আজ শনিবার, ৭ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২০ জানুয়ারী ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : বিশাল ব্যবধানে শ্রীলঙ্কাকে হারাল টিম টাইগার       শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী নিখোঁজ       তারুণ প্রজন্মকেই আধুনিক সমাজ বিনির্মাণে এগিয়ে আসতে হবে : শিরীন শারমিন       রক্ত পরীক্ষায় খুব সহজেই ক্যান্সার শনাক্ত!       দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেলেন অর্থমন্ত্রী, আহত ৩০       না.গঞ্জে নিখোঁজের ১২ দিন পর মাদ্রাসার ছাত্রীর লাশ উদ্ধার       সাগরদাঁড়িতে আগামীকাল শুরু হচ্ছে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা      
জেএসসি-জেডিসি
খাতা পুনঃনিরীক্ষণে রেকর্ড আবেদন
Published : Friday, 12 January, 2018 at 8:49 PM, Count : 277
স্টাফ রিপোর্টার : জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় উত্তরপত্র পূনঃমূল্যায়নের জন্য রেকর্ড সংখ্যক আবেদন পড়েছে। সাধারণ আটটি শিক্ষা বোর্ড ও একটি মাদ্রাসা মিলে মোট ৯ বোর্ডের ওই পরীক্ষায় অংশ নেয়া এক লাখ তিন হাজার ৭০৫জন শিক্ষার্থী প্রাপ্তনম্বর পরিবর্তন করার জন্য আবেদন করেছে। এর মধ্যে এমন অনেক ফল বঞ্চিত পরীক্ষার্থী আছে যারা একাধিক বিষয়ে আবেদন করেছে। আবেদনের শীর্ষে রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। বিষয়ভিত্তিক আবেদনের ক্ষেত্রে  র্শীষে রয়েছে গণিত ও ইংরেজি। বিষয় ভিত্তিক ৭৮ বা ৭৯ নম্বর পেয়েও কয়েজ হাজার শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিভাবক ও পরীক্ষাথীদের ধারনা পুনঃনিরীক্ষণে এক বা দুই নম্বর বাড়লেই ফেল থেকে পাস করবেন। আবার অনেকে জিপিএ-৫ বা সকল বিষয়ে জিপিএ-৫ পাবেন। তবে বোর্ড কর্মকর্তাদের দাবি সকল বিষয়ে নম্বর দেখার সুযোগ করে দেয়ার কারণেই আবেদনের সংখ্যা বেড়েছে। তবে বিষয় প্রতি পরীক্ষার্থীদের ১২৫ টাকা করে ফি দিতে হয়েছে। এতে বোর্ডগুলোর অন্তত সোয়া দুই কোটি টাকা বাড়তি আয় হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, ঢাকা বোর্ডে ৩৭ হাজার পরীক্ষার্থীর ৭৮ হাজার ৪০০ আবেদন জমা হয়েছে। আবেদনের শীর্ষে রয়েছে গণিত ও ইংরেজি বিষয়। কুমিল্লা বোর্ডে ১২ হাজার ১৮৮ পরীক্ষার্থী ২৪ হাজার ৪০৪টি আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ইংরেজিতে ছয় হাজার ১৩৩ টি ও গণিতে তিন হাজার ১৮৩টি। রাজশাহী বোর্ডে চার হাজার ৫৬৩ জন পরীক্ষার্থী আট হাজার ৯০২টি আবেদন করেছেন। এ বোর্ডে ইংরেজিতে এক হাজার ৬৫৯টি আবেদন জমা হয়েছে। যশোর বোর্ডে নয় হাজার ৪০৮ জন পরীক্ষার্থী ১৬ হাজার ৩৭০টি আবেদন করেছেন। এর মধ্যে গণিতে তিন হাজার ৪৩৬টি আবেদন রয়েছে। চট্টগ্রাম বোর্ডে ১০ হাজার ৫৩১ জন পরীক্ষার্থী ২০ হাজার ৫২১টি আবেদন করেছেন। এ বোর্ডেও গণিতে সর্বোচ্চ আবেদন। এ সংখ্যা চার হাজার ৫৫টি। সিলেট বোর্ডে তিন হাজার ২৪৭জন পরীক্ষার্থী ছয় হাজার ৪৭৬টি আবেদন করেছেন। এর মধ্যে গণিতে এক হাজার ১৯০টি আবেদন রয়েছে। দিনাজপুর বোর্ডে ছয় হাজার ৭৩৮জন পরীক্ষার্থী ১২ হাজার ২৭৪টি আবেদন করেছেন।
ফল বিপর্যয় হওয়ার কারণে গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে আবেদনের শীর্ষে কুমিল্লা বোর্ড। এ বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল খালেক জানান, অন্য বোর্ডের তুলনায় কুমিল্লা বোর্ডে জেএসসি পরীক্ষায় পাসের হার কম ছিল। ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে শিক্ষার্থী ফেল করেছে বেশি। অভিভাবকরা ভাবছেন আবেদন করলে হয়তো ফল পরিবর্তন হবে। বিষয়টি তা নয়। তিনি বলেন, পুন:নিরীক্ষণে নতুন করে নম্বর দেয়া হয়না। অনেক শিক্ষার্থীরা ৭৯ নম্বর পেয়েছে সত্য। তাদের ৮০ নম্বর দেয়ার সুযোগ নেই পরীক্ষকদের। অন্য বোর্ডেও একই নিয়ম। শিক্ষার্থীরা প্রকৃত নম্বরের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যান্য বোর্ডে গণিত ও ইংরেজিতে আবেদনের সংখ্যা বেশি হলেও দিনাজপুর বোর্ডে তার ব্যতিক্রম হয়েছে। এ বোর্ডে সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ে আবেদন পড়েছে বেশি। এই সংখ্যা দুই হাজার ২৬৪টি। বরিশাল বোর্ডে ছয় হাজার ২১৪জন আবদেন করেছেন। এ বোর্ডে আবেদনের শীর্ষে গণিত। মাদ্রাসা বোর্ডের অধীন জেডিসিতে ১৩ হাজার ৮২০জন পরীক্ষার্থী আবেদন করেছেন। এ বোর্ডে গণিত ও আরবি বিষয়ে আবেদনের সংখ্যা বেশি। বরিশাল ও মাদ্রাসা বোর্ডে বিষয় ভিত্তিক আবেদনের সংখ্যা জানা যায়নি। তবে অন্য বোর্ডগুলোতে সব মিলিয়ে এক লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৭টি আবেদন জমা হয়েছে।
জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকার বলেন, যারা প্রত্যাশা অনুযায়ী জিপিএ-৫ পায়নি বা ফেল করেছে তারাই আবেদন করেছে। বিগত বছরের তুলনায় ঢাকা বোর্ডে আবেদনের সংখ্যা বেশি নয়। প্রথা অনুযায়ী ফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশিত হয়। সে অনুযায়ী আগামী ২৯ জানুয়ারির মধ্যে পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।
সবগুলো শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুনঃনিরীক্ষণে সাধারণত চারটি বিষয় দেখা হয়। এগুলো হলো- উত্তরপত্রে সব প্রশ্নের সঠিকভাবে নম্বর দেয়া হয়েছে কী না, প্রাপ্ত নম্বর গণনা ঠিক হয়েছে কী না, প্রাপ্ত নম্বর ওএমআর শিটে উঠানো হয়েছে কী না এবং প্রাপ্ত নম্বর অনুযায়ী ওএমআর শিটে বৃত্ত ভরাট সঠিক ভাবে করা হয়েছে কিনা। এসব বিষয় পরীক্ষা করেই পুনঃনিরীক্ষার ফল দেয়া হয়। তার মানে কোন শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়ণ হয় না। পুনঃনিরীক্ষণে যেসব ফল পরিবর্তন হয় তা মূলত; পরীক্ষকদের ভুলের কারণে। দেখা গেছে একজন পরীক্ষার্থী ৮২ নম্বর পেয়েছে সেটাকে পরীক্ষক ওএমআর শিটে ২৮ পূরণ করেছে। এল ফলে শিক্ষার্থী ফেল করে। তবে পরীক্ষক ও প্রধানপরীক্ষকদের অনেক উদাসীনতা রয়েছে। অনেক পরীক্ষক রয়েছে নিজেরা উত্তরপত্র মূল্যায়ন না করে অন্যদের দিয়ে মূল্যায়ন করান।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের দুই প্রধানপর্ক্ষীকের ভুলের কারণে হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ে এক হাজার ১৪১ জন ফেল করে। নৈর্ব্যক্তিক উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় দুই প্রধানপরীক্ষক ‘খ’ ও ‘গ’ সেট গুলিয়ে ফেলেন। তারা ‘খ’ সেট প্রশ্নের মূল্যায়ন করেন ‘গ’ সেটের উত্তরপত্রের মাধ্যমে আর ‘গ’ সেটের মূল্যায়ন করেন ‘খ’ সেটের উত্তরপত্রের মাধ্যমে। ফলে ‘খ’ সেটে যারা পরীক্ষা দিয়েছিলেন তাদের উত্তরের সঙ্গে প্রধান পরীক্ষকের ভুল উত্তরমালার সমন্বয় হয়নি। যার খেসারত দিতে হয় পরীক্ষার্থীদের। বরিশাল মহানগরীর উদয়ন স্কুলের ছাত্র সর্বজিৎ ঘোষ হৃদয় চার বিষয়ে জিপিএ-৫ পেলেও হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ে ফেল করে। ফেলের কষ্ট সইতে না পেরে সাততলা ভবন থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করে। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বোর্ড কর্তৃপফে পুনর্মূল্যায়নে সর্বজিৎত জিপিএ-৫ পায়। এছাড়া এক হাজার ৯৯৪ জনের ফল পরিবর্তন হয়। এর মধ্যে ফেল থেকে পাস করে এক হাজার ১৪১ জন। নতুন করে জিপিএ-৫ পায় ১৫ জন। এধরনের অসংখ্য ঘটনা রয়েছে। জানা গেছে, গত ৩০ ডিসেম্বর  জেএসসি ও জেডিসির ফলাফল প্রকাশিত হয়। এতে ২৪ লাখ ৮২ হাজার ৩৪২ জন ছাত্রছাত্রী অংশ নেয়। গড় পাসের হার ৮৩ দশমিক ৬৫ ভাগ।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি