আজ সোমবার, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ
ই-পেপার ভিডিও ছবি বিজ্ঞাপন লাইভ টিভি লাইভ রেডিও সকল পত্রিকা যোগাযোগ
শিরোনাম : চলে গেলেন রংপুরের সাবেক মেয়র ঝন্টু       খালেদার জামিনের আদেশ নথি আসার পর       জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হেদায়েত উল্লাহ       কোটা পদ্ধতির সংস্কার দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা       নবীগঞ্জে অজ্ঞাত কিশোরীর লাশ উদ্ধার       মণিরামপুরে ৪ দিন ধরে শিশু শ্রমিক নিখোঁজ       দুই সিটির উপ-নির্বাচন স্থগিত, রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ      
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর
ঢাল-তলোয়ারহীন নিধিরাম সর্দার!
Published : Wednesday, 14 February, 2018 at 8:45 PM, Count : 40
ফজলুর রহমান : মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর মাদক নির্মূলে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। এই অধিদফতরকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে বাঘের মতো। তবে সেই বাঘটি হচ্ছে নখ দন্তহীন। তাই দেশজুড়েই মাদকদ্রব্যের অবাধ ছড়াছড়ি সত্ত্বেও কাজের কোন মিল পাওয়া যাচ্ছে না।  কাঁটাতারের ফাঁক গলিয়ে জীবন বিধ্বংসী গাঁজা, মদ, ইয়াবা ও ফেন্সিডিল প্রতিনিয়ত বাংলাদেশে ঢুকছে। এমনকি দেশেও তৈরি করা হচ্ছে ইয়াবা। যার আগে-পিছে রয়েছে কিছু শক্তিশালী চোরাকারবারী চক্র।
মাদকের ভয়াল থাবায় নিষ্পেষিত হচ্ছে নতুন প্রজন্ম। কিন্তু অপ্রতুল জনবল, নিরস্ত্র ও যানবাহনসহ নানা সমস্যায় জঞ্জরিত এই বাহিনীর এসব নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বাড়ছে না।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের (ডিএনসি) তথ্য মতে, ৬৪টি জেলাই ডিএনসি’র অফিস রয়েছে। ৬টি গোয়েন্দা অফিস ও ১০০টি সার্কেলে ভাগ হয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। ৮টি বিভাগের মধ্যে ময়মনসিংহ ও রংপুর অফিসের কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। ডিএনসি’র অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী সারা দেশে জনবল রয়েছে এক হাজার ৭০৬ জন। এর মধ্যে এক হাজার ১৯১ জন সক্রিয়। বাকি ৫১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ খালি রয়েছে। খালি পদগুলো সিপাই, এসআই, এডি, মাদক নিরাময় কেন্দ্রের জন্য ডাক্তার ও নার্স এর। এই অধিদফতরের ঢাকায় অফিস মাত্র ২টি। দুই অফিসে জনবলের সংখ্যা মাত্র ৯৩ জন। তাও কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে। সারা দেশে যানবাহন রয়েছে মাত্র ৫১টি। এর মধ্যে ৩৯টি জিপ,  ৭টি কার, একটি এ্যা¤ু^লেন্স, দুইটি মাইক্রোবাস ও একটি মোটরসাইকেল। এর মধ্যে ৬টি জিপ-ই নষ্ট। আর ঢাকা মেট্রোপলিটনে গাড়ির সংখ্যা মাত্র তিনটি। এর মধ্যে একটি ব্যবহার করা হয় প্রশাসনিক কাজে।    
মাদকবিরোধী অভিযানের বাইরেও সরকারি চারটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র, কেন্দ্রীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগার, ওষুধসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মাদকের ব্যবহার পরীক্ষা-নিরীক্ষা, পরিদর্শন, অনুমোদন এবং জনসচেতনতামূলক কর্মকাে  এ অধিদফতরকে কাজ করতে হয়। এসব ক্ষেত্রেও জনবল সংকটের কারণে কর্মকাে  মন্থর গতি বিরাজ করছে।
নিরস্ত্র বাহিনী : এ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের কোন অস্ত্র না থাকায় সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জীবনে ঝুঁকি নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন। কিন্তু অন্য বাহিনীর মতো তাদের ঝুঁকিভাতা বা রেশন সুবিধাও নেই। এ কারণে এক ধরনের হতাশা ও কর্মকাে  অনীহাও দেখা দিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমনের লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স দেয়ার বিষয়ে ২০১১ সালের ২৮ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুরোধপত্র পাঠায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। এরপর ২০১২ সালের ৪ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অস্ত্র সংগ্রহ এবং ব্যবহারের একটি নীতিমালা চায়। সে নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। গত বছর ২১ নভেম্বর জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ইন্সপেক্টর ও ফিল্ড লেভেলের অফিসারদের অস্ত্র দেয়ার পরিকল্পনা সরকারের আছে। এ ব্যাপারে শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু তার প্রতিফলন আদৌ দেখা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ভোরের ডাককে বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ফিল্ড অফিসারদের অস্ত্র দেয়ার সিদ্ধান্তটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তাদের জনবল ও যানবাহনও বৃদ্ধি করা হবে। এসব বিষয়ে গতকালও মন্ত্রণালয়ে একটি সমন্বয় সভা হয়েছে। আগামী ২৭ তারিখে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হবে। তারপর আইন সংশোধন করে ডিএনসি কর্মকর্তাদের অস্ত্র দেয়া হবে।  
ডিএনসি’র কর্মকর্তারা বলছেন, কোথাও অভিযান চালাতে গেলে পুলিশের সহযোগিতা নিতে হয়। সে প্রক্রিয়া শেষ করে অভিযান চালাতে গিয়ে দেখা যায়, বেশিরভাগ চোরাচালানই আটক করা সম্ভব হয় না। কারণ পুলিশি সহায়তার সে প্রক্রিয়ায় যে সময় ব্যয় হয়, তার মধ্যেই মাদক কারবারিরা তাদের মিশন সম্পন্ন করে ফেলে। নিরস্ত্র এই বাহিনীর কর্মকর্তারা অস্ত্রধারী মাদকসেবী কিংবা মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে ইতোপূর্বে হামলার শিকারও হয়েছেন।
জমেছে মামলার স্তূপ: গত বছর প্রতিষ্ঠানটি মোট ১১ হাজার ৬১২টি মামলা করেছে। এতে আসামি করা হয়েছে ১২ হাজার ৬৫১ জনকে। এসব মামলার মাত্র দুই হাজার ৫৪৪টির বিচার নিষ্পত্তি হয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত বছর এক হাজার ১৬ জনের সাজা হয়েছে, খালাস পেয়েছে এক হাজার ৫২৮ জন। অর্থাৎ ৪০ শতাংশ মামলা নিষ্পন্ন হয়েছে। শুধু ২০১১ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত পেন্ডিং মামলার সংখ্যা ৪৮ হাজার ৬৮০টি। প্রতিমাসে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর গড়ে ৯৬০ থেকে ১০০০টি মামলা করে থাকে। এর মধ্যে নিষ্পত্তির সংখ্যা হাতে গোনা কয়েকটি। কর্মকর্তার বলছেন, প্রয়োজনীয় লোকবল, তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ ও যথাসময়ে চার্জশীট দিতে না পারায় অধিকাংশ মামলার কার্যক্রম চলছে না। 
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন আহমেদ ভোরের ডাককে বলেন, জনবল ও যানবাহন সংকটের কারণে ডিএনসি’র কর্মকর্তাদের অভিযান চালাতে বেগ পেতে হয়। আমরা আট হাজার ৫০৫ জনবল চেয়েছি। আরো ৫০টি যানবাহন চাওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইতিমধ্যে এসব প্রস্তাব করা হয়েছে। বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন রয়েছে। ডিজি জানান, ডিএনসিতে নতুন করে ২৪৪ জন জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষকের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেয়ার লক্ষ্যে ৩০০ ফিট এলাকায় একটি ভবন নির্মাণ হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন ডিজি।  
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আজই মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর থেকে নড়েচড়ে বসেছে ডিএনসি এমনকি র‌্যাব-পুলিশও। সারা দেশে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েক শ’ মাদক ব্যবসায়ী আটক করা হয়েছে। গত সোমবারও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করে জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে। এ ছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনাও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রাণ ও মেধা বিধ্বংসী মাদক নিয়ে গ্রামঞ্চল থেকে শুরু করে নগরীর অলিগলির বাসিন্দা ও শ্রেণি-পেশার মানুষ আতঙ্কে। সর্বশেষ সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত দেয়ার পরও মাদক নিয়ন্ত্রণে বিশেষায়িত এই প্রতিষ্ঠান কি ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে থাকবে? এই প্রশ্নে জনমনে।






« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


কাগজে যেমন ওয়েবেও তেমন
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সোস্যাল নেটওয়ার্ক
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
মেসার্স পিউকি প্রিন্টার্স, নব সৃষ্ট প্লট নং ২০, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং ৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত।
বার্তা বিভাগ : ৯৫৬৩৭৮৮, পিএবিএক্স-৯৫৫৩৬৮০, ৭১১৫৬৫৭, ফ্যাক্স : ৯৫১৩৭০৮ বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন ঃ ৯৫৬৩১৫৭
ই-মেইল : bhorerdk@bangla.net, adbhorerdak@gmail.com,  Developed & Maintenance by i2soft
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি