আজ বুধবার, ৪ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ১৭ জানুয়ারী ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : ৬ মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন দেয়ার নির্দেশ       ডিএনসিসির উপ-নির্বাচন স্থগিত       কলম্বিয়ায় সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত : নিহত ১০       রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তির বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের গভীর উদ্বেগ       উত্তরা মেডিকেলের ৫৭ শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রমে বাধা নেই       না.গঞ্জে ডাকাত সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত দুই       শাহজালালে ৩১৮ কার্টন সিগারেট জব্দসহ আটক ২      
শিক্ষাব্যবস্থায় নানা ত্রুটি
সামগ্রিক শিক্ষার মানবৃদ্ধি জরুরি
Published : Saturday, 13 January, 2018 at 6:09 PM, Count : 37
আমরা নাকি পরীক্ষাপাগল জাতি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নানা পরীক্ষা আছে, কোচিং সেন্টারের শিক্ষা মূলত মডেল টেস্ট বা নমুনা পরীক্ষাকেন্দ্রিক। আর প্রাথমিক থেকে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অসংখ্য পাবলিক পরীক্ষা রয়েছে। যত পরীক্ষা বেড়েছে ততই কোচিং সেন্টারের গুরুত্ব এবং বাণিজ্য উভয়ই বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনা। সরকার আইন করে, তদারকি চালিয়েও কোচিং ও নোটবই বা প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা রোধ করতে পারেনি। এখন সরকারিভাবেই জানা যাচ্ছে, পাবলিক পরীক্ষায় উত্তরপত্র মূল্যায়নও ত্রুটিপূর্ণ হচ্ছে। অর্থাৎ সব সময় পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষার ফলে ন্যায়বিচার পাচ্ছে না।
 শিশু ও তরুণ জনসংখ্যা বেশি বলে শিক্ষার্থীও বেশি। শিক্ষাব্যবস্থা সম্পূর্ণ পরীক্ষানির্ভর হওয়ায় পরীক্ষাও হয় বেশি, শিক্ষকদের ওপর উত্তরপত্র মূল্যায়নের চাপও বেশি। এত চাপের মধ্যে সঠিক মূল্যায়ন প্রায় অসম্ভব। তা ছাড়া শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মানের চেয়ে পরীক্ষার ফলাফল যেহেতু গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তাই আমাদের শিক্ষার গোড়ায় গলদ থেকে যাচ্ছে। ছাত্রদের পড়াশোনা কখনো আশানুরূপ বা প্রত্যাশিত মান অর্জন করে না। তারা স্কুল বা কোচিং সেন্টারে মুখস্থ করা উত্তরই লিখে থাকে। সৃজনশীল পদ্ধতিও এই প্রবণতা বন্ধ করতে পারেনি। গোড়ায় দুর্বলতা রেখে দিয়ে ফলে ভালো কিছু আশা করা কঠিন।
উত্তরপত্র মূল্যায়ন প্রশ্নপত্র তৈরির মতোই একটি কঠিন কাজ, জ্ঞান ও দক্ষতানির্ভর কাজ। এ কাজে আমাদের সিংহভাগ শিক্ষকের মান আশানুরূপ নয়। এ জন্য বিভিন্ন শিক্ষক সমিতির তৈরি প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে স্কুলের পরীক্ষাগুলো নেওয়া, নিজ নিজ স্কুলের শিক্ষকরা এ কাজে দক্ষ নন। তা ছাড়া আমরা তো জানি বেতন-ভাতা ও মর্যাদার ঘাটতির ফলে স্কুল শিক্ষকতায় মেধাবী ছাত্ররা আগ্রহী হয় না। শিক্ষকতায় মেধাবীদের আকৃষ্ট করা না গেলে শিক্ষার কোনো স্তরেই আশানুরূপ মান অর্জন করা যাবে না।
মন্ত্রণালয়ের অধীনে শিক্ষার ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও মানোন্নয়নের জন্য বিভিন্ন কমিটি আছে। এ রকমই একটি হলো বাংলাদেশ পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিট বা বেডু। এই সংস্থাই ২০১৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার উত্তরপত্র যাচাই করে এই সমস্যার কথা জানিয়েছে। মনে করা হচ্ছে, নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, দক্ষতার অভাব, কাজে গাফিলতি, দায়িত্বহীনতা ইত্যাদি কারণে এমনটা ঘটেছে।
উচ্চশিক্ষায়ও পরীক্ষার চাপ বেশি এবং তাতে মানসম্পন্ন শিক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ব্যবস্থার কারণে আমাদের উচ্চশিক্ষাও বস্তুত স্কুলের পড়া ও পরীক্ষার বৃত্তেই বাঁধা পড়ে গেছে। এ একেবারে মানহীন ও অর্থহীন প্রণ্ডশ্রম হচ্ছে। অথচ এর পেছনে অনেকের মেধা, শ্রম এবং রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। সম্মান শ্রেণির মান বজায় রেখে এত উত্তরপত্র সত্যিই মূল্যায়নের সুযোগ আছে কিনা তা ভাবার সময় এসেছে।
স্কুলপর্যায়ে পরীক্ষা, প্রশ্নপত্র তৈরি ও উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্রটি দূর করা ও মান বৃদ্ধি প্রয়োজন, তাতে সন্দেহ নেই। তবে তারও চেয়ে বেশি জরুরি হলো দেশের সামগ্রিক শিক্ষার মান বৃদ্ধি ও সব পর্যায়ে শিক্ষাকে অর্থপূর্ণ করে তোলার কাজটিতে মনোনিবেশ করা। এটা যতো তাড়াতাড়ি হবে ততই দেশের জন্য মঙ্গল।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি