আজ শনিবার, ২ পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা শাসকগোষ্ঠীর দমননীতির বহিঃপ্রকাশ       পঞ্চগড়ে বিজয় বাইসাইকেল র‌্যালি       একদিনে ২৯ জঙ্গিকে ফাঁসি দিল ইরাক       শনিবার স্মৃতিসৌধে যাবেন খালেদা জিয়া        উ.কোরিয়ার মোকাবেলায় একসঙ্গে কাজ করবে মার্কিন-রাশিয়া       ঠাকুরগাঁও টিকিট কাটাকে কেন্দ্র করে কর্তৃপক্ষের হামলায় আহত ৫       নওগাঁয় ওভারব্রিজে ধাক্কা লেগে ট্রেনের ১যাত্রীর মৃত্যু      
রাজউকের এক কর্মকর্তার দখলেই ২০টি প্লট
কর্মচারীরাও এক একজন আঙুল ফুলে কলাগাছ
Published : Thursday, 7 December, 2017 at 8:49 PM, Count : 18
সাইদুল ইসলাম : রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে (রাজউক) চাকরি হলে অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যেমে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়ে যাচ্ছেন। চাকরির সুবাধে অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারি নামে বেনামে প্লট নিয়েছেন। অনেকে অনিয়ম করে ইতিমধ্যে কোটি কোটি টাকার মালিকও হয়েছে দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগ প্রমানিত হওয়ার পর একাধিক কর্মকর্তাকে ইতিমধ্যে জেলেও পাঠানো হয়েছে। তারপরেও অনিয়ম যেন বাড়ছে। তবে এবার তার চেয়ে ভয়াভহ অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রতিষ্ঠনটির উত্তরা জোনের সহকারী পরিচালক শামসুল আলমের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে ২০ টি প্লট দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে রাজউকের চেয়ারম্যান ও দুদকের কাছে লিখিত অভিযোগ করার পরেও ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শামসুল আলম দীর্ঘদিন ধরে রাজউকের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে তিনি উত্তরা জোনের সহকারী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।
এই সুযোগে তিনি উত্তরার ৯ নং সেক্টরে ৫ কাঠা জমির উপর ৮ তলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। উত্তরা জোন ও প্রধান কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী এ বিষয়ে লিখিতভাবে রাজউকের চেয়ারম্যানের কাছে ইতিমধ্যে অভিযোগ করেছেন। ওই অভিযোগে আরো বলা হয়, তিনি নামে-বেনামে আরো ২০টি প্লট একাই নিজের দখলে রেখেছেন। এ ছাড়া, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন সময় একজনের জমি অন্যজনের নামে বরাদ্দ দিয়েছেন। এ ছাড়া, তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে রাজউকের এক গণশুনানিতেও উত্তরা-নিকুঞ্জ এলাকার ভুক্তভোগীরা নানা অভিযোগ করেছেন। এসব অভিযোগের পরেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন শামসুল আলম।
জানা গেছে, উত্তরা ৯নং সেক্টরে ৪ নম্বর সড়কে ২৭ নং প্লটে ৫ কাঠা জমির উপর ৮ তলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এ ছাড়া উত্তরা ৭ নং সেক্টরে ১৮ নং রাস্তায় ৬৭নং প্লট ভগ্নিপতি সাজিয়ে ভুয়া দলিল তৈরি করে নিজে মালিক হয়েছেন। যার মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। ওই প্লটটি এখনো পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। নিকুঞ্জ দক্ষিণে ৭/বি রাস্তায় ৩০ নং প্লট স্ত্রীর নামে ক্রয় করে সীমানা ওয়াল দিয়ে রেখেছেন। নিকুঞ্জ ৮/ডি রাস্তায় ৮নং প্লটটি বেনামে পাওয়ার মাধ্যমে ক্রয় করেছেন। একই সড়কে ২৪ নং প্লটটিও বেনামে পাওয়ার মাধ্যমে ক্রয় করেন। নিকুঞ্জ ৯/সি রাস্তার ১১ নং প্লট বেনামে পাওয়ার মাধ্যমে ক্রয় করেন। নিকুঞ্জ ১/ডি রাস্তার আড়াই কাঠা আয়তনের ৩০ নং প্লট পরিবর্তন করে ১ নম্বর রাস্তায় ৫ কাঠা আয়তনের ১৩ নং প্লট আত্মীয়ের নামে বরাদ্দ করে নেন। উত্তরা আ/এ ১৪ নম্বর সেক্টরে ২০/এ রাস্তায় ১৩ নম্বর প্লটটি পরিবর্তনের জন্য বোর্ড সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে। যা বরাদ্দ গ্রহীতার সাথে মোটা অংকের টাকা উৎকোচ এর বিনিময়ে কাজ করে দেয়ার চুক্তি করেন। বিভিন্ন সময় রাজউকের কর্মচারীদের দেয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০-২২টি প্লট নামে-বেনামে দখলে রেখেছে শামসুল আলম।
জানা গেছে, শামসুল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছে দুদক। প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠানটি দেখতে পেয়েছে, বনানীর কে ব্লকে ২৮ নম্বর সড়কের ১৭/এ হাউজ (৫ কাঠা প্লট) পরস্পর যোগসাজশে জালিয়াতির মাধ্যমে বরাদ্দ দেয়া হয়। দুদক এ জন্য অভিযুক্তে ২০১৬ সালের ১২ মে দুদক কার্যালয়ে হাজির হবার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আলী আকবরকে নির্দেশ দেন। এ ছাড়া, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (প্রশাসন-২) খেনচান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনামায় দেখা যায়, গত বছরের ২৯ মার্চ শামসুল আলমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিনিয়র সহকারী সচিব (প্রশাসন-৬) শ্যামলী নবীকে সরেজমিনে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু এক বছরের বেশি সময় পার হবার পরেও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। এসব অভিযোগ তদন্তাধীন থাকার পরও তিনি নিয়মিত অফিস করছেন। তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেয়ার সময় ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। এখন তিনি পদোন্নতি পেয়ে সহকারী পরিচালক (এস্টেট-২) হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারিরা।
রাজউকের একাধিক কর্মচারীর অভিযোগ, শামসুল আলম বিরুদ্ধে আমরা লিখিতভাবে অভিযোগ করেছি। এ ছাড়া, গণশুনানিতে নানা সময় অভিযোগ দিচ্ছেন উত্তরা ও নিকুঞ্জ এলাকার বাসিন্দারা। কিন্তু আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিদের নাম ভাঙিয়ে প্রভাব খাটিয়ে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন তিনি। এ বিষয়ে শামসুল আলম বলেন, আমার বিরুদ্ধে এতো অভিযোগ করা হচ্ছে এখন আমার কিছু বলার নেই। তদন্ত চলছে, শেষ হলে তখনই বুঝা যাবে,  দেখেন কয়টা অভিযোগ সত্য। এ বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনিরুজ্জামানের বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ আসায় অনুসন্ধান চলছে। দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।।








« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি