আজ বুধবার, ৪ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ১৭ জানুয়ারী ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : বনানীতে তরুণী ধর্ষণ: প্রতিবেদন ৭ ফেব্রুয়ারি       ৬ মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন দেয়ার নির্দেশ       ডিএনসিসির উপ-নির্বাচন স্থগিত       কলম্বিয়ায় সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত : নিহত ১০       রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তির বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের গভীর উদ্বেগ       উত্তরা মেডিকেলের ৫৭ শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রমে বাধা নেই       না.গঞ্জে ডাকাত সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত দুই      
সৈয়দপুরে তাপমাত্রা বাড়লেও শীতের কাঁপন থামছে না
Published : Sunday, 14 January, 2018 at 6:53 PM, Count : 27
সৈয়দপুরে তাপমাত্রা বাড়লেও শীতের কাঁপন থামছে না এম আর মহসিন, সৈয়দপুর সংবাদদাতা : চলমান তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও শীতে আড়ষ্টতা কাটছেনা সৈয়দপুরের প্রাণীকুলের। শীতের হিমেল হাওয়ায় আর ঘন কুয়াশায় বস্ত্রাভাবে কাহীল হয়ে পড়েছে অভাবী মানুষজন। ইরি-বোরো বীজতলা পড়েছে কোল্ড ইনজুরিতে। বাড়ছে শীত জনিত রোগ। সকল বয়সিরা আক্রান্ত হচ্ছে শীত জনিত রোগে। তবে গতকালের বাড়ন্ত তাপমাত্রায় কিছুটা কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। উপজেলার প্রায় ২০ হাজার দরিদ্র মানুষের বস্ত্রের জন্য হাহাকার বিরাজ করছে। ভরসার সরকারি-বেসরকারি শীতবস্ত্র কম্বল মিলেছে মাত্র ৪ হাজার ৪১ পিস। এতে ৫ জন দরিদ্রের মধ্য মাত্র ১ জন পাচ্ছেন। আর বাকিরা থাকছেন বঞ্চিত। এতে পরিবার নিয়ে তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। উষœতা পেতে খড়কুটো জালিয়ে তাই শীত নিবারনের চেষ্টা করছেন। সৈয়দপুর উপজেলা ত্রাণ অধিদপ্তর জানায়, সৈয়দপুর উপজেলার পাঁচ ইউনিয়ন ও পৌরসভার জন্য সরকারি শীতবস্ত্র বরাদ্দ দেয়া হয়েছে মাত্র ৪ হাজার ৪১পিচ। এর মধ্যে পাঁচ ইউনিয়নের জন্য ৩ হাজার ৬৬৬ পিস এবং পৌরসভায়  এক লাক্ষ বাসিন্দাদের জন্য মাত্র ৩৭৫ পিস। ইতোমধ্যে এসব শীতবস্ত্র জনপ্রতিনিদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। নতুন করে আরও দুই হাজার কম্বলের বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। স্থানীয় ত্রাণ দপ্তর বরাদ্দের জরুরি বার্তা পাঠিয়েছে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে। সরকারি-বেসরকারি সূত্র মতে, সৈয়দপুর উপজেলার পাঁচ ইউনিয়ন ও পৌরসভা মিলিয়ে ২০ হাজার হতদরিদ্র পরিবার রয়েছে। শীতে কাহিল হয়ে তাই ত্রাণের শীতবস্ত্র পেতে উন্মুখ হয়ে আছেন। একখন্ড শীতবস্ত্র পেতে জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন। চাহিদার তুলানায় শীতবস্ত্রেও অপ্রতুল বরাদ্দে তারা বিপাকে পড়েছেন। এতে শীতবস্ত্র থেকে বঞ্চিত হয়েছেন প্রায় পনের হাজার হতদরিদ্র। এসব মানুষ সীমাহীন কষ্ট ভোগ করছেন। তাদের সহায়তায় বেসরকারি উদ্যোগও তেমন দেখা যাচ্ছে না। দু’একটি সংগঠনের উদ্যোগে হাতেগোনা মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। তবে তা শহর কেন্দ্রিক। আবার শহরের অনেক এলাকার মানুষ সরকারি বা বেসরকারি শীত বস্ত্র এখন পর্যন্ত বিতরন করতে দেখেননি। তাই দুস্থরাই বঞ্চনার কবলে পড়েছেন। সৈয়দপুর বিমান বন্দর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ দপ্তর সুত্রে জানা যায়, শৈত্যপ্রবাহরে কবলে পড়ে সর্বনি¤œ তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছে সৈয়দপুর। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শীতলতম দিন ছিলো সোমবার। এদিন রাতে সৈয়দপুরের তাপমাত্রা নেমে আসে ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ক্রমান্বয়ে সামান্য বাড়লেও ১০ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার ৮ ডিগ্রিতে উত্তরন ঘটে। এরপর শুক্রবার ৭ ডিগিতে নামে। পরের দিন ১১ ডিগ্রি তাপমাত্রার উত্তরন ঘটে। সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্য লোকমান হাকিম জানান, ১২ জানুয়ারী শুক্রবার থেকে উত্তরের জনপদে তাপমাত্রা বাড়ার কথা জানান। আর ওই দিনই সুর্যের মুখ দেখা যায়নি। এদিকে, তাপমাত্রা ওঠা-নামা করায় শীতের তীব্রতা কমছেনা। হাড় কাঁপানো শীতে মানুষ অতিষ্ট হয়ে পড়ছে। সকাল ও রাতে ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে জনপদ। কুয়াশার কারণে ট্রেন ও সড়কে যান চলাচল বিঘিœত হচ্ছে। ট্রেন ও যানবাহনের গন্তব্যে ৪-৬ ঘন্টা বিলম্বে যাতায়াত করছে। কর্মজীবী মানুষ আপদমস্তক ঢেকে কর্মস্থলে যাতাযাত্র করছে। শীতে বেশি কাতর হয়ে পড়েছে দরিদ্র, ছিন্নমূল, ভাসমান ও দিনমজুর মানুষ। কেবল মানুষ্ই নয়, গৃহপালিত পশু ও প্রাণীকুলও শীতে জবুথবুু হয়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় শীত জনিত রোগে গরু,ছাগল,হাস,মুরগী মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উষ্ণতায় লেপ তোষক ও শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে মানুষের ভীড় বাড়ছে। তবে চড়া দামের কারণে সবার পক্ষে গরম কাপড় কেনা সম্ভব হচ্ছে না। ঠান্ডার তীব্রতায় শীতজনিত রোগে আক্রান্ত সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘরে ঘরে দেখা দিয়েছে সর্দি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রকোপ। স্থানীয় হাসপতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ জন ঠান্ডাজনিত রোগে সৈয়দপুর ১০০ শয্য হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন বলে জানান হাসপাতালটির আর এম ও ডাঃ আরিফুল হক সোহেল। গুরুত্বর অবস্থায় আসছেন শিশু ও বয়স্করা। অনেকে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। তবে গতকাল শনিবার তাপমাত্রা বাড়ায় কিছুটা স্বস্তি আসলেও ঠান্ডা কমে নি। এতে জনজিবন আড়ষ্ট হয়ে পড়েছে এ শীতে।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি