আজ মঙ্গলবার, ৩ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ১৬ জানুয়ারী ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : সরকারের আশ্বাসে অনশন ‌ভাঙলেন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী শিক্ষকরা       প্রণব মুখার্জিকে ডি-লিট ডিগ্রি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের       একনেকে ১৮৪৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৪ প্রকল্প অনুমোদন       ৮ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল       সিদ্ধান্তে অটল শাকিব খান, সমঝোতা চান অপু বিশ্বাস       চাঁদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩        আজ আ.লীগের মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা      
রাখাইন পরিদর্শনের সুযোগ পেলেন জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বললেন পরিস্থিতি ভয়াবহ
Published : Sunday, 14 January, 2018 at 10:54 AM, Update: 14.01.2018 3:45:42 PM, Count : 56
রাখাইন পরিদর্শনের সুযোগ পেলেন জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বললেন পরিস্থিতি ভয়াবহআন্তর্জাতিক ডেস্ক : মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য পরিদর্শনে গিয়ে সেখানকার পরিস্থিতিকে ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো।

একই সঙ্গে তিনি আসন্ন প্রত্যাবাসনের পর রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের জীবিকা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় আরো অনেক কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

উল্লেখ্য, তারো কোনোই একমাত্র বিদেশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী যিনি গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে নতুন করে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ শুরুর পর সেখানে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। মিয়ানমার সরকার এখনো রাখাইনে বিদেশি ত্রাণকর্মীদেরও যেতে দিচ্ছে না।

জাপানের একমাত্র রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম এনএইচকের অনলাইনের বৈশ্বিক সংস্করণে শনিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরুর ব্যাপারে মিয়ানমারের প্রস্তুতি দেখতে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো গতকাল দেশটির পশ্চিমাঞ্চল সফর করেছেন। মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে চড়ে তারো কোনো রাখাইন রাজ্যে যান।

এনএইচকে জানায়, ‘গত বছর নিরাপত্তা বাহিনী ও রোহিঙ্গা জঙ্গিদের মধ্যে সংঘর্ষের পর লাখ লাখ রোহিঙ্গা প্রতিবেশী বাংলাদেশ পালিয়েছে। প্রায় এক হাজার রোহিঙ্গার বাড়িঘর আছে, এমন একটি গ্রামে তারো কোনোকে দেশটির কর্মকর্তারা সংঘাতে পুড়ে যাওয়া বাড়িঘর পুননির্মাণ প্রচেষ্টার বিষয়ে অবহিত করেন। তিনি (তারো কোনো) ওই গ্রামের বাসিন্দাদের কাছে তাদের জীবিকার বিষয়ে শোনেন।

এরপর কোনো মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় আসেন। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে যে সেতুটি ব্যবহার করবে এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সেখানে যে সরকারি স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে তাও পরিদর্শন করেন জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তারো কোনো সাংবাদিকদের বলেন, অনেক গ্রাম ও বাড়িঘর পুড়ে গেছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ। যারা ফিরে যাবে (বাংলাদেশ থেকে) তাদের জীবিকা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য অনেক কাজ করতে হবে।

জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, বিভক্ত সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে সম্প্রীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় জাপান সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেবে।

এর আগে গত শুক্রবার জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নেপিডোতে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চিকে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি রোহিঙ্গাদের, বিশেষ করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নতির জন্য সু চিকে তাগিদ দেন।

তারো কোনো বলেন, রোহিঙ্গাদের দৈনন্দিন কাজে সহায়তা যেমন—বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী ও পানি বিশুদ্ধকরণ যন্ত্রের জন্য জাপান মিয়ানমারকে ৩ কোটি ডলার জরুরি সহায়তা দেবে। এ ছাড়া নারীদের কর্মমুখী প্রশিক্ষণে উৎসাহিত করতে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে জাপান মিয়ানমারকে ২ কোটি ডলার সহায়তা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।

এরপর সু চির সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করা উচিত। বিভাজন সৃষ্টি নয়, বরং সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার উপায়েই এটি হওয়া উচিত।

অন্যদিকে সু চি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনেক আগ্রহের বিষয়ে তিনি অবগত আছেন। তবে ইস্যুটি অনেক বড়। তিনি বলেন, আন্তঃসম্প্রদায় সম্প্রীতি ও মৈত্রী উৎসাহিতকরণ বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটি কিভাবে করা হবে তা মিয়ানমারের জনগণই ঠিক করবে।

যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক  আগামীকাল এবং ২২ জানুয়ারির মধ্যে প্রত্যাবাসন শুরুর বিষয়ে দুই দেশ লক্ষ্য ঠিক করলেও তা বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা রয়েছে। প্রত্যাবাসন উদ্যোগকে আরো এগিয়ে নিতে সোমবার নেপিডোতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ বৈঠকে বসছে। বৈঠকে পররাষ্ট্রসচিব শহীদুল হকের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেবে। মিয়ানমারের পক্ষে দেশটির পররাষ্ট্রসচিবের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেবেন।

জানা গেছে, আগামীকালের বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য ‘ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট’ সই হওয়ার কথা রয়েছে। কোন পথ দিয়ে দিনে কতজন রোহিঙ্গা যাবে এবং যাওয়ার ব্যবস্থা কী হবে তা ওই চুক্তিতে থাকবে।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি