আজ শনিবার, ৭ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২০ জানুয়ারী ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : বিশাল ব্যবধানে শ্রীলঙ্কাকে হারাল টিম টাইগার       শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী নিখোঁজ       তারুণ প্রজন্মকেই আধুনিক সমাজ বিনির্মাণে এগিয়ে আসতে হবে : শিরীন শারমিন       রক্ত পরীক্ষায় খুব সহজেই ক্যান্সার শনাক্ত!       দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেলেন অর্থমন্ত্রী, আহত ৩০       না.গঞ্জে নিখোঁজের ১২ দিন পর মাদ্রাসার ছাত্রীর লাশ উদ্ধার       সাগরদাঁড়িতে আগামীকাল শুরু হচ্ছে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা      
আইডিয়ালে অতিরিক্ত ভর্তির পাঁয়তারা
Published : Saturday, 13 January, 2018 at 8:54 PM, Count : 40
নাজিউর রহমান সোহেল : রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে এবারও নির্ধারিত আসনের চেয়ে বাড়তি শিক্ষার্থী ভর্তির তোড়জোড় শুরু হয়েছে। স্কুল পরিচালনা কমিটির একাধিক সদস্য অবৈধ প্রক্রিয়ায় ভর্তি করাতে ইতিমধ্যে নানা তৎপরতা চালাচ্ছে। ভর্তি বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত একাধিক চক্র এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ গর্ভর্নিং বডির কয়েকজন সদস্যের আপত্তির পরও অতিরিক্ত ভর্তির তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে ওই চক্রটি। এ নিয়ে স্কুলের অভিভাবকসহ শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকায় পোস্টারিং পর্যন্ত হয়েছে। কয়েকজন অভিভাবক দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ করেছেন। গত বছরও অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছিলো। সরকারি তদন্তে যা প্রমাণিত হয়।
জানা গেছে, অনিয়ম করে ঘোষিত আসনের চেয়ে ১০ শতাংশ বাড়তি শিক্ষার্থী ভর্তির প্রক্রিয়া চলছে। শিক্ষক ও অভিভাবকরা এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি, অধ্যক্ষসহ গভর্নিং বডির কয়েকজন সদস্যও রীতিমতো অসহায় হয়ে পড়েছেন।
পরিচালনা কমিটির একাধিক সদস্য ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে চলতি শিক্ষাবর্ষে প্রথম শ্রেনীতে সকল শাখায় মোট আসন ছিল ৮০০। ইতিমধ্যে শিক্ষার্থীরা লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত হয়। বিদ্যালয়ের মতিঝিল, বনশ্রী ও মুগদা শাখার বিভিন্ন শিফটে তারা ভর্তি হয়েছে। গত ১০ জানুয়ারি থেকে তাদের ক্লাসও শুরু হয়েছে। ফলে আর কোন আসন খালি নেই।
এদিকে এবার আইডিয়াল স্কুলে ভর্তির বিষয়ে সার্বক্ষনিক নজর রাখছে দুর্নীতি দমন কমিশন। এরপরও থেমে নেই ভর্তি বানিজ্যের সঙ্গে জড়িতরা। এরা অবৈধভাবে ভর্তির জন্য প্রভাবশালীদের সুপারিশ নিয়ে ইতিমধ্যে তালিকা জমা দিয়েছেন। আর অবৈধ ভর্তির জন্য যে তদবির তার সংখ্যা অন্তত দুই হাজার।
জানা গেছে, নিয়মানুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণিতে ইতিমধ্যে ২ হাজার ৩৮৩ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। সূত্র জানায়, গত ৬ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন সদস্য বিভিন্ন শ্রেণিতে অতিরিক্ত ভর্তির বিষয়ে চাপ দেন। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণিতেই ১ হাজার। অনুষ্ঠিত ওই সভায় অতিরিক্ত ভর্তির প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় মূলত তদবির ও টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করার অভিযোগ রয়েছে।
জানতে চাইলে এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ শাহান আরা বেগম গতকাল সন্ধ্যায় ভোরের ডাককে বলেন, অনেক তদবির এসেছে। এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে নির্ধারিত আসনের বাইরে গিয়ে ভর্তি করানো সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।
নাম না প্রকাশের শর্তে আইডিয়ালের মুগদা শাখার একজন শিক্ষক গতকাল ভোরের ডাককে জানান, গত ১০ জানুয়রি থেকে প্রথম শ্রেণির ক্লাস শুরু হয়েছে। শুনেছি অতিরিক্ত ভর্তির জন্য তদবির শুরু হয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সব মিলিয়ে ঘোষিত আসনের ১০ শতাংশ বাড়তি শিক্ষার্থী ভর্তির পাঁয়তারা চলছে।
জানা গেছে, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পরিষদের সভাপতি সরকারের যুগ্ম সচিব আবু হেনা মোরশেদ খান, অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম ছাড়াও গভর্নিং বডির একাধিক সদস্য অবৈধভাবে ভর্তি করতে নারাজ। এর মধ্যে এক পক্ষ আরেক পক্ষের বিরুদ্ধে পোস্টার ও লিফলেট বিলি করাছেন। এসব ঘটনায় বছরের শুরুতেই মারাত্মক শিক্ষা সংকটের মূখে পড়তে যাচ্ছে দেশের নামী এ প্রতিষ্ঠানটি।
অভিভাবকরা বলছেন, বর্তমান ক্ষমতসীন দলের সাবেক একজন নেতার তদবিরের জন্যই সমস্যা জটিল হচ্ছে। সভাপতিসহ অন্যরা না চাইলেও কিছু লোকজন ইতোমধ্যে প্রায় দেড় হাজার অভিভাবকের কাছ থেকে এক লাখ থেকে সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা পর্যন্ত সংগ্রহ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের মধ্যে আন্দোলন শুরু করেছেন অভিভাবকরা। তারা প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন শাখায় ব্যানার পোস্টার লাগিয়ে মিছিল প্রতিবাদ করেছেন। সভাপতি আবু হেনা মোরশেদ খান স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন, সরকারের নীতিমালার বাইরে কোন ভর্তি করা চলবে না।
এ বিষয়ে গভর্নিং বডির সদস্য ও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা, ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম আশরাফ তালুকদার বলেন, চাপ থাকলেও সরকারের আইনের বাইরে এবার কিছু করা হবে না। কারণ দুদক থেকে আমাদের সব তথ্য চাওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় অবৈধভাবে ভর্তির কোন সুযোগ নেই।
এর আগেও এই প্রতিষ্ঠানে একাধিকবার বাড়তি শিক্ষার্থী ভর্তির নামে বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছিল। ২০১৬ শিক্ষাবর্ষে বিজ্ঞাপনে ঘোষিত আসনের চেয়ে ১ হাজার ৯৮১ জন অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছিল বলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদফতরের এক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছিল। তবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, ভর্তির বিজ্ঞাপনের সময় কোন ক্লাসে কত জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে, তার ঘোষণা দেয়া হয়। বিদ্যালয়টিতে সেই অনুযায়ী ভর্তির কাজও শেষ হয়েছে।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি