ে আছে, তখন আমরা বলি তরুণ সমাজ ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

তাকে রুখতে হবে। আমরা গোড়াতেই গলদ করি। কারণ আমরা শৈশব থেকে কৈশোর বয়সের সময়টাকে উপেক্ষা করে যাই। একটু চিন্তা করে দেখুন তো যে শিশুকে আপনি শৈশব থেকে নানাবিধ সুশিক্ষা দিয়ে এসেছেন (যেমন : গুরুজনদের মান্য করা, সময়মত লেখাপড়া করা, নামাজ পড়া (যার যার ধর্মানুযায়ী), প্রার্থনা করা, কোন আত্মীয় বেড়াতে আসলে তাদের যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়া, প্রতিবেশীদের সাথে কিংবা বন্ধুদের সাথে ভালো আচরণ করা) সেইসব শিশুরা কিন্তু তারুণ্যে এসে নিজেদের সহজে বিপথে পরিচালিত করবে না।

কারণ আমাদের অবচেতন মনে আমাদের মা-বাবার দেয়া শিক্ষার শিকড় প্রোথিত রয়েছে ওতপ্রোতভাবে। যেটাকে ঝেড়ে ফেলা এতটা সহজ না। সহজ না বলেই আজও পারিবারিক মূল্যবোধ বলতে অবশিষ্ট কিছু আছে। অবশ্য তখন তো এ রকম বিভিন্নভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার ছিল না। সন্তানরা মা-বাবার কথা শুনতেন। সহজে অন্যায় আচরণ করতেন না। আরেকটি বিষয় হচ্ছে বর্তমান যুগ ডিজিটাল যুগ। যেখানে প্রতিটা পরিবারের সদস্যদের রয়েছে মোবাইল, ট্যাব, ল্যাপটপ, আই ফোন ইত্যাদি অত্যাধুনিক জিনিস। যার বদৌলতে যে কোন সন্তান মুহর্তেই বদলে যেতে পারে।

যদি তাদের হাতে এসব নির্দ্বিধায় তুলে দেয়া হয়। তুলে দেয়া হয় ভুল বলছি অহরহ সবাই তুলে দিচ্ছে কিংবা দিতে বাধ্য হচ্ছে। যার কারণে প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন। শিশু কিশোরদের মাঝে সম্প্রীতি, বন্ধুত্ব, ভালবাসার পরিবর্তে সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সহিংসতার দুর্যোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। প্রতিদিন পত্রিকার পাতা খুললেই এরকম নৃশংস ঘটনার কথাই পড়তে হয়। কারণ এক বন্ধু ৬ হাজার টাকার মোবাইল ব্যবহার করছে, সেটা যখন আরেক বন্ধু নিতে চাইল, দিল না তখুনি ওদের মাঝে সৃষ্টি হচ্ছে দ্বন্দ্ব, কলহ। যার পরিণতি মৃত্যু ও খুন খারাবিতে গিয়ে ঠেকে। বয়সটা যাই হোক এই যে প্রযুক্তির কারণে সহিংসতা বেড়েই চলেছে। সন্তানরা বিপথে পরিচালিত হবার পেছনে মূল কারণ কিন্তু উন্নত প্রযুক্তির অপব্যবহার। এই অপব্যবহার রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

আমরা জেনে শুনে বিষপান করছি প্রতিনিয়ত। বর্তমানে বাংলাদেশে বেশিরভাগ পরিবার (যাদের স্কুল পড়ুয়া ১৪-১৫ বছরের সন্তান আছে) আতঙ্কগ্রস্থ। কারণ তাদের সন্তানরা মোবাইলের মাধ্যমে সবসময় ভিডিও গেম খেলছে। আবার কেউবা খারাপ কিছু দেখছে। কেউবা রাস্তার ধারে দাড়িয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে সিগারেট প্রাকটিস করছে। বিপথে গিয়ে অনেক মেধাবী কিশোর পরীক্ষায় খারাপ রেজাল্ট করছে। 

এটা অতি বাস্তবসম্মত। প্রতিটি মা-বাবাই চায় সন্তান সুশিক্ষিত হোক। কিন্তু আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যেভাবে ঘুণপোকা ধরেছে, সেই সমাজে একটা ছেলেকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করা বড় কঠিন হয়ে যাচ্ছে। বর্তমান কর্পোরেট যুগে কেউ ঘরে বসে নেই। সকলেই এক প্রকার দৌড়াচ্ছে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য। সংসারের সুখের জন্য, সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য স্বামী-স্ত্রী দুজনেই পরিশ্রম করছেন প্রতিনিয়ত। এ কারণেই দেখা যায় বেশিরভাগ পরিবারে মা চাকুরীজীবী, বাবা হয়তো ব্যবসায়ী কিংবা চাকুরীজীবী। সন্তানদের সবসময় নজরে রাখা সম্ভব হয় না এবং সময়ের অভাবও অনেকাংশে দায়ী। যার ফলে সন্তানরা স্বাধীনভাবে মোবাইল, ট্যাব কিংবা ল্যাপটপ ব্যবহার করছে। আর স্বাধীনতা বেশি পাওয়ার কারণে তারা খুব সহজেই বেকে যাচ্ছে কৈশোর থেকেই। অনেক অভিভাবক মনে করেন সন্তান একটি অন্যায় করল, এ জন্য তাকে শাস্তি হিসাবে বেত্রাঘাত করলাম, সকলের সামনে অপমান করলাম তাতেই কাজ হবে।

এক্ষেত্রে কিন্তু বিপরীতটাই হয়। সন্তানটি আরো বেশী উচ্ছৃংখল হয়ে যায়। হয়তো সুন্দরভাবে বোঝানো যায়। কিন্তু কতক্ষণ বোঝাবেন? যতক্ষণ বাসায় থাকে ততক্ষণ ঠিক থাকে। যেই বন্ধুদের সাথে মিশতে যায় তখন আবার আগের মতো হয়ে যায়। এর সমাধান কিভাবে করা যায় সেই চিন্তা করাটা জরুরী হয়ে পড়েছে। এসব প্রতিরোধে পরিবারের সকলকে সচেতন হতে হবে পাশাপাশি স্কুলের শিক্ষকরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতিটা স্কুলে যদি সপ্তাহে একদিন এই বিষয়ে স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

কিংবা শিক্ষার্থীদের সুন্দরভাবে প্রযুক্তি ব্যবহারের সুফল, কুফল বুঝিয়ে দেন তাহলে অনেকাংশে শিশু কিশোরদের সুপথে পরিচালিত হওয়ার মানসিক ভিত গড়া হয়তো অনেকাংশে সম্ভব। অনেক ছেলে-মেয়ে আছে যারা শিক্ষকদের কথাকে খুবই মূল্যায়ন করে।

আজকের কিশোররাই আগামী দিনের তারুণ্য। তারাই দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। তাদের সুন্দরভাবে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হলে পারিবারিক মূল্যবোধ সম্পর্কে জ্ঞান দান, ধর্মচর্চায় অভ্যস্ত করে উন্নত প্রযুক্তির মোবাইল, ট্যাব, ল্যাপটপ বিনা কারণে তাদের হাতে তুলে দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এসবের পরিবর্তে বেশী বেশী সন্তানের পছন্দমতো শিক্ষণীয় বই তাদের হাতে তুলে দিন। বই পড়তে উৎসাহিত করুন। আগেকার সময়ে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী বই পড়তে বেশি উৎসাহী ছিলো। তাই তারা অন্যদিকে মনযোগ দিতো না। বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট এর বদৌলতে বই পড়ার হার অনেকাংশে কমে গেছে। পরিবারের অভিভাবকদের উচিত জন্মদিনে বা বিশেষ কোন দিবসে সন্তানদের বিভিন্ন রকমের বই উপহার দিয়ে তাদের পড়তে উৎসাহিত করা।

বিভিন্ন সৃজনশীল কাজের সহিত যুক্ত করানো এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়া। যেমন কবিতা আবৃত্তি, গান, নাচ, অভিনয় কিংবা বিতর্ক করার মনমানসিকতায় সন্তানদের গড়ে তোলা। ছোটকাল থেকেই ওদের এসবের প্রতি আগ্রহী করে তোলার দায়িত্ব পরিবারের সকলের। সৃজনশীল যে কোন বিষয়ের প্রতি আগ্রহটা এনে দিতে পারলে সেই সন্তানকে নিয়ে আর চিন্তা করতে হবে না। তার মধ্যে সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটবেই। তাই পরিবারের সকলেই সচেতন হউন, সন্তানদের বিপথে যাওয়া রুখে দিন। নাহলে ভবিষ্যত বড়ই অন্ধকার। 

লেখক : কলাম লেখক ও প্রাবন্ধিক


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি