আজ সোমবার, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : চলে গেলেন রংপুরের সাবেক মেয়র ঝন্টু       খালেদার জামিনের আদেশ নথি আসার পর       জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হেদায়েত উল্লাহ       কোটা পদ্ধতির সংস্কার দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা       নবীগঞ্জে অজ্ঞাত কিশোরীর লাশ উদ্ধার       মণিরামপুরে ৪ দিন ধরে শিশু শ্রমিক নিখোঁজ       দুই সিটির উপ-নির্বাচন স্থগিত, রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ      
রূপা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়
চালকসহ ৪ জনের ফাঁসি ১ জনের ৭ বছরের জেল
Published : Tuesday, 13 February, 2018 at 8:36 PM, Count : 105
চালকসহ ৪ জনের ফাঁসি ১ জনের ৭ বছরের জেলটাঙ্গাইল জেলা সংবাদদাতা : টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে কলেজ ছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রুপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ে চার জনের ফাঁসি ও একজনের সাত বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছে আদালত। গতকাল সোমবার টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় প্রদান করেন। আদালতে পাঁচ আসামির উপস্থিতিতে বিচারক রায়ের সারসংক্ষেপ পড়ে শোনান। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছে ছোঁয়া পরিবহরের হেলপার শামীম, হেলপার আকরাম, হেলপার জাহাঙ্গীর আলম ও চালক হাবিব মিয়া। এবং গাড়ির সুপারভাইজার সফর আলী ওরফে গেন্ডুকে সাত বছরের সশ্রম কারাদ  ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সকাল ১১টায় বিচারক এজলাসে আরোহন করেন। ১১.২০ মিনিটে এই চাঞ্চল্যকর মামলায় রায় ঘোষণা করেন।
এই রায়ে বাদীপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, আদালতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অন্যদিকে এ মামলায় ন্যায়বিচার হয়নি উল্লেখ করে এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপীল করবেন বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। এই মামলা বিচারিক আদালতে বদলি হওয়ার ১৪ কার্য দিবসের মধ্যে এই রায় ঘোষণা করা হলো। রায়ের বিচারক ছোয়া পরিবহন গাড়িটি ক্ষতিপুরণ হিসেবে নিহতের পরিবারকে দেয়ার আদেশ দিয়েছেন। ক্ষতি পুরণের টাকা আদায় করে নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে জমা দেয়ার জন্য কালেক্টর টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসককে নিদের্শ প্রদান করেছেন। মধুপুর থানা কতৃপক্ষকে ছোঁয়া পরিবহনের বাসটির মালিকানা নিহতের পরিবার বরাবর পরিবর্তন করে অত্র ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তর করার নির্দেশ প্রদান করেছে। রায় শোনার পর নিহত রূপার বড়ভাই হাফিজুর রহমান বলেন, রায়ে আমরা সন্তোষ্ট, আপনারা অনেকেই আমার সাথে থেকে যতটুকু সহযোগিতা করেছেন তার জন্য আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ। সেই সাথে রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানায়।
এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষকে সহায়তা করেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস আকবর খান, সিনিয়র আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট এম. এ করিম মিঞা এবং মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ। রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শামীম চৌধুরী দয়াল এবং অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলাটি শেষ হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ বলেন, আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়েছে। এতে করে কেউ আর এমন ঘৃণ্য অপরাধ করার সাহস পাবে না।
এরআগে গত ২৮ আগস্ট এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ময়মনসিংহ-বগুড়া রুটের ছোঁয়া পরিবহনের হেলপার শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯) এবং চালক হাবিবুর (৪৫) ও সুপারভাইজার সফর আলীকে (৫৫) গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে গত ১৫ অক্টোবর এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টাঙ্গাইলের বিচারিক হাকিম আদালতে পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। রূপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিলের পর মামলাটি বিচারের জন্য পরদিন ১৬ অক্টোবর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বদলী করা হয়। গত ২৫ অক্টোবর আদালত এই অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। গত ৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ২০ দিনে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। মোট ৩২ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৭ জন সাক্ষ্য প্রদান করেন। ১৪ কার্যদিবসে এ মামলার বিচারকার্য সম্পন্ন হলো।
উল্লেখ্য, গত ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রূপাকে চলন্ত বাসে পরিবহন শ্রমিকেরা ধর্ষণ করে এবং বাসেই তাকে হত্যার পর টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় পঁচিশ মাইল এলাকায় বনের মধ্যে তার মৃত দেহ ফেলে রেখে যায়। এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই রাতেই অজ্ঞাত পরিচয় তরুণী হিসেবে তার লাশ উদ্ধার করে। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মধুপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। ঘটনার দুই দিন পর রূপার বড়ভাই হাফিজুর রহমান পত্রিকায় মধুপুরে অজ্ঞাত যুবতীর লাশ উদ্ধারের খবর দেখে মধুপুর থানায় যান। সেখানে গিয়ে তিনি রক্তাক্ত লাশের ছবি ও সেলোয়ার কামিজ দেখে শনাক্ত করেন যে এই অজ্ঞাত যুবতীই তার আদরের ছোট বোন। ৩১ আগস্ট রূপার মরদেহ উত্তোলন করে তার ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাকে সিরাজগঞ্জের তারাশ উপজেলার নিজ গ্রাম আসানবাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি