আজ শনিবার, ৭ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২০ জানুয়ারী ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : বিশাল ব্যবধানে শ্রীলঙ্কাকে হারাল টিম টাইগার       শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী নিখোঁজ       তারুণ প্রজন্মকেই আধুনিক সমাজ বিনির্মাণে এগিয়ে আসতে হবে : শিরীন শারমিন       রক্ত পরীক্ষায় খুব সহজেই ক্যান্সার শনাক্ত!       দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেলেন অর্থমন্ত্রী, আহত ৩০       না.গঞ্জে নিখোঁজের ১২ দিন পর মাদ্রাসার ছাত্রীর লাশ উদ্ধার       সাগরদাঁড়িতে আগামীকাল শুরু হচ্ছে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা      
নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী : প্রধানমন্ত্রী
Published : Saturday, 13 January, 2018 at 8:42 PM, Count : 44
নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী : প্রধানমন্ত্রীস্টাফ রিপোর্টার : সরকারের চার বছর পূর্ণ করে ভোটের বছরের শুরুতে জাতির উদ্দ্যেশে দেওয়া ভাষণে সব দলকে আগামী নির্বাচনে পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে আবারও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সংবিধান মেনে, অর্থাৎ তার নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনেই চলতি বছর শেষে একাদশ জাতীয় নির্বাচন হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আশা করি, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সকল দল আগামী সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেবেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে সমুন্নত রাখতে সহায়তা করবেন। দশম সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের চার বছর পূর্তিতে গতকাল শুক্রবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া তার এই ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সম্প্রচার করা হয়।
তিনবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিন মেয়াদে ১৪ বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার পর আওয়ামী লীগ নির্বাচনে হেরে গেলে শেখ হাসিনা হন বিরোধদলীয় নেতা। এরপর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নবম সংসদ নির্বাচনে তিন-চতুর্থাংশ আসনে জয় পায় আওয়ামী লীগ। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত হয় মহাজোট সরকার।
এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি হয় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন; তাতে জয়ী হয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। নির্দলীয় সরকারের অধীনে না হওয়ায় ৫ জানুয়ারির ওই নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপি। তাদের ভোট বর্জন ও প্রতিহতের হুমকিতে আন্দোলনের মধ্যেই ১২ জানুয়ারি নতুন সরকার গঠন করেন শেখ হাসিনা।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী ২০১৮ সালের শেষ দিকে একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কীভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তা আমাদের সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা আছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০১৩ সালের মতই নির্বাচনের আগে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের মাধ্যমে একটি ‘নির্বাচনকালীন সরকার’ গঠন করা হবে।
সেই সরকার নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচন কমিশনকে সর্বোতভাবে সহায়তা দিয়ে যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে ২০১৬ সালের ১৫ই ফেব্র“য়ারি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করেন। নতুন কমিশন ইতোমধ্যে দুটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনসহ স্থানীয় পর্যায়ের বেশ কিছু নির্বাচন ‘সুষ্ঠুভাবে’ সম্পন্ন করে ‘জনগণের আস্থা অর্জন করেছে’ বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসনা। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকাতে বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলন এবং ভোটের দিন ও আগে-পরে ব্যাপক সহিংসতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে জাতিকে আগামী নির্বাচন নিয়ে সতর্ক করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেন, কোনো কোনো মহল আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা করতে পারে। আপনাদের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। জনগণ অশান্তি চান না। নির্বাচন বয়কট করে আন্দোলনের নামে জনগণের জানমালের ক্ষতি করবেন- এটা আর এদেশের জনগণ মেনে নেবেন না। আগামী নির্বাচনের দিকে ইংগিত করে আওয়ামী লীগ সভাপতি হাসিনা জাতির উদ্দ্যেশে বলেন, আপনারাই সকল ক্ষমতার মালিক। কাজেই লক্ষ্য আপনাদেরই ঠিক করতে হবে- আপনারা কী চান! আপনারা কি দেশকে সামনে এগিয়ে যাওয়া দেখতে চান, না বাংলাদেশ আবার পিছনের দিকে চলুক তাই দেখতে চান। একবার ভাবুন তো, মাত্র ১০ বছর আগে দেশের অবস্থানটা কোথায় ছিল?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ৪৭ বছর অতিক্রান্ত হতে চলেছে। আমরা আর দরিদ্র হিসেবে পরিচিত হতে চাই না। আমরা বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে বাঁচতে চাই। এসব যদি আপনাদের চাওয়া হয়, তাহলে আমরা সব সময়ই আপনাদের পাশে আছি। বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যের কথাও তিনি এ ভাষণে আবার তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু লক্ষ্য স্থির করেই কিন্তু আমরা বসে নেই। সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য আমরা প্রয়োজনীয় কর্মসূচি প্রণয়ন করে সেগুলো বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। সরাসরি ভোট না চাইলেও অতীতের ভুল-ত্রুটি শুধরে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেন সবচেয়ে বেশি সময় বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়া এই রাষ্ট্রনেতা। তিনি বলেন, আমরা অতীতকে আঁকড়ে ধরে থাকতে চাই না; তবে অতীতকে ভুলেও যাব না। অতীতের সফলতা-ব্যর্থতার মূল্যায়ন করে, ভুল-ত্রুটি শুধরে নিয়ে আমরা সামনে এগিয়ে যাব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের যে মহাসড়কে যাত্রা শুরু হয়েছে সেখান থেকে আর পিছনে ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই। বর্তমান এবং ভবিষ্যত প্রজন্ম সমৃদ্ধি ও প্রগতির পথে সকল বাধা দূর করার দায়িত্ব গ্রহণ করবে। ‘দলমত নির্বিশেষে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে’ আগামী প্রজন্মের জন্য সেই উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। টানা নয় বছর বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিয়ে আসা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের বর্ষপূর্তিতে জাতির কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ২০১৪ সালে আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আজকের এই দিনে আমি তৃতীয়বারের মত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলাম। আজ বছরপূর্তিতে আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে হাজির হয়েছি। দশম সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের চার বছর পূর্তিতে শুক্রবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন সরকার প্রধান।
তার এই ভাষণ জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যমে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে প্রচার করা হয়। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিন মেয়াদে ১৪ বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার পর আওয়ামী লীগ নির্বাচনে হেরে গেলে শেখ হাসিনা হন বিরোধদলীয় নেতা।
এরপর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নবম সংসদ নির্বাচনে তিন-চতুর্থাংশ আসনে জয় পায় আওয়ামী লীগ। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত হয় মহাজোট সরকার। বিএনপির বর্জনের মধ্যে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি হয় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন; তাতে জয়ী হয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ।
সরকারের বর্ষপূর্তিতে শেখ হাসিনা বলেন, আমার উপর যে বিশ্বাস ও আস্থা রেখেছিলেন, আমি প্রাণপণ চেষ্টা করেছি আপনাদের মর্যাদা রক্ষা করার। কতটুকু সফল বা ব্যর্থ হয়েছি সে বিচার আপনারাই করবেন। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ, দুই লাখ নির্যাতিত মা-বোন এবং মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সহযোগিতাকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
বাংলাদেশকে ‘সোনার বাংলা’ হিসেবে গড়ে তুলতে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সেই আকাক্সক্ষা পূরণ করাই তার ‘একমাত্র ব্রত’। বাংলার মানুষ যেন অন্ন পায়, বস্ত্র পায়, উন্নত জীবনের অধিকারী হয়- জাতির পিতার এই উক্তি সর্বদা আমার হৃদয়ে অনুরণিত হয়। তাই সর্বদা আমার একটাই প্রচেষ্টা- কীভাবে বাংলাদেশের মানুষের জীবনকে অর্থবহ করব, স্বচ্ছল ও সুন্দর করে গড়ে তুলব।###








« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি