আজ মঙ্গলবার, ৩ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ১৬ জানুয়ারী ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : সরকারের আশ্বাসে অনশন ‌ভাঙলেন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী শিক্ষকরা       প্রণব মুখার্জিকে ডি-লিট ডিগ্রি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের       একনেকে ১৮৪৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৪ প্রকল্প অনুমোদন       ৮ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল       সিদ্ধান্তে অটল শাকিব খান, সমঝোতা চান অপু বিশ্বাস       চাঁদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩        আজ আ.লীগের মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা      
ঝাঁপা বাওড়ের ভাসমান সেতুতে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভীড়
Published : Tuesday, 9 January, 2018 at 7:43 PM, Count : 274
ঝাঁপা বাওড়ের ভাসমান সেতুতে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভীড়আব্বাস উদ্দীন,মণিরামপুর (যশোর) সংবাদদাতা : দীর্ঘ দিন ধরে ধারাবাহিক ভাবে নির্মাণ কাজের পর অবশেষে চলাচলের জন্য গত ২ জানুয়ারী-২০১৮, উদ্ধোধনের মাধ্যমে জনগণের পারাপারের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জের ঝাঁপা বাঁওড়ে প্লাস্টিকের ড্রামের ওপর নির্মিত ভাসমান সেতুটি।

উদ্বোধনের পর থেকে স্থানীয় মানুষের চাহিদা মোতাবেক সেতু দিয়ে হরহামাষা পারাপার হচ্ছে। সেই সাথে দুর-দুরান্ত থেকে প্রতিদিন প্রচুর সংখ্যক দর্শনার্থী সেতুটি দেখার জন্য ভিড় জমাচ্ছে।

প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেতুর দু’ধারে উৎসুক দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়ে সেতুর পূর্বপাশ্ব রাজগঞ্জ বাজার ও পশ্চিমপাশ্ব ঝাঁপা গ্রামসহ পাশ্ববর্তী এলাকাজুড়ে মানুষের মিলন মেলায় পরিনত হচ্ছে। প্রতিদিন দুর দুরান্ত থেকে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ও স্কুলের শিক্ষার্থীরা সেতুটি এক নজর দেখার জন্য ভীড় জমাচ্ছে ব্রীজের দু’ধারে।

সরেজমিন ব্রীজটি গতকাল দেখতে যেয়ে প্রচুর সংখ্যক দর্শনার্থীদের ব্রীজ পারাপার ও দেখার জন্য ভীড় করতে দেখা যায়।  কথা হয় বাঁকড়া গ্রাম থেকে মেয়ের বাড়ি ঝাঁপা গ্রামে বেড়াতে আসা বয়োবৃদ্ধ আব্দুর রাজ্জাকের সাথে। তিনি বলেন, ঝাঁপা গ্রামে মেয়ে বিয়ে দিয়েছি ২৫ বছর আগে। তখন পারাপার হতাম হাতে চালিত নৌকায়, তার অনেক বছর পর পারাপার হতাম ট্রালার নৌকায়, আজ ব্রীজের ওপর দিয়ে হেটে হেটে মেয়ের বাড়ি আসলাম। এখন থেকে বাওড়ের খেয়াঘাটে এসে নৌকার জন্য বসে থাকতে হবে না।

অভায়নগর নওয়াপাড়া থেকে আসা দর্শনার্থী বিল্লাল হোসেন আকাশ বলেন, পত্রিকা ও টিভিতে দেখে ফ্যামিলি নিয়ে এসেছি। ড্রামের উপর নির্মিত এমন ভাসমান ব্রীজ আগে কখনও দেখেনি । তিনি বলেন ব্রীজটি দেখে মনটা ভরে গেছে। 

উল্লেখ্য,গত ২ জানুয়ারী-২০১৮ যশোরের জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন ফলক উন্মোচন ও ফিতা কেটে এক হাজার ফুট বা ৩০৫ মিটার লম্বা দেশের দীর্ঘতম এই ভাসমান সেতুটি উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক নিজের অভিমত ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন সময়ে সেনাবাহিনী অস্থায়ী ভাসমান সেতু তৈরি করে। পরে আবার সেটা উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু প্লাস্টিকের ড্রামের ওপর এতো বড় ভাসমান সেতু হতে পারে, তাও আবার বে-সরকারি উদ্যোগে- এমনটি কোনোদিন দেখিনি বা শুনিনি। গ্রামবাসি একত্রিত হয়ে এতবড় একটা কাজ করতে পেরেছেন সেই জন্য আমি উদ্যোক্তাসহ ঝাঁপা গ্রামবাসীকে তিনি সাধুবাদ জানান।

সেতু নির্মানের বিষয় জানতে চাইলে উদ্যোক্তা শিক্ষক আছাদুজ্জামান জানান, ভাসমান সেতুটি তৈরি করতে ৮৩৯ টি প্লাস্টিকের ড্রাম, ৮০০ মণ লোহার পাত ও ২৫০ টি লোহার শিট ব্যাবহার করা হয়েছে। সেতুটি নির্মাণ করতে ৬০ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। তিনি প্রতিদিন সেতু দিয়ে লোক পারাপারে কেমন টোল আদায় হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি জানান, দর্শনার্থী ও স্থানীয় জনগণের পারাপারে তাদের প্রতিদিন যে টাকা আদায় হচ্ছে তা অনেকটা অকল্পনীয়। তিনি তাদের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। এ ব্রীজের ওপর দিয়ে পায়ে হেটে লোকজন চলাচলের পাশাপাশি বাইসাইকেল,ভ্যানগাড়ী, রিক্সা,মোটরসাইকেল,ইজিবাইক চলাচল করার সময় লোকের ভীড়ে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। যা সামাল দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে বলে তিনি জানান। তা ছাড়া ভাসমান এ সেতুর দুধারে বাঁশের তৈরি সেতুটি যানবহন ও লোকসমাগমের ভিড়ে রক্ষণাবেক্ষন করা দুষ্কর হয়ে পড়ে বলে তিনি দাবি করেন।

অবশ্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সামছুল হক মন্টু সেতু দেখতে আসা দর্শনার্থী ও সেতু দিয়ে যাতে নির্বিঘ্নে লোক চলাচল করতে পারে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ তিনি গ্রহণ করেছেন।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি