আজ সোমবার, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : চলে গেলেন রংপুরের সাবেক মেয়র ঝন্টু       খালেদার জামিনের আদেশ নথি আসার পর       জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হেদায়েত উল্লাহ       কোটা পদ্ধতির সংস্কার দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা       নবীগঞ্জে অজ্ঞাত কিশোরীর লাশ উদ্ধার       মণিরামপুরে ৪ দিন ধরে শিশু শ্রমিক নিখোঁজ       দুই সিটির উপ-নির্বাচন স্থগিত, রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ      
কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আত্রাইয়ের ঐতিহাসিক শতবর্ষী কদমতলার বটগাছটি
Published : Wednesday, 14 February, 2018 at 6:19 PM, Count : 28
কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আত্রাইয়ের ঐতিহাসিক শতবর্ষী কদমতলার বটগাছটিআব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ থেকে : শত শত বছরের ইতিহাস মাথায় নিয়ে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা ইউনিয়নের আদর্শ গ্রামের বটগাছটি। পুরো এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে গাছটির শাখা-প্রশাখা।
‘কী শোভা, কি ছাঁয়া গো, কি স্নেহ, কি মায়াগো, কি আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে, নদীর ক’লে ক’লে’ বিশ্বকবি রবি ঠাকুর রচিত আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের এই চরণ দুটি গ্রাম বাংলার অপরূপ শোভা, ছাঁয়া-মায়া ও স্নেহের আঁচল বিছানো স্থান যেন আমাদের বটবৃক্ষের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। তেমনি নওগাঁর আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা ইউনিয়নের আদর্শ গ্রামের কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে শত বছরের এই ঐতিহাসিক বটগাছটি। রাস্তার দুই পাশে ছড়িয়ে পড়েছে গাছটির বিশাল শাখা-প্রশাখা। শিকর-বাকরে ছেঁয়ে গেছে পুরো এলাকা। শতবর্ষী বটগাছটি আজও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে তাজা তরুণ আর চিরসবুজের রং ধারণ করে। যেন বার্ধক্যের ছাপ লাগেনি তার গায়ে। আর সে কারণেই এই বটগাছকে ঘিরে নানা রহস্যে ঘেরা গল্প-কাহিনী আর কল্পগাথা।
স্থানীয়রা জানান, শের শাহ বাদশার আমলে গ্রান্ডটাংক রোড নির্মাণ কালে আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা ইউনিয়নের আদর্শগ্রাম সংলগ্নে এই বটগাছটি রোপন করা হয়েছিল। যার বয়স এখন শত বছর পেরিয়ে গেছে। এ বট বৃক্ষের গাঁ ঘেষে একটি কদম গাছের জন্ম হয়। আর সে কারণেই এই জায়গাটির নামকরণ করা হয়েছিল কদমতলা। এখন সে কদম গাছটি আর নেই কিন্ত কালের আবর্তে যুগ যুগ ধরে আজও তার স্মৃতিটুকু রয়ে গেছে। শের শাহ বাদশার আমলে এই এলাকা বিল অঞ্চল ছিল। রোদ বৃষ্টির মাঝে কৃষাণ-কৃষাণী তাদের কষ্টের ফসল ফলাতো। রাখালেরা দিগন্ত জোড়া মাঠে ঘাস খাওয়ানোর জন্য গবাদিপশুকে ছেড়ে দিয়ে ক্লান্ত শরীরে শীতল ছায়ার প্রতিক্ষায় থাকতো। আর সে কারণেই এই বটবৃক্ষ রোপন করা হয়েছিলো বলে জানা যায়। তাই গ্রীষ্মের দাবদাহে কৃষক যখন অতিষ্ট ঠিক তখনই একটু শীতল ছাঁয়ার আশায় এ বট বৃক্ষের নীচে জমা হতো।
এ বটবৃক্ষ সম্পর্কে ভবানীপুর গ্রামের অবসরপ্্রাপ্ত রেলওয়ে কর্মকর্তা মো: আব্দুল আজিজ জানান, আমার জন্মের পর থেকেই এ বটগাছটি দেখে আসছি । এই বটগাছের কত বয়স হবে তা আমরা সঠিক ভাবে বলতে পারবো না। বর্তমানে বটগাছের নিচে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার লোকজনের সমাগম ঘটে। এ বটগাছটি যেন সেই আদিম সনাতন সভ্যতার ইতিহাস ও ঐতিহ্যর সারকথা আজও সবার সামনে তুলে ধরে আছে। এদিকে অযতœ-অবহেলা, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও নানামুখী অত্যাচারের কারণে এই ঐতিহ্যবাহী বটগাছের অস্তিত্ব আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বট গাছটি দেখতে আসে লোকজন বছরের প্রায় প্রতিদিন। তাদের জন্য বিশ্রাম বা বসার জায়গাটুকুও এখানে নেই। তবে বিশ্বায়নের যুগে ডিজিটাল দেশ গঠনের পাশাপাশি ক্লান্ত কৃষাণের প্রাণ জুড়ানো সবুজ প্রকৃতির বটের ছায়ার কোন বিকল্প নেই। তাই ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রতিবছর বৃক্ষরোপন সপ্তাহ উদযাপন কালে আমাদের বটের চারা রোপন করা উচিত।
এ ব্যাপারে শাহাগোলা ইউনিয়ন দলিত মানবাধিকার কর্মী শ্রী দিনেশ কুমার পাল জানান, দাদার কাছে শুনেছি এ গাছের ডালপালা আগে কেউ কাটতো না। গাছটি শাখা প্রশাখার নিচে শত শত কৃষকেরা বিশ্রাম নেই এমন কি বর্তমানে বিভিন্ন এলাকার পর্যটকরা এসে থাকেন।  ঐতিহাসিক এ বট গাছটি সংরক্ষণ করা হলে দিন দিন পর্যটকদের আনাগোনা বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে এলাকার সচেতন মহল মনে করেন এই বট বৃক্ষটি সংরক্ষন এবং এই স্থানটিতে দর্শনার্থীদের বসার জন্য ব্যবস্থা করা হলে এখানে আরো লোকের সমাগম ঘটবে এবং ভবিষ্যতে এই বটবৃক্ষ এলাকা পর্যটন কেন্দ্রে পরিনত হবে। এলাকাবাসীর দাবী এই ঐহিত্যবাহি বটগাছটি রক্ষায় যেন প্রশাসনের সু-দৃষ্টি পড়ে এবং তারা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করেন।





« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি