আজ বৃহস্পতিবার, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : বীর সন্তানদের শ্রদ্ধায় প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ       মীরসরাইয়ের উপকূলে আগত অতিথি পাখির নিরাপত্তা জরুরী       হাইড্রোলিক হর্ন উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ       বিদেশি লিগের ছাড়পত্র পেলেন না 'কাটার মাস্টার'       সু চির খেতাব প্রত্যাহার করল ডাবলিন সিটি কাউন্সিল       শাকিবের পরেই মোশাররফ করিম       আপন জুয়েলার্সের তিন মালিকের তিন মামলায় জামিন      
ছয় জোটের লড়াই হবে ভোটের মাঠে
Published : Thursday, 7 December, 2017 at 8:41 PM, Count : 42
সুজন দে : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জোট গঠনের উদ্যোগ চলছে। বড় দলগুলো যেমন তাদের জোটের পরিধি বাড়াতে তৎপর, তেমনি ছোট দলগুলোকে বড় দলগুলোর কাছে নিজেদের কদর ভাড়াতে নিজেরাই নতুন নতুন জোট করছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের পাশাপাশি  অন্তত আরো চারটি জোট নির্বাচনকে সামনে রেখে সক্রিয় হয়ে উঠছে। এই জোটগুলো হলোÑ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোট, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা:এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট, সিপিবির নেতৃত্বে একটি বামজোট ও ইসলামি দলগুলোর নেতৃত্বে আরো একটি জোট গঠনের প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়ে গেছে।
এর ফলে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে সব মিলিয়ে ছয়টি নির্বাচনী জোট গঠিত হচ্ছে। এই ছয় জোটের ব্যানারেই  রাজনৈতিক দলগুলো একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোটের মাঠে লড়াইয়ের  জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, নির্বাচনের আগে  জোট হয়  লোক  দেখানোর জন্য। কিন্তু অধিকাংশ  জোটই নাম ও প্যাডসর্বস্ব। কার্যত দলগতভাবেই নির্বাচন হয়। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতকেই মাঠে  দেখা যায়। এটা সবাই জানে। তার পরও কিছুটা শক্তি বাড়ানোর প্রতিযোগিতা থাকে প্রধান দলগুলোর মধ্যে।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সক্রিয় ১৪ দলীয় জোট:  আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের ব্যানারে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।   আওয়ামী লীগের   একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, আমাদের শরিক দলগুলোর হয়তো জনসমর্থন কম আছে। কিন্তু  ১৪ দলীয় জোট আমাদের আদর্শিক ভোট। তাই বরাবরের মতো আগামীতে শরিকদের সাথে রেখেই আমরা নির্বাচনে অংশ নেবো।
২০০৪ সালে ১৪ দল গঠনের উদ্যোগ শুরু হয়। নানামুখী  চেষ্টার ফলে পরের বছর ২৩ দফা  ঘোষণা সামনে  রেখে বাম প্রগতিশীল  জোট ১১ দল এবং আওয়ামী লীগ, জাসদ ও ন্যাপ মিলে ১৪ দল গঠিত হয়। বর্তমানে ১৪ দলে আওয়ামী লীগ ছাড়াও ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, সাম্যবাদী দল, গণতন্ত্রী পার্টি, কমিউনিস্ট কেন্দ্র, গণআজাদী লীগ, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, বাসদ (একাংশ), জাতীয় পার্টি (জেপি) ও তরীকত ফেডারেশন জোটে রয়েছে।
এ ব্যাপরে ১৪ দলের সমন্বয়ক আওয়ামী লীগের  প্রেসিডিয়াম সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী  মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ১৪ দল একসঙ্গে আছে, একসঙ্গেই থাকবে, আমরা একসঙ্গে লড়াই-সংগ্রাম করেছি এবং করছি। আগামীতেও ১৪ দল একসঙ্গে নির্বাচন করবে। আল্লাহ চাইলে একত্রে সরকারও গঠন করতে পারব।
তবে খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে জোটের পরিধি না বাড়িয়ে মিত্র বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ । এ ক্ষেত্রে বরাবরে মতো জাতীয় পার্টি ছাড়াও আরো কয়েকটি ইসলামি ও বাম দলের সঙ্গে নির্বাচনী জোট গঠন করতে পারে ক্ষমতাসীনরা।
২০ দল নিয়ে নির্বাচনে যাবে বিএনপি:  ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মতো ২০ দলীয় জোটের ব্যানারেই নির্বাচনে যাবে বিএনপি। বিএনপির নেতৃত্বাধীন  ২০ দলীয় জোটে  জামায়াত ছাড়া  রয়েছে ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত মজলিশ, বিজেপি, এলডিপি, কল্যাণ পার্টি, জাগপা, এনপিপি, এনডিপি,  লেবার পার্টি, ইসলামিক পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাপ, ন্যাপ ভাসানী, মুসলিম লীগ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, পিপলস লীগ, ডেমোক্রেটিক লীগ, সাম্যবাদী দল ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর)।
তবে ২০ দলীয় জোটে ৮টি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন থাকলেও ১২টি দলের নিবন্ধন নেই। এ ছাড়া জামামাত ছাড়া বাকি ১৮ দলের তেমন কোনো ভোট ব্যাংকও নেই। তারপরও আগামী জাতীয় নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের ব্যানারেই অংশ নেবে বিএনপি।
এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, আমরা ২০ দলীয় জোটগত ভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে। জামায়াতও আমাদের সঙ্গে আছে, নির্বাচনও তাদের নিয়ে করব। নির্বাচনের আগে যদি তারা তাদের  দলীয় প্রতীক ফেরত না পায়, তাহলে আমাদের দলীয় প্রতীক নিয়ে তারা নির্বাচন করবে।
সম্মিলিত জাতীয় জোট নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে চান এরশাদ : আওয়মী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে বের হয়ে নিজেই আলাদা জোট গঠন করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সমিম্মিলত জাতীয় জোট নামে এই জোটে রাজনৈতিক দলের সংখ্যা  ৫৮টি। এর মধ্যে জাতীয় পার্টি ছাড়া নিবন্ধিত দল রয়েছে মাত্র  একটি। এ  জোটে জাতীয় পার্টি ও ইসলামী ফ্রন্ট ছাড়া সবই ‘নাম’ ও ‘প্যাডসর্বস্ব’। তার পর এই জোটের ব্যানারে আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবেন এরশাদ, এমন ঘোষণাই বারবার দিচ্ছেন তিনি।
তবে জাতীয় পার্টির একাধিক শীর্ষ নেতা ভোরের ডাককে নিশ্চিত করেছেন, আগামী নির্বাচনে যদি বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট অংশগ্রহণ করে, তাহলে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সঙ্গে  সমঝোতা করেই অংশ নেবে।
তিনশ আসনেই প্রার্থী দেবে যুক্তফ্রন্ট: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনেই জোটের প্রার্থী দেবে বলে জানিয়েছেন, নবগঠিত রাজনৈতিক জোজ যুক্তফ্রন্টের নেতারা। এই ব্যাপারে  জোটের  অন্যতম শীর্ষ নেতা ও নাগরিক  ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমরা আগামী জাতীয় নির্বাচনে ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেবো। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই আমাদের কর্মসূচি ঠিক করে মাঠে নামব। আশা করছি বিজয় দিবসের পর পরই সারা দেশে সভা সমাবেশ করে আমরা তৃণমূল পর্যায়ে যুক্তফ্রন্টের কার্য্যক্রম ছড়িয়ে দেব।
উল্লেখ্য কয়েকদিন আগে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্প ধারার  প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে  চেয়ারম্যান করে চারটি  ছোট রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে ‘যুক্তফ্রন্ট’ নামে একটি রাজনৈতিক  জোট। দলগুলো হলো বিকল্প ধারা,  জেএসডি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও নাগরিক ঐক্য।
সোমবার রাতে  জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসায় এই  জোটের  ঘোষণা  দেয়া হয়।
শিগগিরই  হচ্ছে বামপন্তীদের নয়া জোট: সিপিবি, বাসদ এবং গণতান্ত্রিক বাম  মোর্চাভুক্ত বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাসদ (মার্কসবাদী), গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ ও সমাজতান্ত্রিক দলকে নিয়ে নতুন একটি জোট গঠিত হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকমাস ধরে এইসব দলগুলো যুগপৎভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে।
জানা গেছে,ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি পালনের  পাশাপাশি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে  রেখে বাম দলগুলোর  নেতারা নতুন  জোট গঠনের  জন্য কাজ করছেন ।
ইসলামি দলগুলোর জোট আসছে জানুয়ারিতে : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামভিত্তিক সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে বড় জোট গড়তে গত এক বছর ধরে কাজ করছে ইসলামী ঐক্যজোট। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন   জোটের বাইরে বড় জোট হলে নির্বাচনী সমঝোতায় সুফল পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন দলের নেতারা। সমমনা দলগুলোকে নিয়ে জানুয়ারি মাসে বড় সমাবেশ করে জোট ও নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে ঘোষণা দেয়ার কথা ভাবছেন তারা। এসব দলের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ও ফরায়েজি আন্দোলন, ওলামা কমিটি, খেলাফতে ইসলামী, মুসলিম লীগসহ আরও কয়েকটি ইসলামভিত্তিক দল।
ইসলামী ঐক্যজোট সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ত্যাগের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জানুয়ারিতে ঢাকায় মহাসমাবেশ করার প্রস্তুতি  নেয়া হচ্ছে। শরিকদের সম্মতি পেলে এই সমাবেশ থেকেই জোটের আত্মপ্রকাশ ও নির্বাচনে ৩০০ আসনে জোট থেকে অংশ নেয়ার ঘোষণা দেয়া পরিকল্পনা ইসলামী ঐক্যজোটের।







« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি