আজ শনিবার, ৭ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২০ জানুয়ারী ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : বিশাল ব্যবধানে শ্রীলঙ্কাকে হারাল টিম টাইগার       শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী নিখোঁজ       তারুণ প্রজন্মকেই আধুনিক সমাজ বিনির্মাণে এগিয়ে আসতে হবে : শিরীন শারমিন       রক্ত পরীক্ষায় খুব সহজেই ক্যান্সার শনাক্ত!       দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেলেন অর্থমন্ত্রী, আহত ৩০       না.গঞ্জে নিখোঁজের ১২ দিন পর মাদ্রাসার ছাত্রীর লাশ উদ্ধার       সাগরদাঁড়িতে আগামীকাল শুরু হচ্ছে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা      
প্রধান সড়কে দিনরাত সারি সারি বাস
চরম দুর্ভোগে নগরবাসী
Published : Saturday, 13 January, 2018 at 8:54 PM, Count : 27
সাইদুল ইসলাম : রাজধানী ঢাকার আয়তন অনুযায়ী ২৫ শতাংশ সড়ক থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে আছে ১২-১৫ শতাংশ। কিন্তু এ অবস্থার মধ্যেও যত্রতত্র সড়ক দখল বন্ধ হচ্ছে না। বিশেষ করে রাজধানীর বিভিন্ন ব্যস্ততম সড়ক দখল করে দিন-রাত সারি সারি বাস রাখা হচ্ছে। এমনিভাবে সায়েদাবাদের প্রধান সড়ক দখল করে রাখা হচ্ছে সারি সারি বাস। এক কথায় বলতে গেলে সায়েদাবাদ সড়ক এখন বাসস্ট্যান্ডে পরিণত হয়েছে। এদিকে, সম্প্রতি সায়েদাবাদের সড়কে যেন কোন বাস পার্কিং করা না হয় সে জন্য একটি নির্দেশনা জারি করেছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। কিন্তু এ নির্দেশনা উপেক্ষা করে সড়কে বাসগুলো পার্কিং করা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী ও আইনশৃঙ্খলাবাহীনীর কিছু অসাধু লোকের সহায়তায় সায়েদাবাদের প্রধান সড়কের পুরোটাই পরিণত হয়েছে বাস স্ট্যান্ডে। মূল টার্মিনালের ভেতরে জায়গা সংকটের কারণ দেখিয়ে শত-শত বাস দিনরাত সড়কের ওপর পার্কিং করে যাত্রী ওঠানামা করছে। টার্মিনালের ভেতর থেকে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারে ওঠানামার পথ থাকলেও অধিকাংশ বাস তা ব্যবহার করছে না। বাসের পাশাপাশি হকাররাও সড়ক দখল করে ব্যবসা করছে। ফলে সড়ক দিয়ে চলাচলকারী অন্য যানবাহনগুলোকেও চরম বিঘœ পোহাশে হচ্ছে। এর ফলে টার্মিনাল সংশ্লিষ্ট এলাকায় যানজট স্থায়ী রূপ নিয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, সড়কের ওপর বাস গিজগিজ করলেও এখানের মূল বাস স্ট্যান্ডের ভেতর তেমন ব্যস্ততা নেই। টার্মিনালকে অনেক বাস মালিক গ্যারেজে পরিণত করেছেন। যাত্রীবাহী বাসের জন্য যেসব প্লাটফর্ম রয়েছে, সেগুলোর বেশির ভাগ বেদখল হয়ে গেছে।  সেখানে বিভিন্ন কোম্পানির টিকিট কাউন্টার থাকলেও সেগুলোয় টিকিট বিক্রি হয় না। মূলত যাত্রাবাড়ি-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের নিচে ২৫/১/বি উত্তর সায়েদাবাদের এমআর প্লাজা থেকে পশ্চিম দিকে সাঈদাবাদী পীরের বাড়ি পর্যন্ত বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির অসংখ্য বাস কাউন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। এখান থেকে টিকিট কেটে যাত্রীরা বাসে উঠছে। ফলে বাসগুলো সড়কের মধ্যেই পার্কিং করা হচ্ছে। এতে সড়কটি এখন বাসস্ট্যান্ডে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে, সায়েদাবাস বাস স্ট্যান্ডের দক্ষিণ দিকের সড়কের অবস্থাও একই। এখানে একদিকে যেমন দীর্ঘক্ষণ বাস দাঁড়িয়ে থাকে, অন্যদিকে ফুটপাত ও মূল সড়কে রয়েছে হকারদের উৎপাত। একই কোম্পানির চার-পাচটি কাউন্টারও রয়েছে সড়কের পাশে। বিভিন্ন সাইজের কক্ষ ভাড়া নিয়ে কাউন্টার বানানো হয়েছে। কাউন্টারগুলোকে কেন্দ্র করে সারাক্ষণ অসংখ্য বাস প্রধান সড়কে দাঁড়িয়ে থাকে। যাত্রী ওঠানামা চলছে নির্বিঘেœ।  ফলে সাধারণ কোনও গাড়ি এগোতে পারে না। এতে সারাক্ষণ যানজট লেগে থাকছে প্রধান সড়কে। জনপথ মোড়ে ও ফ্লাইওভারের নিচে সড়ক ডিভাইডারের স্থানেও বাস টার্মিনাল স্থাপন করেছেন প্রভাবশালীরা। অর্ধশতাধিক বাস সারাক্ষণ এখানে থামিয়ে রাখা হয়।     গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার আধাঘণ্টা আগে এগুলো নিজ নিজ কাউন্টারের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে সায়েদাবাদের সড়কে যেন কোনও বাস পার্কিং করা না হয় সে জন্য তিন মাস আগে একটি নির্দেশনা জারি করেছিল মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। এসময় বলা হয়, সায়েদাবাস টার্মিনালের বাইরে কোনও বাস পার্কিং করতে পারবে না। শুধু টার্মিনালের ভেতর থেকে বাস ছেড়ে যাবে। টিকিট বিক্রি হবে টার্মিনালের ভেতর থেকে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়নি।
টার্মিনাল ছেড়ে বাস সড়কে পার্কিং করা হচ্ছে কেন জানতে চাইলে একটি কাউন্টারের সুপারভাইজার বলেন, আমাদের বাস এখানে আসে যাত্রী নিতে। এ বাসগুলো অল্প সময় দাঁড়িয়ে চলে যায়। কিন্তু তার কথায় বাস্তব মিল পাওয়া গেলনা। দেখা গেছে,ঘন্টার পর ঘন্টা বাসগুলো দাঁড়িয়ে রাখা হচ্ছে। আরেক কাউন্টার ম্যানেজার জালাল বলেন, টার্মিনালের ভেতর জায়গা নেই। তাই আমাদের কিছু বাস এখানে রাখা হয়। এ জন্য কাউন্টারের পাশে জমি ভাড়া নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, রাস্তায় থামালেও তা সামান্য সময়ের জন্য। আল-মোবারকা পরিবহনের অনেক বাস রয়েছে। এগুলো বিভিন্ন মালিকের। আমাদের মালিকের বাস রয়েছে নয়টি। এই বাসগুলোই সায়েদাবাদের রাস্তা ব্যবহার করে থাকে। এতে কারও অসুবিধা হয় না বলেও তিনি দাবি করেন। মেয়রের নির্দেশনা ও যৌথ সভার সিদ্ধান্ত কেনও বাস্তবায়ন হচ্ছে না, জানতে চাইলে দক্ষিণ ডিসিসির টার্মিনাল ব্যবস্থাপক বলেন, আমরা তো টার্মিনাল দেখাশোনা করি। রাস্তায় কোন বাস পার্কিং করলে তা দেখার দায়িত্ব পুলিশের। তিনি বলেন, টার্মিনালে কোনো বাস রাখার বিধান নেই। মালিকরা তাদের বাসগুলো রাখবেন নিজস্ব ডিপোতে। ওই ডিপো থেকে টার্মিনালে এসে যাত্রী নিয়ে বাস গন্তব্যে চলে যাবে। কিন্তু কেউ মানছেন না। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।








« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি